×

খুলনা

সেতু নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, এলাকাবাসীর প্রতিবাদ

Icon

সিরাজউদ্দৌলা লিংকন, কয়রা (খুলনা)

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম

সেতু নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, এলাকাবাসীর প্রতিবাদ

ছবি : ভোরের কাগজ

খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের শাকবাড়িয়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি আরসিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উপজেলা সদর থেকে হায়াতখালী জিসি হয়ে গিলাবাড়ি জিসি সড়কের ৪ হাজার ২৫৫ চেইনেজে নির্মাণাধীন ৩৬ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির কাজে নিম্নমানের পাথর, বালু ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সেতুর স্থায়িত্ব নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বুধবার (৩ জুন) সকালে নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা সেতুর কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একাধিকবার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে পুনরায় একই ধরনের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ‘উপজেলা সদর থেকে হায়াতখালী জিসি হয়ে গিলাবাড়ি জিসি সড়কের শাকবাড়িয়া নদীর ওপর ৩৬ মিটার আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের জন্য ২০২২ সালের ৩ আগস্ট ‘এসএ-জেডটি জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়। বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি প্রায় ৫৫ শতাংশ।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গফফার অভিযোগ করে বলেন,সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত কিছু পাথর খুবই নিম্নমানের। হাতের চাপেই ভেঙে যাচ্ছে। এ ধরনের সামগ্রী দিয়ে নির্মিত সেতুর স্থায়িত্ব নিয়ে আমাদের শঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

আরেক বাসিন্দা আব্দুল বলেন, ‘সেতুর নির্মাণস্থলে প্রকল্পের তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড নেই। স্থানীয়রা কাজের নকশা ও শিডিউল দেখতে চাইলে তা দেখানো হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। আমরা চাই কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা হোক।’

আসাদুল ইসলাম, মইনুল গাজি ও আহাদ আলীসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অতীতেও নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে কাজ বন্ধ করা হয়েছিল। পরে উন্নতমানের সামগ্রী ব্যবহারের আশ্বাস দেওয়া হলেও তাদের দাবি অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দেখা যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে  ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. সাইফুল ইসলামকে কাজের সাইডে পাওয়া যায়নি তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। 

তবে এ সকল অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন,সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত বালু ও পাথর নির্ধারিত মান অনুযায়ী ব্যবহার করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ের পরীক্ষাগারে নির্মাণসামগ্রী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগের পর পুনরায় নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার আগেই নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখার যৌক্তিকতা কী—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এদিকে সেতু নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের দাবি, জনস্বার্থে প্রকল্পটির নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি । খুলনা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের 

সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী এসএম সাকিব হাসান মিজান বলেন, কাজের মেয়াদ ৩০ জুন পযর্ন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। ৩০ জুলের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে কাজটি অন্য প্রকল্পের মধ্যে চলে যাবে। কাজের মানের বিষয়ে তিনি বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী দেয়া হলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

আবাসিকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার

আবাসিকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার

বাঞ্ছারামপুরে রাস্তা-খালে পড়ে আছে শত শত কোরবানির চামড়া, দুর্গন্ধে ভোগান্তি

বাঞ্ছারামপুরে রাস্তা-খালে পড়ে আছে শত শত কোরবানির চামড়া, দুর্গন্ধে ভোগান্তি

দুই পদেই দায়িত্ব পালন করবেন ড. খলিলুর রহমান

দুই পদেই দায়িত্ব পালন করবেন ড. খলিলুর রহমান

রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App