কাপাসিয়া হোক পর্যটনকেন্দ্র
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৩, ১২:৪৩ এএম
দুই হাজার বছরের প্রাচীনতম জনপদ গাজীপুরের কাপাসিয়া, যেখানে খ্রিস্টপূর্ব যুগ হতে কার্পাস তুলার ব্যাপক চাষাবাদ ছিল। মসলিন উৎপাদন ও বিক্রয়ের জন্য একটি বৃহৎ বাণিজ্যকেন্দ্র। বাণিজ্য ব্যবস্থা গ্রিক প্রাশ্চাত্যের দেশগুলোতে ক্রমাগত সম্প্রসারিত হয়েছিল। নৌপথে সুদূর আরবের সঙ্গে কাপাসিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল বলে। কার্পাস ও রেশমি বস্ত্র প্রাচীন বাংলার অর্থনীতিকে করেছিল শক্তিশালী। কাপাসিয়ার ভূমি ও আবহাওয়া তুলা উৎপন্ন হওয়ার বেশ উপযোগী ছিল। পর্যাপ্ত পরিমাণে কার্পাস তুলা উৎপন্ন হওয়ায় এই অঞ্চলের নামই হয়েছে কাপাসিয়া। ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুবেদার ইসলাম খান মুর্শিদাবাদের রাজমহল হতে বাংলার রাজধানী স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে কাপাসিয়ার আসেন। স্থানটি উঁচু-নিচু বলে তিনি রাজধানী স্থাপন না করে চলে গিয়ে ঢাকায় রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। কাপাসিয়া অঞ্চল সভ্যতা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ও বিশিষ্ট স্থানের অধিকারী ছিল। কাপাসিয়া বাংলাদেশের প্রাচীন এলাকাগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এলাকা, যার রয়েছে সুদীর্ঘ প্রাচীন ইতিহাস। কাপাসিয়া অঞ্চল ঐতিহাসিককালে কখনো সমৃদ্ধ জনপদ, কখনো গভীর অরণ্য, কখনো নদীগর্ভে বিলীন, আবার কখনো নতুন নতুন ভূমির সৃষ্টি হয়েছে। ভূখণ্ডগুলোর অন্তর্ভুক্ত কাপাসিয়ার সমগ্র অঞ্চল।
রাজধানী থেকে মাত্র ৬৫ কিলোমিটার উত্তরে এক অবহেলিত জনপদ ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা গাজীপুরের এই কাপাসিয়া। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কাপাসিয়ার নাম। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের জন্মভূমি এই কাপাসিয়া। শিক্ষিত জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এ উপজেলায় আজো কোনো শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি। স্বাধীনতার পর এখান থেকে ৪ জন মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী হলেও কাপাসিয়া আজো পৌরসভার মর্যাদা পায়নি। এলাকার অনেকেই অভিযোগের সুরে বলেন, গাজীপুর জেলার এক সময় কাপাসিয়ার অন্তর্ভুক্ত থাকা শ্রীপুর, কালিয়াকৈর, কালিগঞ্জ বহু আগেই পৌরসভার মর্যাদা পেলেও শুধু বাদ পড়েছে এ জনপদটি।
কাপাসিয়ার উল্লেখযোগ্য স্থান সুলতানপুর শাহী মসজিদ, দলোহাদীর লোহার খনি, ধাঁধার চর, শীতলক্ষ্যা নদী, ব্রহ্মপুত্র নদী, কয়েকটি বড় দিঘি প্রভৃতি। কাপাসিয়ার অতীত ইতিহাস সমন্ধে গবেষণা করার এখনো প্রচুর বিষয়বস্তু রয়েছে। কাপাসিয়া পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলে বিশ্ববাসী পাবে এক গ্রামীণ প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্রে কাপাসিয়া যুবকসহ দেশের বেকার যুবকদের তৈরি হবে কর্মসংস্থান, যা বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে।
কাপাসিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং নদী তীরবর্তী ঐতিহাসিক নিদর্শন রক্ষা করা প্রয়োজন। অঞ্চলটির লোকদের সম্পৃক্ত করে সরকারি উদ্যোগে অঞ্চলের মধ্যে থাকা অবৈধ দখল উত্তোলন এবং অবৈধ দখল নিয়ন্ত্রণ করে অঞ্চলটির রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারলে এটি একটি স্বীকৃত গ্রামীণ প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। আর এ জন্য প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ এবং কাপাসিয়ার মানুষের সচেতনতা। বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
তৌফিক সুলতান : প্রধান নির্বাহী পরিচালক, ওয়েলফশন মানবকল্যাণ সংঘ,
কাপাসিয়া, গাজীপুর।
towfiqsultan.help@gmail.com
