জামালদের বিদায় করে ফাইনালে শ্রীলঙ্কা

আগের সংবাদ

বাস মালিক-শ্রমিকরা বেপরোয়া : এখনো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় > গেটলক-সিটিং সার্ভিস বহাল > বিআরটিএর তৎপরতা লোক দেখানো

পরের সংবাদ

অযত্নে অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে মোগল আমলের স্থাপনা

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৮, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১৮, ২০২১ , ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী) থেকে : প্রায় সাড়ে ৩০০ বছরের পুরনো মসজিদটি স্থাপত্য রীতিতে মোগল ভাবধারার ছাপও সুস্পষ্ট। মোগল স্থাপত্য রীতিতে তৈরি নিদর্শনগুলোর অন্যতম বাঘার নারী মসজিদ। ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসেবে টিকে থাকা এ স্থাপনা জুড়ে এখন শুধুই অযতœ আর অবহেলার ছাপ। মসজিদটির দেয়ালের কিছু কিছু অংশের পলেস্তারা ধসে পড়েছে। মসজিদটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বাঘার নারী মসজিদটি ৩ গম্বুজবিশিষ্ট। উচ্চতা প্রায় ৩০ ফুট। দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ৩০ ফুট বর্গাকার। চারপাশের দেয়াল ৩ ফুট ৬ ইঞ্চি চওড়া। মসজিদের ইট ধূসর বর্ণের। এই ইটের দৈর্ঘ্য ১০ ইঞ্চি, প্রস্থ ৬ ইঞ্চি এবং চওড়া দেড় ইঞ্চি। বর্তমান যুগের ইটের চেয়ে এর আকৃতি একেবারেই আলাদা। দর্শনার্থী ও নামাজিদের ওঠানামার জন্য রয়েছে খিলান আকৃতির প্রবেশপথ। মসজিদের প্রবেশপথের মূল দরজার উপরে ফারসি ভাষায় পাথর খঁচিত শিলালিপি নিয়ে রয়েছে লোমহর্ষক ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোনো একসময়ে পাথর খঁচিত শিলালিপি চুরি হয়ে যায়। চুরির সঙ্গে জড়িত দুজন ব্যক্তি পঙ্গুত্ববরণের পর পাথর খঁচিত শিলালিপিটি রাতের আঁধারে মাজার এলাকায় রেখে যায় তারা। তাদের মৃত্যুর আগে সেই পাথর চুরির কথা স্বীকার করে তারা। বর্তমানে সেই পাথরটি আগের স্থানেই সংরক্ষণ করা হয়েছে।
রাজশাহী শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ কোণে বাঘা উপজেলা সদরে ইসলামী একাডেমি স্কুল, কারিগরি কৃষি কলেজের উত্তরে হযরত শাহ মোয়াজ্জেম ওরফে শাহদৌলা (রহ.)-এর ছেলে হযরত শাহ আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ (রহ.) মাজারসংলগ্ন এলাকায় এই মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদটি দেখতে বছরজুড়ে এখানে আসেন পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। তবে পর্যটকদের আকর্ষণ ধরে রাখা বা ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসেবে টিকে থাকা এই স্থাপনাটি সংরক্ষণে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।
সরজমিন পরিদর্শকালে রইশ পরিবারের সদস্য খোন্দকার মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, হযরত শাহ মোহম্মদ রফিক (রহ.) মৃত্যুর পর ওয়াক্ফ এস্টেটের মোতোয়াল্লি (ষষ্ঠ রইশ) সায়েদুুল ইসলামের আমলে পর্দানশীন মহিলাদের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদে যাতায়াতের রাস্তাটি বর্তমানে পাকা করা হলেও বিশুদ্ধ পানি, অজুখানা ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। এ কারণে নারী পর্যটকদের নানা সমস্যায় পড়তে হয় বলে জানান তিনি।
বাঘা ওয়াক্ফ এস্টেটের বর্তমান মোতোয়াল্লি (রইশ) খন্দকার মুনসুরুল ইসলাম জানান, ঐতিহাসিক নিদর্শনের তালিকাভুক্ত করে ১৯৯২ সালে মসজিদটি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের দায়িত্ব নিয়েছিল প্রতœতত্ত্ব বিভাগ। কিন্তু পরে তারা আর দায়িত্ব নেননি। তবে পুরনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে সংস্কারের কথা জানিয়েছেন মোতোয়াল্লি (রইশ) খন্দকার মুনসুরুল ইসলাম।
ঐতিহাসিক তথ্য মতে, প্রায় ৫০০ বছর আগে ৫ জন সঙ্গীসহ সুদূর বাগদাদ থেকে ইসলাম প্রচারের জন্য বাঘায় এসেছিলেন হযরত শাহ মোয়াজ্জেম ওরফে শাহদৌলা (র.)। বসবাস শুরু করেন, পদ্মা নদীর কাছে কসবে বাঘা নামক স্থানে। আধ্যাত্মিক শক্তির বলে এই এলাকার জনগণের মধ্যে ইসলাম প্রচারের ব্যাপক সাফল্য লাভ করেন। ওই সময়ে শাহ দৌলার অনেক অলৌকিক কীর্তি দেখে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা তার কাছে ইসলাম ধর্মে দীক্ষা নেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়