ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ব্যারেলপ্রতি তেল ১০০ ডলার ছাড়ালো
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) নির্ধারিত এই মূল্য ২০২২ সালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো এ পর্যায়ে পৌঁছেছে। খবর সিএনএনের।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তেলের বাড়তি দামকে ‘খুব ছোট মূল্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি ধ্বংস হয়ে গেলে তেলের স্বল্পমেয়াদি দাম দ্রুত কমে যাবে। বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য এটি খুবই সামান্য মূল্য বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
ইরানে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হতে পারে, এমন আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলের কয়েকটি পরিশোধনাগারে হামলার খবর পাওয়ায় উদ্বেগ আরো বেড়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া যেকোনো তেলবাহী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়।
এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মূল্য প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের ১৯ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। রোববার সন্ধ্যায় একপর্যায়ে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারেও পৌঁছে যায়।
আরো পড়ুন : ইরান যুদ্ধ শেষ কবে, জানালেন ট্রাম্প
অন্যদিকে বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দামও প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৮ ডলারের কাছাকাছি উঠেছে।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রধান তেল গবেষণা বিশ্লেষক হোমায়ুন ফালাকশাহি বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল আবার শুরু না হলে মার্চের শেষ নাগাদ তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।
তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। দীর্ঘ সময় জ্বালানির দাম বেশি থাকলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দামও বেড়েছে। রোববার দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪৫ ডলার, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি বলে জানিয়েছে আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন।
বিশ্লেষকদের মতে, তেল ও গ্যাসের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় আরো বাড়তে পারে। এতে চলতি বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে।
এদিকে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোববার কিছু পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোর জন্য বীমা সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে তারা। এর আগে সামুদ্রিক বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো হামলার ঝুঁকির কারণে ওই অঞ্চলে জাহাজের বীমা কভারেজ দিতে অনীহা প্রকাশ করেছিল।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীর সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়নি এবং সংঘাত চলতে থাকায় অনেক শিপিং কোম্পানি ওই পথে চলাচলে অনীহা দেখাচ্ছে।
এ বিষয়ে ফালাকশাহি বলেন, প্রশাসনের পরিকল্পনা কিছুটা সহায়তা করতে পারে, তবে একে একা যথেষ্ট বলা যাবে না। তার মতে, বড় ধরনের উত্তেজনা প্রশমিত না হলে বাজারের উদ্বেগ কমবে না।
রোববার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েলের হামলায় ইরানের তেল সংরক্ষণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর সংঘাত নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, আগামী দিনগুলোতে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর পাল্টা হামলা চালাতে পারে।
তিনি বলেন, কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া পর্যন্ত ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক তেল উৎপাদক তাদের উত্তোলিত তেল সংরক্ষণের জায়গা না পেয়ে উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে বলেও জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট সিএনএনের এক অনুষ্ঠানে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের তেল শিল্প বা অন্য জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনা নেই। তবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত এবং বর্তমানে চীনই দেশটির প্রধান ক্রেতা।
