হাতিরঝিলের সড়ক বন্ধে রাজধানীতে তীব্র যানজট

আগের সংবাদ

বিশাল লক্ষ্যমাত্রার বাজেট প্রস্তুতি : সম্ভাব্য আকার ৬,৭৫,১৩৯ কোটি টাকা, আয় ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা

পরের সংবাদ

উই মিস ইউ লিডার

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

একটি বিজ্ঞাপনে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে হ্যাস-ট্যাগ সংবলিত শিরোনামটি দেখে আবেগাপ্লুত হয়েছিলাম। তাহলে কি এ দেশ তাঁকে নিয়ে ভাবে! খেদোক্তিটি করলাম, ১৫ আগস্টের প্রতিবিল্পবের কথা মনে পড়ায়। আজ থেকে ৫০ বছর আগে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু বিজয়ীর বেশে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। তারপর মাত্র ১ হাজার ২২১ দিন পর তাঁকে প্রাণ হারাতে হলো কিছু লোভী কুলাঙ্গারের হাতে। ঘটনাটা এতই মর্মান্তিক যে, যত সহজে এখন বলা যাচ্ছে, অনুভবের ক্ষেত্রে তত সহজে মানা যায় না। বঙ্গবন্ধু ফিরে আসার মুহূর্তে, আমরা ভুলে গিয়েছিলাম জুলিয়াস সিজারের যেমন ব্রুটাস ছিল, সিরাজের যেমন মীরজাফর, জগৎ শেঠ, রায় দুলর্ভ ছিল, তেমনি বঙ্গবন্ধুরও মোশতাক-জিয়া আছে। ইতিহাস যেমন নায়ক-মহানায়ক তৈরি করে, তেমনি খল-নায়ক, বিশ্বাসঘাতক, ষড়যন্ত্রকারীও তৈরি করে। তবে ১৫ আগস্টের সেই প্রতিবিল্পব আর প্রতিবিল্পবীদের কথা ব্যক্ত করা এ লেখার উদ্দেশ্য নয়। ফিরে তাকাতে চাই, ৫০ বছর আগে প্রিয় নেতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর তাঁর স্বপ্ন আর প্রত্যয়ের দিকে। অর্জন আর উদ্যোগের দিকে। তিনি বেঁচে থাকলে কিংবা স্বাভাবিক মৃত্যু হলে আজ কেমন হতো এই বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বেরিয়ে এসে যে আধুনিক সমৃদ্ধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, তা আজ পর্যন্ত হয়নি। তাই প্রতিক্ষণে তাঁকে মনে পড়ে। অতৃপ্ত মন তখন তাঁকে খুব মিস করে। তাঁর অনুপস্থিতির কথা বারবার ভাবায়।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর মাত্র ১ হাজার ২২১ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দায়িত্ব পালনকারী সময়ে মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত পোড়া মাটির এই দেশটিকে সোনার বাংলা গড়ার শুধু প্রত্যয় ব্যক্ত করেননি, এক মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু ২৫ জানুয়ারি পার্লামেন্টে এবং ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভার ভাষণে তাঁর সেই মহাপরিকল্পনার রূপরেখা বর্ণনা করেন। তাঁর এই কর্মসূচিতে চারটি ছিল দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়িত হবে, চারটি ছিল দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি। দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়িত কর্মসূচি চারটি হলো : ১. দুর্নীতিবাজ খতম কর, ২. কলে কারখানায়, ক্ষেতে, খামারে উৎপাদন বৃদ্ধি কর, ৩. জনসংখ্যা বৃদ্ধি প্রতিরোধ কর এবং ৪. জাতীয় ঐক্য গড়ে তোল। দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি চারটি হলো : ১. বাংলাদেশের পঁয়ষট্টি হাজার গ্রামে বাধ্যতামূলক বহুমুখী সমবায় গড়ে তোলা, ২. ঘুণে ধরা ঔপনিবেশিক প্রশাসন ব্যবস্থা বিচূর্ণ করে মহকুমাভিত্তিক নবনির্মিত জেলায় জেলায় গণতান্ত্রিক প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ৩. বিচার ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে জনগণের নির্বাচিত বিচারকমণ্ডলী গঠন করে দেশের সর্বত্র গণতান্ত্রিক বিচার ব্যবস্থা প্রচলন করা, ৪. স্বাধীনতার শত্রæদের স্বাধীনতাবিরোধী চক্রান্ত প্রতিরোধ করে জাতীয় স্বাধীনতা সংহত করা। বরেণ্য সাংবাদিক আবু জাফর শামসুদ্দীন লিখেছেন, ‘এশিয়ার অকম্যুনিস্ট রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই প্রথম ব্যক্তি যিনি চিরাচরিত প্রথা এবং ঔপনিবেশিক আমলের পদ্ধতি বর্জন করে বাংলাদেশে একটি নতুন পদ্ধতির প্রশাসনিক কাঠামো প্রবর্তন করতে চেয়েছিলেন।… একজন অকম্যুনিস্ট রাজনৈতিক নেতার পক্ষে চিন্তার এরূপ মৌলিকত্ব প্রদর্শন অপ্রত্যাশিত এবং অভূতপূর্ব ব্যাপার।’ এই অপ্রত্যাশিত এবং অভূতপূর্ব ব্যাপারটি বাংলাদেশের ৫০ বছরের ইতিহাসে অনালোচিত রয়ে গেল। সে বেদনা থেকেও তাঁকে মনে পড়ে বারবার।
প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজনীয়তা এবং ধারণার আলোকপাত প্রথম করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি পাকিস্তান আমলের মহকুমা ব্যবস্থার পরিবর্তন করে মহকুমারগুলোকে জেলায় রূপান্তর করেন। ৬১ জেলা প্রতিষ্ঠা করে ৬১ জন গভর্নর নিয়োগ করেন। গভর্নর ব্যবস্থা ছিল প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের প্রথম পদক্ষেপ। গভর্নর একটি প্রশাসনিক কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এই কাউন্সিলে সর্বস্তরের মানুষের প্রতিনিধিকে রাখা হয়। যেমন রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্র প্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধি, নারী প্রতিনিধি, কৃষক প্রতিনিধি, শ্রমিক প্রতিনিধি, ম্যাজিস্টেট, পুলিশ এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিনিধি থাকবেন। প্রথমবার নিয়োগ দেয়া হলেও পরবর্তী সময়ে তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন।
এই নিয়োগকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধু সংসদ সদস্য, আমলা, আইনজীবী, আদিবাসী এবং সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি রেখেছিলেন। তিনি এদের জাতীয় পর্যায়ে শুধু আইনপ্রণেতার কাজে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসন পরিচালনায় নিয়োজিত করতে চেয়েছিলেন। এর মাধ্যমে প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের সুফল পাওয়ার পথ সুগম হতো। গণতান্ত্রিকতা, সর্বজনীনতার সংস্কৃতি বিকশিত হবে। এটা অবশ্যই বঙ্গবন্ধুর আধুনিক রাষ্ট্রভাবনার নিদর্শন। কিন্তু পরবর্তীকালের কোনো সরকার এই যুগান্তকারী ভাবনাকে গ্রহণ করে উপনিবেশিক ধ্যান-ধারণার ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি। শেখ হাসিনা সরকারের উপজেলা প্রশাসন সে পথে হাঁটলেও তা বঙ্গবন্ধুর আধুনিক রাষ্ট্রভাবনার সমতুল্য নয়। তাই প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের কথা উঠলে স্মরণে আসে জাতির জনকের কথা।
বাঙালি সংস্কৃতির চর্চা ও লালন-পালনের জন্য বঙ্গবন্ধু শিল্পকলা একাডেমি, চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন। বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য সোনারগাঁও লোক শিল্প জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করতে শিল্পী জয়নুল আবেদীনকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রদান করেন। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন, এসব প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয়ভাবে বাঙালির মননশীলতা চর্চার পথ সুগম করবে। পাশাপাশি বাঙালি সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করতে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু জাতির জনক হত্যার পর প্রায় তিন দশক কাল বাঙালি সংস্কৃতিবিরোধী শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকায় উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেনি। ফলে যে মাত্রায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সংস্কৃতির বিকাশ হওয়ার কথা, তা হয়নি। তাই আজকের প্রজন্মকে বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতির উত্তরাধিকার হিসেবে নির্দ্বিধায় চিহ্নিত করা যায় না। বেদনাহত করে। জাতির জনককে মিস করি এক্ষেত্রেও, প্রয়োজনও অনুভব করি।
ইসলামী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির সামনে মহানবীর বিদায় হজের দিক-নির্দেশনাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা তাঁর অবর্তমানে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত প্রায় তিন দশক কাল সময়ের সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী সরকারগুলো প্রতিষ্ঠানটিকে মৌলবাদীদের আখড়ায় পরিণত করে।
অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার বিকাশে এ প্রতিষ্ঠান কোনো ভূমিকায় পালন করেনি। আমাদের পবিত্র সংবিধান পর্যন্ত কলঙ্কিত করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িকতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ওরা টোকাই কেন’ গ্রন্থে লিখেছেন, “অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদীপ্ত হয়ে বাংলার মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছে, মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনাকে মুছে ফেলার জন্য এবং ব্যক্তিস্বার্থ টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে ইসলামকেই রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে ঘোষণা করার এক অশুভ তৎপরতা শুরু হয়েছে।
আজকাল আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কত কথায় হচ্ছে। তখনো কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণে আনতে হয়। তিনি কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন করেছিলেন গণমুখী শিক্ষা চালু করার প্রত্যয়ে। একটা বাস্তবসম্মত আধুনিক বৈজ্ঞানিক, গণমুখী শিক্ষা নীতি প্রণয়ন করেছিল এই কমিশন। গত ৫০ বছরে সেই শিক্ষা নীতি কেউ বাতিল করেছে, অবহেলা করেছে, কেউ হালনাগাদ করেছেন; বাস্তবায়ন কেউ করেনি। ফলে গণমুখী শিক্ষা চালু আর হলো না। বঙ্গবন্ধু বারবার যে কৃষক-শ্রমিকের কথা বলতেন, তাদের জন্য কিছুই হলো না। বঙ্গবন্ধু দক্ষতা উন্নয়নের কথা ৫০ বছর আগে বলেছিলেন। ১৯৭৩ সালের ১৯ আগস্ট সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘একটু লেখাপড়া শিখ।… লেখাপড়া না শিখলে কোনো লাভ নেই।… শুধু বিএ, এমএ পাস করে কোনো লাভ নেই। আমি চাই কৃষি কলেজ, কৃষি স্কুল, ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল যাতে সত্যিকারের মানুষ পয়দা হয়। বুনিয়াদি শিক্ষা নিলে কাজ করে, খেয়ে বাঁচতে পারবে।… মানুষ হতে হবে।’ এমন একটি স্বপ্ন থেকে প্রধানমন্ত্রী দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিল গঠন করেছেন। এর নেতৃত্বে রয়েছেন তিনি নিজেই। দক্ষতা উন্নয়ন নীতি ২০১১ পাস করেছেন। কিন্তু তারপরও দক্ষতাবিষয়ক যেসব শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তার মধ্যে সমন্বয় নেই। একই কাজ সবাই করছে। দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিল, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর- কার কী কাজ বা দায়িত্ব তা নির্দিষ্ট করছে না। দেশি-বিদেশি অনেক প্রকল্প সহায়তা আছে, কিন্তু আমলাতান্ত্রিক সংঘাত দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে এগুতে দিচ্ছে না। ব্যবস্থাপনাগত অদক্ষতার কারণে জনগণের কাছে দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা এবং বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা পৌঁছাচ্ছে না। বিষয়টা বেদনাদায়ক। তাই জনককে মিস করা অহেতুক নয়।
ব্রিটিশ অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিক এন্ড বিসনেস রিসার্চ তাদের গবেষণা পত্র ওয়ার্ল্ড ইকোনমি টেবিল ২০২১-এ উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৫তম অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ দেশ হবে। বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের আকার অনেক বড় হয়েছে। কিন্তু সেই দৃঢ়ভিত্তি কতটুকু গণমুখী হয়েছে, তা ভাবতে গেলে জনকের কথা মনে পড়ে। বিগত ৫০ বছরের সব বাজেট পর্যালোচনা করলে বঙ্গবন্ধু সরকার ব্যতীত অন্যরা গরিব-মধ্যবিত্ত-কৃষক-শ্রমিকের কথা ভেবে বাজেট করেছে বলে মনে পড়ে না। বঙ্গবন্ধু কৃষকের কথা ভেবে কৃষিতে ভর্তুকি দিয়েছেন। শ্রমিকের কথা ভেবে কলকারখানা জাতীয়করণ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর জমির সিলিং নির্ধারণ, সমবায় প্রথা দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করত। এসব মৌলিক, আধুনিক অর্থনৈতিক এবং সমাজ ভাবনা আজ কল্পকাহিনীতে পরিণত হয়েছে। তাই জাতির জনককে খুব মিস করি। হয়তো তিনি থাকলে এসব বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুফল জাতির ঘরে ঘরে পৌঁছে যেত।
রাজনীতির ক্ষেত্রেও বলতে হবে বঙ্গবন্ধু একটা গুণগত পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন। তিনি রাজনীতির এই নতুন দিগন্তে কমরেড মণি সিংহ থেকে শুরু করে জেনারেল জিয়া সবাইকে জায়গা করে দিয়েছিলেন। যতই আজ সমালোচনা করুক না কেন আজকের মহাজোট কিংবা ঐক্যজোটের ধারণা বিশ্লেষণ করলে বঙ্গবন্ধুর সেই জাতীয় ঐক্যের সঙ্গে মিল পাওয়া যাবে। যদিও অনেকে তা স্বীকার করবেন না। দুর্ভাগ্যটা এখানেই ফুটে উঠে বেশি।
বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি ফিরে এসে রাজনীতি, সমাজনীতি, সংস্কৃতি, প্রশাসন, শিক্ষা এবং সর্বোপরি অর্থনীতির ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক গণমুখী সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামো প্রণয়ন করতে চেয়েছিলেন। আজকের দিনে এসব ক্ষেত্রে উন্নয়নের জয়যাত্রা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁরই প্রদর্শিত পথে হলে আরো বেশি সুফল পাওয়া যেত। এসব ক্ষেত্রে পদক্ষেপ গ্রহণে থমকে যেতে দেখলে বা হোঁচট খেতে দেখলে জনকের কথা মনে পড়ে। কোথাও কোথাও সফলতা দেখলেও তাঁর কথা মনে পড়ে। মনে হতে থাকে, জাতির জনক এমনটিই হয়তো দেখতে চেয়েছিলেন। দুঃখে-খুশিতে-আনন্দ-বেদনায় সবসময় সত্যি খুব মিস করি। উই মিস ইউ লিডার।
কুমার প্রীতীশ বল : লেখক ও নাট্যকার।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়