নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের গণবিজ্ঞপ্তি

আগের সংবাদ

অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার : অভিযানে বন্ধ অনেক প্রতিষ্ঠান

পরের সংবাদ

স্মরণে আবদুল করিম : শিল্পকলায় ভাসল ‘মহাজনের নাও’

প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২৮, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের জীবন, সংগীত ও দর্শন নিয়ে নাটক ‘মহাজনের নাও’। গান আর কথামালার সমাহারে ভরপুর নাটকটি লিখেছেন বিশিষ্ট লেখক শাকুর মজিদ। প্রযোজনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী। করোনার কারণে দীর্ঘ ছাব্বিশ মাস বিরতির পর সুবচনের এই জনপ্রিয় প্রযোজনাটি গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে ১২৯তম প্রদর্শনী পূর্ণ করল।
ব্রিটিশ শাসনকালে জন্ম নেয়া শিল্পী শাহ আবদুল করিমের গানে প্রতিনিয়ত উঠে এসেছে শ্রেণিসংগ্রামের কথা; সাধারণ মানুষের দৈন্যতার কথা। তার জীবন ও দর্শননির্ভর এই নাটকে দেখা যায় বাউল সম্প্রদায়ের একটা অংশ গান রচনা করে দেহতত্ত্ব নিয়ে। নিজেকে জানার, নিজেকে আবিষ্কার করার এবং সৃষ্টিকর্তাকে খোঁজার চেষ্টায় তারা জীবনভর সাধনা করেন। এ সাধনার অংশ হিসেবে তারা কেউ কেউ গান রচনা করেন এবং নিজেও গান। বাউল সাধক শাহ আবদুল করিমের সারা জীবনের সাধনা ছিল নিজেকে জানা এবং সৃষ্টিকর্তার রহস্য উদ্ঘাটন করা। এক্ষেত্রে দেহতত্ত্বকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি অনেক গান লিখেছেন এবং যেহেতু শাহ আবদুল করিম সুনামগঞ্জের ভাটি অঞ্চলের মানুষ ছিলেন, তার গানে তিনি নৌকাকে অনেক বেশি ব্যবহার করেছিলেন; নিজের দেহের রূপক হিসেবে। তিনি নিজেকে ভেবেছিলেন যেন কোনো এক মহাজনের কাছ থেকে ধার পাওয়া এক নৌকা। যে নৌকার মালিক তিনি নন, শুধু সঠিকভাবে চালিয়ে কোনো এক ‘সোনারগাঁয়ে’ পৌঁছানোর গুরুদায়িত্ব তার। জীবনের সায়াহ্নে এসে তার নাও কোন গাঁয়ে ভিড়েছে- তা শুধু তার মহাজন জানেন। মূলত শাহ আবদুল করিমের জীবনের জটিলতা, সংকট এবং তার থেকে উত্তরণের বিষয়গুলো এ নাটকে প্রকাশ পেয়েছে। তার সঙ্গে উঠে এসেছে জীবন ও জগৎ সম্পর্কে তার বোধ এবং দর্শন।
পুরো নাটকেই গানের মানুষটির জীবন ও জীবনদর্শন প্রকাশিত হয়েছে গীতল ভাষায়। পুঁথির ঢঙে পয়ার ছন্দ ব্যবহার করে নাটকটি নিবেদন করেছেন কথাশিল্পী শাকুর মজিদ। যেখানে করিমের জীবনের নানা জটিলতা, সংকট এবং তার থেকে উত্তরণের বিষয়গুলো প্রকাশ পেয়েছে।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন আহাম্মেদ গিয়াস, আনছার আলী, আসাদুল ইসলাম, শাহ সালাউদ্দিন, সোনিয়া হাসান, রুপা নাসরিন, লিঠু মণ্ডল, তানভীর আহাম্মেদ, ফজলুল হক, সোহেল খান, ইমতিয়াজ শাওন, হোসেন ইমরান, আল আমিনসহ অনেকে।
উল্লেখ্য সুবচনের জনপ্রিয় এই নাটক ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় জাতীয় নাট্য উৎসব ও দেশের বাইরে দক্ষিণ কোরিয়া, লন্ডন, ভুটান, আসাম, ত্রিপুরা, বহরমপুর, জলপাইগুড়ি ও কলকাতার বিভিন্ন স্থানে আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসবসহ অষ্টম থিয়েটার অলিম্পিকে ওডিশা ও দিল্লির এনএসডিতে নাটকটির প্রদর্শিত হয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়