মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলন, ভ্রাম্যমাণ অভিযানে আটক ১২
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে সোনারামপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর চর মরচাকান্দির বালু মহালের নির্ধারিত ইজারা মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে চুম্বক ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মেঘনা নদীর মরিচা লঞ্চঘাট এলাকায় পরিচালিত মোবাইল কোর্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের অভিযোগে আনলোড বডির ১১ জন শ্রমিককে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে অপর একজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: নৌপুলিশের অভিযানে মেঘনায় বালু দস্যু চক্রের সদস্য খলিল গ্রেপ্তার
আটককৃতদের মধ্যে ১১জনকে ৭দিন করে কারাদন্ড ও ১জনকে ৫০হাজার টাকা জড়িমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।উপজেলা নিবাহী কমকতা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারিকুল ইসলাম এই আদালত পরিচালনা করেন।কারাদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন নিরব (২৬), পিতা- আবু তাহের, সাং- লটারিজ, থানা- লাল মোহন, জেলা- ভোলা,পারভেজ (২৩), পিতা- মৃত ফারুক, সাং- সরপরাকাছা, থানা- রামগতি, জেলা- লক্ষ্মীপুর, মো: দেলোয়ার হোসেন (৬৫), পিতা- মৃত মকবুল হোসেন, সাং- বোয়ালিয়া, বাকেরগঞ্জ থানা, জেলা- বরিশাল, মোহাম্মদ জুবায়ের মৃধা(২১), পিতা- মোহাম্মদ জাকির মৃদা, সাং- ডিওধারা, থানা- মোড়লগঞ্জ, জেলা বাগেরহাট, মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন (২২), পিতা হইলো মৃত আব্দুর রউফ মিয়া, সাং- পশ্চিম কালিপুর, থানা- জামালগঞ্জ, জেলা-সুনামগঞ্জ,মো: আমির আলী (৩৫), পিতা- মৃত হরযত আলী, সাং-কালাগাও, থানা- তাহেরপুর, জেলা-সুনামগঞ্জ। মো: রাকিব গাজী(২৭), পিতা -জাকির গাজী, সাং- দক্ষিণ পাতা কাটা, থানা- বরগুনা সদর, জেলা-বরগুনা।মোহাম্মদ মাসুদ বয়াতি(২৮), পিতা- শাহজাহান বয়াতি, সাং-গোড়াপদ্মা, থানা- বরগুনা সদর, জেলা-বরগুনা।মো: সোহেল রানা (৩০), পিতা- মো: জামাল, সাং- বড়খেরী, থানা- রামগতি জেলা- লক্ষ্মীপুর।মোঃ সফর আলী (৫৫), পিতা- মৃত সুরুজ মিয়া, সাং- নয়াগাঁও, থানা-আড়াইহাজার, জেলা-নারায়ণগঞ্জ।মোহাম্মদ সালাউদ্দিন(৫২), পিতা- মোফাজ্জল হোসেন,সাং- চরভাটা, থানা- চরজব্বার, জেলা- নোয়াখালী।এ ঘটনায় ঠিকাদার নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালি ইউনিয়নের বিএনপির বহিষ্কৃত সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাদিয়া এন্টারপ্রাইজের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের চর মরিচাকান্দি বালি মহলের গত অর্থবছরে ৩২ কোটি টাকার বিনিময়ে ইজারা পায় আলোকবালি ইউনিয়নের বহিষ্কৃত বিএনপি'র সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুম এর প্রতিষ্ঠান সাদিয়া এন্টারপ্রাইজ। এই ইজারা মেয়াদ শেষ হয় গত ১৩ এপ্রিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে চুম্বক ড্রেজার দিয়ে বালি উওোলন অব্যাহত রাখে। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে রাত-দিন সমানতালে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল।
আরো পড়ুন: শিঙাড়া, কাঁচামরিচ আর পেঁয়াজ না দিলে মাথা গরম হয়ে যায়: জয়া
স্থানীয়দের অভিযোগ, আলোকবালি ইউনিয়নের বহিষ্কৃত সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুমের মালিকাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই এ অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। এতে একদিকে যেমন সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে নদী ভাঙনসহ পরিবেশগত ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাঞ্ছারামপুরের উপজেলা নিবাহী কমকতা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারিকুল ইসলাম মেঘনা নদীতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত করে ঘটনাস্থল থেকে ১২ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে জেল জড়িমানা করেন।
আরো পড়ুন: ইরানি তেল কিনলে চীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা
এলাকাবাসী জহির উদ্দিন জানান,“মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বালু তোলা হয়েছে। এতে নদীর পাড় ঝুঁকিতে পড়েছে, আমাদের বসতবাড়ি হুমকির মুখে।আমরা একাধিকবার বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি। অবশেষে অভিযান হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। তবে মূল কাইয়ুমের শাস্তি নিশ্চিত না হলে এ সমস্যা বন্ধ হবে না।”
উপজেলা নিবাহী কমকতা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারিকুল ইসলাম বলেন,“বালুমহালের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। আজ অবৈধভাবে বালি উওোলনের অভিযোগে ১২জনকে আটক করা হয়েছিল এর মধ্যে ১১জনকে ৭দিন করে কারাদন্ড ও ১জনকে ৫০হাজার টাকা জড়িমানা করা হয়েছে।”
