অধ্যাপক সাইদা হত্যা : গ্রেপ্তার আনারুলের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

আগের সংবাদ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপ : নির্বাচন কমিশন গঠনে ৪ প্রস্তাব

পরের সংবাদ

৩শ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা : নওগাঁয় বেড়েছে সরিষার আবাদ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

মো. আবু বকর সিদ্দিক, নওগাঁ থেকে : সরিষা ফুলে হলুদ বরণে সেজেছে নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলার ফসলের মাঠ। যতদূর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ রঙে মাখামাখি। শীতের শিশির ভেজা সকালে সরিষার সবুজ গাছের হলুদ ফুলে সোনাঝরা রোদে ঝিকিমিক করছে। এ এক অপরূপ সৌন্দর্যে প্রকৃতিতে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সরিষা ফুলের হলুদ রঙের চোখ ধাঁধালো বর্ণিল সমারোহ। আর মৌমাছির গুনগুন শব্দে সরিষা ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌমাছির দল। গত বছরের তুলনায় এ বছর ২ হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে। এ বছর জেলা থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার সরিষা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার ১১টি উপজেলায় ৩২ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে ৩৪ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক নওগাঁ সদর উপজেলায় ১ হাজার ৮২৫, রানীনগরে ২ হাজার ৮০৫, আত্রাইয়ে ১ হাজার ৭৩০, বদলগাছীতে ৯৩৫, মহাদেবপুরে ১ হাজার ৫০৫, পতœীতলায় ৫ হাজার ৩০, ধামইরহাটে ১ হাজার ৯৬০, সাপাহারে ৩ হাজার ৭৫০, পোরশায় ৩ হাজার ৬৭০, মান্দায় ৪ হাজার ৪১০ এবং নিয়ামতপুরে ৪ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমি। জেলার ৫ হাজার কৃষকের মাঝে প্রত্যেককে এক কেজি উন্নত জাতের সরিষা বীজ, ২০ কেজি ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) ও ১০ কেজি এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। জেলার উপজেলার মাঠে এখন সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ। কৃষি বিভাগ থেকে প্রণোদনা ও সরিষা তেলের দাম বেশি হওয়ায় চলতি বছরে কৃষকদের মাঝে সরিষা চাষে আগ্রহ বেড়েছে। নতুন সরিষা ২ হাজার ২০০ টাকা মণ এবং একটু শুকনা সরিষা ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
মান্দা উপজেলার ফতেপুর গ্রামের কৃষক আশরাফ আলী বলেন, বারি-১৪ ও ১৫ জাতের সরিষা পাকতে একটু বেশি সময় লাগে এবং ফলনও বেশি হয়। এ কারণে আগাম বোরো রোপণ করতে দেশীয় জাতের (টরি) সরিষা লাগানো হয়। আগাম সরিষার দামও ভালো পাওয়া যায়। বর্তমানে ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় আবাদ করতে বিঘাপ্রতি ৩০০-৫০০ টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। কালীসফা গ্রামের কৃষক সমসের আলী বলেন, বাজারে সরিষা তেলের দাম বেশি। গত বছর দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা মণ বিক্রি করেছি। নতুন জাতের সরিষা উঠলে আশা করছি দাম বেশি পাব। দাম বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এ বছর তিন বিঘাতে সরিষার আবাদ করেছি। যা গত বছর ছিল ১০ কাঠা।
উপজেলার ভারশোঁ গ্রামের সরিষা চাষি আব্দুল খালেক বলেন, সরিষার জমি প্রস্তুত করতে বিঘাপ্রতি প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হয়। এক বিঘা জমি থেকে ৬ মণ সরিষা পেয়েছেন। নতুন সরিষা হাটে তুলে ২ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। ওই জমিতে বোরো আবাদ করবেন। দুটি চাষ ও সামান্য পরিমাণ সার দিয়ে চারা রোপণ করবেন। সরিষা বিক্রির টাকা দিয়ে বোরোর আবাদ করবেন বলে জানান তিনি।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শামসুল ওয়াদুদ বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জমিতে জোর এসেছে। এ কারণে সরিষার ভালো আবাদ হয়েছে, যা থেকে উৎপাদনের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের নিশ্চিত সম্ভাবনা রয়েছে। আগের যে কোনো সময় থেকে বাজারে সরিষার দামও বেশি। সরিষা চাষে কৃষকদের উদ্বৃদ্ধ করতে পাঁচ হাজার কৃষককে বীজ ও সার দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়