ক্ষমা চেয়েছেন চীনা নাগরিক, টাকা চাননি সার্জেন্ট

আগের সংবাদ

জাতীয় পুরুষ বেসবল শুরু

পরের সংবাদ

বালাই নেই স্বাস্থ্যবিধির : শীত উপেক্ষা করে কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকের ঢল

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : বসন্তের আগমনে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের। কনকনে শীত উপেক্ষা করে সমুদ্রসৈকতে হাজারো পর্যটকের ঢল নেমেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই সমুদ্রসৈকতে বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার ও পরিবহনযোগে আগমন ঘটে এসব পর্যটকের। আগত পর্যটকরা সমুদ্রে সাঁতার কাটাসহ প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন। সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দেখার পাশাপাশি লাল কাঁকড়ার চর, সুন্দরবনের পূর্বাংশ ফাতরারবন, গঙ্গামতির লেক, আন্ধারমানিক নদীর মোহনা সর্বত্রই দেখা গেছে পর্যটকদের আনাগোনা। করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাবে প্রভাব পড়েনি সমুদ্রসৈকতে। আবাসিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্টসহ পর্যটনমুখী ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে ছিল পর্যটক শূন্যতার। তাদের এ আশঙ্কাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হাজার হাজার পর্যটকের আগমন ঘটে সাগরকন্যা কুয়াকাটায়। আবাসিক হোটেল-মোটেলগুলোর বেশির ভাগই বুকিং রয়েছে। তবে রুম সংকটে পড়তে হয়নি কোনো পর্যটককে। খাবার হোটেল, ঝিনুক মার্কেটসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্পটে অসংখ্য পর্যটকের আনাগোনা দেখা গেছে।
তবে আগত পর্যটকদের কাউকেই

স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। বেশির ভাগ পর্যটকই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। মানছেন না সামাজিক দূরত্ব। তবে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের সংক্রমণ ঠেকাতে সৈকতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে মাইকিং করা হলেও তা আমলে নিচ্ছেন না পর্যটকরা।
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে আগত বেশির ভাগ পর্যটক নানা অজুহাতে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। আবার কোনো কোনো পর্যটক বলছেন সমুদসৈকতে এসে উন্মুক্ত বাতাসে প্রাণভরে নিঃশ্ব^াস নিতে পারছি। মাস্ক পরে সৈকতে ঘুরলে নির্মল বাতাস থেকে বঞ্চিত হব। এজন্য মাস্ক পরছি না। অন্যদিকে কোনো কোনো পর্যটক বলছেন সমুদ্রের এই নির্মল বাতাসে করোনা কোনো প্রকার প্রভাব ফেলতে পারে না।
আবাসিক হোটেল সৈকতের মালিক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুদিনই তার হোটেলের সব কক্ষই বুকিং হয়ে গেছে। তিনি বলেন, তাদের আশঙ্কা ছিল করোনা মহামারির বিধি-নিষেধের মধ্যে পর্যটক খুবই কম আসবেন। কিন্ত এ ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে কনকনে শীতের মধ্যেও প্রচুরসংখ্যক পর্যটক এসেছেন। তবে আগত পর্যটকদের বেশির ভাই স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে সচেতন নন।
পর্যটন হলিডে হোমসের ব্যবস্থাপক সাকের হোসেন বলেন, করোনা মহামারিতে সরকারি নির্দেশনা মেনে গত ১৩ জানুয়ারি থেকে পর্যটক রাখছেন তারা। করোনা সনদ ছাড়া কোনো পর্যটককেই রুম বুকিং দিচ্ছেন তারা।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল খালেক জানান, করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সমুদ্রেসৈকতে প্রবেশের জন্য প্রতিনিয়ত মাইকিং করে পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। মাস্ক ছাড়া সৈকতে নামতে নিষেধ করলেও বেশির ভাগ পর্যটকই স্বাস্থ্য সচেতন নন। তবে তারা সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়