নিখোঁজের ২ দিন পর পাটখেতে মিললো যুবকের লাশ
কামরুল সিকদার, বোয়ালমারী (ফরিদপুর)
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নিখোঁজের দুই দিন পর একটি পাটখেত থেকে তৌহিদুল ইসলাম মিয়া (২৮) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩ জুন) সকালে উপজেলার শেখর ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রাম থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত তৌহিদুল উপজেলার শেখর ইউনিয়নের ভাটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী, নাট্যজন মৃত আব্দুল কাইয়ুম মিয়ার ছোট ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জাহাজে লস্করের কাজ করতো সে, গত রমজান মাসে অসুস্থ হয়ে পড়লে বাড়ি চলে আসে সে। তার সাইপ্রাস যাওয়ার কথা ছিলো। ঈদের পর ভ্রমণের জন্য কুয়াকাটা গিয়েছিলো তৌহিদুল। গত ১ জুন ভ্রমণ শেষে সকালে বাড়ি ফেরেন তৌহিদ। ওইদিন সন্ধ্যার পর কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বের হওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। রাত ১২টার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
নিহতের বড় বোন চামেলি বেগম অভিযোগ করে বলেন, তৌহিদ ওই সন্ধ্যায় চাচাতো ভাই ইকবাল মিয়া, আকবর মিয়া এবং জয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা বন্ধু সুমনের সঙ্গে বের হন। পরে তারা বাড়ির পাশের একটি পাটখেতে মাদক সেবন করেন বলে জানতে পেরেছি। তার দাবি, মাদক সেবনকে কেন্দ্র করেই তৌহিদকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
তিনি আরো জানান, মাত্র ১০ দিনের মধ্যে তৌহিদের সাইপ্রাস যাওয়ার কথা ছিল। ভিসা প্রসেসিংসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু এর আগেই তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটল।
চামেলি বেগম বলেন, তৌহিদের কোনো সন্ধান না পেয়ে ইকবাল ও আকবরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানান, সবাই মিলে একটি পাটখেতে মাদক সেবন করেছিলেন। তাদের দাবি, তৌহিদ একাই ১৯ পিস ইয়াবা সেবন করে বাড়ির উদ্দেশে চলে যান। এরপর তার সম্পর্কে তারা কিছু জানেন না।
তিনি বলেন, তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশপাশের পাটখেতে খোঁজাখুঁজি করা হয়। আজ সকালে একজন কৃষক নজরুলের পাটখেতে তৌহিদের একটি স্যান্ডেল দেখতে পান। স্যান্ডেলেরসূত্র ধরে খেতের ভেতরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তার অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার।
বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিন্টু লস্কর জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে মরদেহের মাথায় আঘাতের চিহ্ন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালচে দাগ দেখা গেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কামরুল সিকদার। বোয়ালমারী।
