নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের গণবিজ্ঞপ্তি

আগের সংবাদ

অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার : অভিযানে বন্ধ অনেক প্রতিষ্ঠান

পরের সংবাদ

টাঙ্গাইলে মা ও নবজাতকের মৃত্যু : অবৈধ ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়ন্ত্রণ করুন

প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২৮, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে রোগীর মৃত্যুর খবর আমরা প্রায়ই গণমাধ্যমে দেখছি। অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকগুলো নিয়ন্ত্রণে যেন কেউ নেই। গত বুধবার রাতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে একটি বেসরকারি অনুমোদনহীন হাসপাতাল মা ও নবজাতক মারা যায়। দালালের খপ্পরে পড়ে ভুল অস্ত্রোপচারের সময় মা ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশজুড়ে বেসরকারি অনুমোদনহীন হাসপাতালগুলোতে এমন উদাহরণ অসংখ্য। বিনা চিকিৎসা বা ভুল চিকিৎসায় এসব হাসপাতালে রোগী মৃত্যু যেন স্বাভাবিক বিষয়। আর উচ্চহারে বিল আদায়ের ঘটনা তো রয়েছেই। টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পরপর মা ও নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যেন টনক নড়ছে। ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিনের মধ্যে দেশের সব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই সময়ের পর নিবন্ধনহীন কোনো ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু থাকলে আইনগত ব্যবস্থ নেয়া হবে। গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরাবরই বলে এসেছে ভুয়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান অব্যাহত থাকবে ও ব্যবস্থা নেয়া হবে ঘোষণা দেয়। কিন্তু জনবল সংকটের দোহাই দিয়ে কার্যকর কিছু দেখা যায়নি। দেশে ১৩ হাজার ৬৮০টি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লাইসেন্স আছে ৬ হাজার ১০২টির। এর মধ্যে হাসপাতাল ২ হাজার ১৪৮টি, প্যাথলজি ল্যাব ৩ হাজার ৮৭২টি ও ব্লাড ব্যাংক ৮২টি। লাইসেন্সের জন্য আবেদন এবং পরিদর্শনের অপেক্ষায় আছে আরো কয়েক হাজার প্রতিষ্ঠান। উদ্বেগের বিষয়, লাইসেন্স ও ভ্যালিড কাগজপত্র নেই, অন্যদিকে তারা যে ভালো সেবা দিচ্ছে তাও নয়। অনেক ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকে নেই ন্যূনতম ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ান। চিকিৎসা না দিয়ে যেনতেনভাবে মানুষের গলা কেটে ব্যবসা করাই যেন তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতি ঘটেছে। উন্নত বিশ্বের অনেক উদ্ভাবনের সুফল ভোগ করছে বাংলাদেশের মানুষ। তবে অর্থনৈতিক কারণে এ সুবিধা সবার কাছে সমভাবে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। বিশেষভাবে অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য এ সমস্যা আরো তীব্র হয়, যখন চিকিৎসকরা অনেক ধরনের পরীক্ষার নিদান দেন। মেডিকেল টেস্টকে কমবেশি সব চিকিৎসক বাড়তি উপার্জনের হাতিয়ারে পরিণত করছেন, এমন অভিযোগ ক্রমশ বাড়ছে। চিকিৎসাসেবাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করতে সরকার প্রতি বছরই শত শত কোটি টাকা বাজেট বাড়াচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকার কথা থাকলেও দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং অনৈতিক কারসাজির সিন্ডিকেটেড বাণিজ্যের জন্য সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দেশের দরিদ্র মানুষ। এ ধরনের হয়রানি ও অনৈতিক বাণিজ্য বন্ধ করতে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়