বিশ্লেষণ
বিশ্বশান্তির নতুন মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান?
বৈশ্বিক সংকটে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে
অর্নব নাসির
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
বিশ্বশান্তির নতুন মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান?
বিশ্ব রাজনীতির জটিল সমীকরণে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পাকিস্তান। দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দেশটি আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টি ইতিবাচক।
বিশ্বশান্তির নতুন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান গড়ে তুলতে পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। আবার নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থান নতুনভাবে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে বিনিয়োগ আকর্ষণেও সচেষ্ট ভূমিকা রাখছে। ইরান যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তেহরানের মধ্যে মধ্যে ইসলামাবাদে দুই দফা বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। আলোচনায় যুদ্ধপরিস্থিতি কিছুটা প্রশমিত হয়েছে এবং সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়েছে।
দেশটির এই মধ্যস্থতা মূলত তার ভঙ্গুর অর্থনীতিকে রক্ষা করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা। পাকিস্তান একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা অংশীদার এবং ইরানের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। এই দ্বিমুখী সম্পর্কই তাকে বর্তমান ‘অসম্ভব’ সংলাপটি আয়োজনে সহায়তা করেছে।
পাকিস্তান অতীতেও বড় সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রেখেছে। যেমন—১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জারের গোপনে বেইজিং সফরের ব্যবস্থা করে মার্কিন-চীন সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ‘মধ্যস্থতাকারী’ ভূমিকা পালন করেছিল।
আশির দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের সময় পাকিস্তান শুধু প্রতিরোধেই ভূমিকা রাখেনি, বরং যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিকভাবেও সক্রিয় ছিল। আফগানিস্তানে দীর্ঘ দুই দশকের যুদ্ধের অবসানে পাকিস্তানের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। ওয়াশিংটনের অনুরোধে পাকিস্তান তালেবান নেতাদের আলোচনার টেবিলে আনতে সক্ষম হয়।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ঘিরে এখন বড় প্রশ্ন উঠছে কূটনৈতিক মহলে। পরিবর্তিত বিশ্ব বাস্তবতায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় নতুন শক্তি হিসেবে পাকিস্তানের এই উত্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
লেখক: সাংবাদিক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক
