নৌপুলিশের অভিযান : ৩৫ লাখ মিটার জাল জব্দ

আগের সংবাদ

পঞ্চম দফায়ও সারাদেশে ব্যাপক সহিংসতা > ভোটে ঝরল আরো ১১ প্রাণ : পুলিশের গাড়িতে আগুন, আহত শতাধিক, আটক অর্ধশত

পরের সংবাদ

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন : আগুন নেভাতে উদ্যোগ নেয়নি লঞ্চের কর্মীরা > ৩ মালিককে আদালতে হাজির করার নির্দেশ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দিয়েছে তদন্ত কমিটি। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনুমতি না নিয়েই লঞ্চের মালিক ইঞ্জিন পরিবর্তন করেছে এবং ইঞ্জিনের ত্রæটির কারণেই লঞ্চে আগুন লেগেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ২৫টি সুপারিশও করা হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে গত সোমবার রাতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, আমাদের তদন্ত কমিটি এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ী তিন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে কমিটি। এর মধ্যে রয়েছে- সতর্কতামূলক বিষয়গুলোর ব্যাপারে আগে-ভাগে যাত্রীদের জানানো, চাইলেই যেন যন্ত্রাংশ পরিবর্তন না করা যায়। এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় নৌপরিবহন অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলায় লঞ্চটির তিন মালিককে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মালিকরা হলেন- মো. হামজালাল শেখ, মো. শামীম আহম্মেদ ও মো. রাসেল আহম্মেদ। গতকাল মঙ্গলবার নৌ আদালতের বিচারক স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জয়নাব বেগমের আদালতে তাদের ‘শ্যোন এরেস্ট’ (গ্রেপ্তার) দেখিয়ে কারাগার থেকে আদালতে আনতে আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষের নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রসিকিউটিং অফিসার বেল্লাল হোসাইন। আবেদনটি মঞ্জুর করে আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আগামী ১৯ জানুয়ারি আদালতে হাজির করতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দেন বিচারক।
গত ২৬ ডিসেম্বর একই আদালতে নৌ-অধিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক মো. শফিকুর রহমান স্পেশাল মেরিন আইনের ৫৬/৬৬ ও ৭০ ধারায় অভিযোগ এনে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আসামিরা হলেন- লঞ্চের মালিক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আল আরাফ এন্ড কোম্পানির চার মালিক হামজালাল শেখ, শামিম আহম্মেদ, রাসেল আহম্মেদ ও ফেরদৌস হাসান রাব্বি। এছাড়া লঞ্চের ইনচার্জ মাস্টার মো. রিয়াজ সিকদার, ইনচার্জ চালক মো. মাসুম বিল্লাহ, দ্বিতীয় মাস্টার মো. খলিলুর রহমান ও দ্বিতীয় চালক আবুল কালাম।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে আগুনের ঘটনায় হতাহতের জন্য লঞ্চটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়ী করা হয়েছে। ওই ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘটনার পেছনে সদরঘাটে দায়িত্বরত নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ

অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদেরও দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে ইঞ্জিনের ত্রæটির কারণে লঞ্চটিতে আগুন লেগেছে বলেও তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেয়েছে। বিশেষ করে লঞ্চের ইঞ্জিনে ত্রæটি দেখার পরেও লঞ্চের কর্মীরা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আগুন লাগার পরে আগুন নেভাতেও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা এড়াতে ২৫টি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রোটেশন পদ্ধতিতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ, লঞ্চ ছাড়ার আগে যথাযথভাবে পরিদর্শন, ঘন ঘন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, লঞ্চের কর্মীদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর ঢাকার সদরঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে বরগুনায় যাওয়ার সময় ঝালকাঠিতে রাত ৩টায় এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের ইঞ্জিন রুমে আগুন লাগে। এতে ৪৪ জন যাত্রী পুড়ে মারা যান। আগুনে দগ্ধ হন আরো ১৫০ জন যাত্রী। নৌযানটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, লাইফ বয়া, বালির বাক্স ও বালতি ছিল না। ইঞ্জিন রুমের বাইরে অননুমোদিতভাবে অনেকগুলো ডিজেলবোঝাই ড্রাম ও রান্নায় ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার ছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়