কিশোরের মৃত্যু : আজমেরী গেøারির দুই চালক কারাগারে

আগের সংবাদ

সিনহা হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত : আদালতে রায় ঘোষণা

পরের সংবাদ

বাউফল পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্ব›দ্বীর বিরুদ্ধে ফতোয়া : ‘হিন্দুদের ভোট দেয়া হারাম’

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৩১, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

অতুল পাল, বাউফল (পটুয়াখালী) থেকে : দীর্ঘ ৯ বছর পর আজ সোমবার বাউফল পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীসহ তিন কাউন্সিলর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ায় ভোটের জৌলুস অনেকটাই ¤øান হয়ে গেছে। বাকি সাতটি সাধারণ ও দুটি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে মোট ২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। তাদের ভোট নিয়ে সরগরম রয়েছে বাউফল পৌর শহর। তবে ভোটের মাঠে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীরা একে অপরের প্রতি ধর্মীয় ফতোয়া দেয়ায় নতুন করে ভাবনায় ফেলেছে ভোটারদের।
সরজমিন ওয়ার্ডগুলো ঘুরে জানা গেছে, ইতোমধ্যেই নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা নিয়ে বাধা, প্রভাব বিস্তার এবং হামলাসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। শেষ সময়ে বাড়ছে উত্তেজনা। অপরদিকে সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীদের দাবি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তবে ১ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর শংকর পাল অভিযোগ করেছেন, প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী হারুন মল্লিক ও তার সমর্থকরা ‘হিন্দুদের ভোট দিলে বেহেস্ত হারাম হয়ে যাবে এবং যারা ভোট দেবেন তাদের নামাজ-রোজা হবে না’ বলে অপপ্রচার করছেন। শংকর বলেন, ভোটের মাঠ থেকে আমাকে উঠে যেতে হুমকি দেয়া হচ্ছে।
এছাড়া রাতের আঁধারে টাকা ছড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা হচ্ছে। জানা যায়, সচেতন ভোটাররা ফতোয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ভোটের মাঠে শংকর পাল এগিয়ে রয়েছেন বলে সিংহভাগ সাধারণ ভোটাররা অভিমত জানিয়েছেন।
৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আলোচনায় রয়েছেন তরুণ প্রার্থী সাংবাদিক মো. শিবলী সাদেক। তার প্রতিদ্ব›দ্বী রয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর নূরুল হক মাস্টার। এরই মধ্যে প্রচারে বাধা এবং সমর্থককে মারধর করে হেনস্তা করা ও হুমকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে নূরুল হক মাস্টারের বিরুদ্ধে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। ওই ওয়ার্ডের ভোটারদের ধারণা শিবলী সাদেক ও নূরুল হক মাস্টারের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্ব›িদ্বতা হবে। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আল মামুন আকন এবং সাবেক কাউন্সিলর হোসেন আলী বাবুল প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। ওই ওয়ার্ডে একটি উঠান বৈঠকে আল মামুন আকন হামলার শিকার হয়ে রক্তাক্ত হন। এছাড়া ২, ৪ এবং ৮নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির তিন প্রার্থী ইউনুস খান, হুমায়ন কবির ও সরোয়ার হোসেন টিটু। এর মধ্যে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে হুমায়ন কবীর ও রিয়াদ খানের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।
বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১ নম্বর ওয়ার্ডের শংকর পাল, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শিবলী সাদেক এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আল মামুন আকন সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে সব প্রার্থীই প্রশাসনের কাছে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠানের দাবি জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীদের থেকে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। সবগুলোই সমাধান করার চেষ্টা করেছি। সুষ্ঠু, অবাধ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়