আগের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়া হবে: শিক্ষা উপদেষ্টা
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৪, ১২:৩০ পিএম
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ
নতুন শিক্ষাক্রম উপযোগী নয়। এক্ষেত্রে পরিমার্জন করে আগের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়া হবে। যেসব শিক্ষার্থী নতুন শিক্ষাক্রমে ঢুকে পড়েছে তাদের বিপাকে ফেলে এটি করা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। রবিবার (১৮ আগস্ট) দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম কর্মদিবসে এ কথা বলেন তিনি।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষাখাতের বেহাল অবস্থা চলছে। অনিয়ম দুর্নীতি আর দলীয়করণে অযোগ্যদের বাদ দেয়া হবে। যোগ্য ও শিক্ষানুরাগীদের দ্বারা শিক্ষা পরিবার সাজানো হবে। ৪০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন পদায়নের চেষ্টা করা হবে। স্কুল কলেজ বোর্ডে প্রচণ্ড দলীয়করণ করা হয়েছে। অশিক্ষিতরা ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হয়েছে, এদের সরিয়ে দিতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন দিয়ে নয়, অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে যদি মানবসম্পদের উন্নয়ন না হয়, তাহলে কোনো দেশ উন্নত হয় না। সেক্ষেত্রে অর্থনীতি ও শিক্ষার মধ্যে যোগসূত্র আনার চেষ্টা করব।
এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে বঙ্গভবনে নতুন উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ। তিনি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আনন্দ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ার জন্য ঢাকায় চলে আসেন। তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন।
অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ ১৯৪৮ সালের ১ জুলাই নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আলী আহমেদ চৌধুরী ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা এবং মা সালেহা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে বিএ (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ১৯৮৪ সালে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং ২০১১ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (ইউএন-সিডিপি) সদস্য এবং সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অব ইকোনমিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসএএনইআই) চেয়ারম্যান। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তিনি পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ১০ বছর এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ছিলেন।
