যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে চায় চীন: ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
চীনের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যে বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল ক্রয় বৃদ্ধি করতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে চীন। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও আলাস্কা থেকে বেইজিংয়ে তেল পাঠানো হবে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন ট্রাম্প।
বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে এই সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমার মনে হয়, একটা বিষয়ে আমরা সমঝোতায় পৌঁছাব, আর তা হলো তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনতে রাজি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, তাদের জ্বালানিবাহী জাহাজ টেক্সাসে যাবে। আমরা টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও আলাস্কা থেকে চীনের উদ্দেশে জ্বালানিবাহী জাহাজ পাঠানো শুরু করতে যাচ্ছি...এটা একটা বড় ব্যাপার।
সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে সামকির সরঞ্জাম সরবরাহ না করতেও চীন রাজি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, চীন ইরানের সঙ্গে আলোচনায় সাহায্য করতে ও তেহরানকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ না করতেও সম্মত হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ও টোলমুক্ত দেখতে চান।
ট্রাম্প বলেন, শক্তির জন্য তাদের এক অতৃপ্ত ক্ষুধা রয়েছে, আর আমাদের রয়েছে অফুরন্ত শক্তি। যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব ও রাশিয়ার সম্মিলিত উৎপাদনের চেয়েও বেশি তেল ও গ্যাস উৎপাদন করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের চেয়ে দ্বিগুণ তেল ও গ্যাস উত্তোলন করছি’।
মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র দৈনিক ২ কোটি ৩৬ লাখ ব্যারেল তেল ও অন্যান্য তরল জ্বালানি উৎপাদন করে, যেখানে সৌদি আরব উৎপাদন করে দৈনিক ১ কোটি ১২ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল এবং রাশিয়া দৈনিক ১ কোটি ৫ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল।
চীন এখন পর্যন্ত ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ ক্রয় করে বেইজিং। মার্কিন সরকার কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটি দৈনিক প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে।
এদিকে, চীনে মার্কিন অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম রপ্তানি টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা গত বছর আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ কমে ২৩৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ২০২৩ সাল থেকে ৯৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২০২৫ সালে প্রায় ৮ দশমিক ৪ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার (১৫ মে) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে দুই নেতা ‘একাধিক নতুন ঐকমত্যে’ পৌঁছেছেন। এর মধ্যে আগামী তিন বছর ও তার পরেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ‘গঠনমূলক ও কৌশলগত স্থিতিশীলতা’ গড়ে তোলার একটি চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দেশটির এক বিবৃতি অনুসারে, ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে বেইজিং যত দ্রুত সম্ভব নৌপথগুলো পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে যুদ্ধরত শক্তিগুলোকে ‘স্থায়ী যুদ্ধবিরতি’র লক্ষ্যে কাজ করতে, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে অনুরোধ করেছে। তবে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি তেল কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
