ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ
ইরানের নাতানজে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় ইরানের নাতানজে অবস্থিত পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত।
সোমবার (২ মার্চ) তিনি এ দাবি করেছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে এক বৈঠকে রেজা নাজাফি বলেন, ইরানের শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনায় আবারও হামলা চালিয়েছে তারা।
কোন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে জানতে চাইলে, তিনি জবাব দেন, ‘নাতানজ’।
জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন যে পরিস্থিতি গুরুতর হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির ভিডিওতেও দেখা যায়, স্থাপনাটি থেকে আকাশচুম্বী কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। নাসার ফায়ার ইনফরমেশন ফর রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফআইআরএমএস) অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ২টার কিছু পরে সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়।
নাতানজ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রটির অফিসিয়াল নাম ‘শহীদ আহমদী রোশন’ পারমাণবিক স্থাপনা। ইরানের প্রধান এবং বৃহত্তম পারমাণবিক স্থাপনা এটি, যা তেহরান থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে এসফাহন প্রদেশে অবস্থিত। এটি মূলত একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা, যার গভীরতা প্রায় ২৬০ থেকে ৩৩০ ফুটের মতো।
এটি ইরানের প্রাথমিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র। এখানে দুটি প্রধান ইউনিট রয়েছে: 'ফুয়েল এনরিচমেন্ট প্ল্যান্ট' (FEP) এবং 'পাইলট ফুয়েল এনরিচমেন্ট প্ল্যান্ট' (PFEP)। ২০০২ সালে গোপনে এর নির্মাণ শুরু হয় এবং ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) এর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পারে।
এর আগে ২০২৫ সালের জুনেও এটি ইসরায়েলি বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল বলে ইরান দাবি করেছিলো।
