×

জাতীয়

মুজিবনগরে শপথ দিবসে শ্রদ্ধা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম

মুজিবনগরে শপথ দিবসে শ্রদ্ধা

ছবি : সংগৃহীত

মহান মুক্তিযুদ্ধের অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণ দিবস উপলক্ষে মেহেরপুরের মুজিবনগরে (বৈদ্যনাথতলা) শপথস্থল পরিদর্শন ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। এ সময় তারা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনাগুলোর পুনর্গঠনে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধি দল ঐতিহাসিক আম্রকাননে অবস্থিত শপথস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানায়। পরে তারা মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ এলাকা এবং আশপাশের মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও অবহেলিত স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে। এই ঘটনা মুক্তিযুদ্ধকে একটি সংগঠিত রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো দেয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করে।

ফলে দিনটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও লেখক আবু সাইদ খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি সর্বজনীন গণযুদ্ধ, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাই এটিকে কোনো ব্যক্তি বা দলের একক অর্জন হিসেবে দেখা ঠিক নয়। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ও স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা উদ্বেগজনক। এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, বৈদ্যনাথতলাতেই মুক্তিযুদ্ধকে একটি সংগঠিত রূপ দেওয়া হয়েছিল। অস্থায়ী সরকারের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন বাহিনীতে সংগঠিত করে পরবর্তীতে সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধ পরিচালনা করা হয়। তাই এই স্থানটি কেবল স্মৃতিচিহ্ন নয়, এটি স্বাধীনতার কৌশলগত ভিত্তির প্রতীক।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংসের চেষ্টা করছে। সরকারকে এসব বিষয়ে আরও কঠোর ভূমিকা নিতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, দেশে গণতন্ত্র বারবার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এখনো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত বা মুছে ফেলার চেষ্টা দেখা যায়। মুক্তিযুদ্ধকে যথাযথভাবে সম্মান না দিলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার ছিল, তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। রাষ্ট্র পরিচালনায় সেই আদর্শ অনুসরণ করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, মুজিবনগরে একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর স্থাপন করা হলে তা নতুন প্রজন্মের জন্য ইতিহাস জানার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠবে।

প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন বাসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, রফিক আহমেদ সিরাজীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ শুধু অতীতের প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দায়িত্বশীল ইতিহাসচর্চার অংশ। তাই এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

মীরসরাইয়ে সালিশে প্রতিপক্ষের হামলায় বৃদ্ধ নিহত

মীরসরাইয়ে সালিশে প্রতিপক্ষের হামলায় বৃদ্ধ নিহত

মার্কিন অবরোধের পর উপসাগর ছেড়েছে ইরানি ট্যাঙ্কার

মার্কিন অবরোধের পর উপসাগর ছেড়েছে ইরানি ট্যাঙ্কার

সিলেটে শনিবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধের নোটিশ

সিলেটে শনিবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধের নোটিশ

মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে স্বার্থবিরোধী: আনু মুহাম্মদ

মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে স্বার্থবিরোধী: আনু মুহাম্মদ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App