ঢাবি শিক্ষার্থী অপহরণের ঘটনায় ৯ জন গ্রেপ্তার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব অপহরণের ঘটনায় রাজধানীর আদাবর-শ্যামলী এলাকায় সক্রিয় একটি অপহরণ ও ছিনতাই চক্রের সঙ্গে জড়িত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩ জুন) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জাহিদ হোসেন (২০), হোসাইন আহম্মদ ওরফে সিফাত (২৫), ইয়াছিন ওরফে আজমান (২৭), আরিফুল ইসলাম (২৩), মাহিম চৌধুরী আকাশ (২০), সাকিব (২৪), সোহেল রানা (২৪), মো. নাঈম (২৩) ও মো. মর্তুজা তামিম (২৬)।
পুলিশ জানায়, কয়েক দিন আগে রাত ১১টার দিকে শ্যামলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসেন সাদমান সাকিব। সেখানে তিন-চারজন যুবক দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে অপহরণ করে একটি সরু গলিতে নিয়ে যায়। পরে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং পরিবারের কাছে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম বলেন, ঘটনাস্থলের কাছে দিয়ে টহল পুলিশ যাওয়ার সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করলে পুলিশ দ্রুত পৌঁছে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে গেলেও জাহিদ হোসেন নামে একজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, চক্রটি মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকায় ভোরের দিকে ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে, যখন তারা টাকা-পয়সা নিয়ে বাজারে যান। বিশেষ করে যারা একা থাকেন, তাদেরই অপহরণ করত চক্রটি। চক্রটির মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদ। তারসহ আরও দুই আসামির নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
ফজলুল করিম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় মামলা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তারা আর কোথায় কোথায় একই ধরনের অপরাধ করেছে এবং আরও কোনো ভুক্তভোগী আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, চক্রটি ভুক্তভোগীর মোবাইল দিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করত। বিকাশের মাধ্যমে আনা টাকা সেন্ড মানি বা কোনো এজেন্টের মাধ্যমে ক্যাশ আউট করে নিত এবং ভুক্তভোগীকে ফেলে দিয়ে চলে যেতো।
