×

মধ্যপ্রাচ্য

ইরান যুদ্ধের ২ মাস, কার লাভ কার ক্ষতি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০১:১০ পিএম

ইরান যুদ্ধের ২ মাস, কার লাভ কার ক্ষতি

ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সময় দ্রুত ও স্পষ্ট বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংঘাত শুরুর মাত্র ১০ দিন পরই তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র “অনেক দিক থেকেই ইতোমধ্যে যুদ্ধ জিতে গেছে”। কিন্তু দুই মাস পেরিয়ে গেছে। লড়াই আপাতত স্থগিত থাকলেও যুদ্ধের কোনো চূড়ান্ত সমাপ্তি এখনো দেখা যাচ্ছে না। ওয়াশিংটনের স্পষ্ট কৌশলগত সাফল্য নেই বরং সীমিত সংঘাত হিসেবে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন বিশ্বব্যাপী এক জটিল সংকটে পরিণত হয়েছে যেখানে কার্যত কেউই প্রকৃত বিজয়ী নয়।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো মেলানি সিসন সিএনএনকে বলেন, এই যুদ্ধে প্রকৃত কোনো বিজয়ী নেই, তবে কিছু দেশ তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ভালো অবস্থানে আছে।

এখন দেখা যাক, প্রধান পক্ষগুলো কোথায় দাঁড়িয়ে—

ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের সাধারণ মানুষ

বিশ্বের যেকোনো সংঘাতেই সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে বেসামরিক অবকাঠামোও রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন ইরান’ এর তথ্য অনুযায়ী, ৩৬০০ এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৭০০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক।

এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে জানিয়েছিলেন, ইরানের শাসকরা তার দাবি না মানলে তিনি দেশটির পুরো সভ্যতা ধ্বংস করে দেবেন।

একই সময়ে ইরানের ভেতরে সরকারবিরোধী মত দমনে কঠোর অভিযান চলছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আগের চেয়েও কঠোর অবস্থানে রয়েছেন এবং ভিন্নমত দমনে কঠোর বার্তা দিচ্ছেন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ৬০০ এর বেশি মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বর-জানুয়ারির বিক্ষোভে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরো কঠোর হয়েছে। এছাড়া আট সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ইরানের অর্থনীতিও বড় ধাক্কা খেয়েছে, যার ফলে চাকরি হারানো ও দারিদ্র্য বেড়েছে।

লেবাননের জনগণ

ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের সংঘাতে লেবানন বহুদিন ধরেই জড়িত। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি ছিল। কিন্তু ইসরায়েল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার পর হিজবুল্লাহ আবার ইসরায়েলে হামলা শুরু করে।

এর জবাবে ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মার্চ ২ থেকে শুরু হওয়া হামলায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইসরায়েল গাজার মতো কৌশল ব্যবহার করে পুরো গ্রাম ধ্বংস করছে। দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং হিজবুল্লাহর হুমকি না কমা পর্যন্ত তাদের ঘরে ফিরতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।

উপসাগরীয় দেশগুলো

উপসাগরীয় দেশগুলো এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যা তারা চায়নি। দীর্ঘদিন স্থিতিশীলতা উপভোগ করলেও ইরানের পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি বদলে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। কারণ ইরানের সবচেয়ে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্য ছিল এই দেশটি। যদিও বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করা হয়েছে, তবুও এর প্রভাব পড়েছে অর্থনীতি ও পর্যটনে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় ইরাক, কাতার ও কুয়েতের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। কারণ তারা এই পথ দিয়ে তেল ও গ্যাস রপ্তানি করে।

 আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এসব দেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। তারা শঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, তাদের অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে।

মার্কিন জনগণ

এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্যও কষ্টকর হয়ে উঠেছে। জ্বালানি, বিমান ভাড়া ও অন্যান্য সেবার দাম বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ‘ফুয়েল সারচার্জ’ আরোপ করেছে। মার্চে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

মেলানি সিসন বলেন, সোজাসাপ্টা বলতে গেলে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি ভালো নয়। পরিবহন খাতে তেলের ওপর নির্ভরতা বেশি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ কম।

বিশ্ব অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষ

বিশ্বজুড়ে ভোক্তারা ইতোমধ্যেই চাপে পড়েছেন। এশিয়ায় পরিস্থিতি বিশেষভাবে ভয়াবহ। এশিয়ার অনেক দেশ তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লাতিন আমেরিকার মানুষ জ্বালানি ও খাদ্যের উচ্চমূল্যের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে। এই সংকট আফ্রিকা জুড়ে আগে থেকেই ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিগুলোকে আরো চাপের মধ্যে ফেলছে।

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে একটি “বড় ধরনের ধাক্কা” লাগার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বে মূল্যস্ফীতি ৩.৮ শতাংশে নামবে বলে ধারণা ছিল, এখন তা বেড়ে ৪.৪ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে আইএমএফ। একইভাবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩.১ শতাংশে নামানো হয়েছে।

সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বিশেষ করে সার ও খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে।

ইসরায়েল

মাত্র কয়েক বছর আগেও ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ধারণা ছিল অকল্পনীয়। কারণ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তা ঠেকানোর জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করছিল। তবুও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন ইরানের শাসনব্যবস্থা ও তার পারমাণবিক কর্মসূচির মোকাবিলা করার একমাত্র উপায় হলো দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা। যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলায় রাজি করিয়ে শুরুতে কৌশলগত সুবিধা পান নেতানিয়াহু। অন্তত প্রাথমিকভাবে এটি তার জন্য একটি কৌশলগত বিজয় ছিল।

আরো পড়ুন : ইরান থেকে ফেরার পথেই কিউবা দখল করব: ট্রাম্প

গত সপ্তাহে নেতানিয়াহু আবারও তার প্রতিজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করেছেন, তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, “মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা পাল্টে দেবেন”। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতায় কাজ করছেন তিনি, এ কথাও জানিয়েছেন।

যৌথ এই সামরিক অভিযানে ইরানের সামরিক শক্তির একটি বড় অংশ ধ্বংস করে দেওয়ায় ইসরায়েলে নির্বাচনের এই বছরে এটি তার জন্য ইতিবাচক হতে পারে। এ বিষয়ে নেতানিয়াহু প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

তবে জনমত জরিপ বলছে, বেশিরভাগ ইসরায়েলি এই যুদ্ধে জয় দেখছেন না। এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের অবস্থানকেও আরো ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একই সঙ্গে গাজা যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর হামলার ঝুঁকিও বেড়েছে।

ইরানের শাসনব্যবস্থা

যুদ্ধের ফলে শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু হলেও শাসনব্যবস্থা এখনো টিকে আছে। নতুন নেতৃত্ব আরো কঠোর এবং সংঘাতমুখী। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে তারা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, যা তাদের কূটনৈতিক শক্তি বাড়িয়েছে।

ইউক্রেন

ইরান যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সিএনএনকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র সরবরাহ কমেছে।

তবে একটি ইতিবাচক দিকও আছে—ড্রোন প্রযুক্তিতে দক্ষতা ইউক্রেনকে নতুন কূটনৈতিক সুযোগ এনে দিচ্ছে, বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ইউক্রেন থেকে বিশ্বের মনোযোগও সরিয়ে দিয়েছে।

আপাতত লাভবান চীন

বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি আমদানিকারক চীন তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। তারা তেলের মজুত বাড়িয়েছে, বিকল্প উৎস তৈরি করেছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করেছে। কূটনৈতিকভাবেও তারা লাভবান হয়েছে, কারণ এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

জ্বালানি কোম্পানি

বিশ্বজুড়ে তেলের আকাশছোঁয়া দাম মানুষের জীবনযাত্রাকে অনেক বেশি ব্যয়বহুল করে তুললেও, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানিগুলো এর থেকে বিপুল মুনাফা করছে। তেলের উচ্চ মূল্য এবং এর ব্যাপক ওঠানামার কারণে শেভরন, শেল, বিপি, কনোকোফিলিপস, এক্সন এবং টোটালএনার্জিস—সবাই বিপুল মুনাফা অর্জন করছে। অক্সফামের একটি নতুন প্রতিবেদন অনুসারে, এই ছয়টি কোম্পানি চলতি বছর ৯৪ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

কিন্তু এই বিপুল মুনাফার কারণে বিভিন্ন দেশে এই কোম্পানিগুলোর ওপর অপ্রত্যাশিত মুনাফার ওপর কর আরোপের দাবি উঠেছে। এই সংকট নবায়নযোগ্য শক্তিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলছে। এটা জীবাশ্ম জ্বালানির পতনকে ত্বরান্বিত করতে পারে বলে আশা।

রাশিয়া

উচ্চ তেল ও সারের দামের কারণে রাশিয়া অতিরিক্ত আয় করছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, মার্চে তাদের আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে ইউক্রেনের হামলার কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত

জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক দেশ পরিষ্কার জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। ইউরোপীয় কমিশন নতুন কৌশল নিয়েছে ‘ফসিল ফুয়েল শক’ মোকাবিলায়। তবে কাঁচামালের দাম বাড়ায় এই খাতেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

অস্ত্র ও ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান

যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় বেড়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ২০২৫ সালে সামরিক ব্যয় বেড়ে ২.৯ শতাংশ হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।

ইরান যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় ঝুঁকি নিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো সেই ঝুঁকির সুফল পাওয়া যায়নি। তিনি দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—কিন্তু লক্ষ্যগুলো এখনো অর্জিত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধ শুরু থেকেই জনপ্রিয় ছিল না। সময় যত যাচ্ছে, জনসমর্থন তত কমছে। তবে একটি সম্ভাবনা এখনো রয়েছে, যদি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শর্ত মেনে নেয়, তাহলে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হতে পারেন। কিন্তু স্বল্পমেয়াদে সেই সম্ভাবনা খুবই কম।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে এনসিপি

জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে এনসিপি

সিলেটে ৭৫০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সিলেটে ৭৫০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সৌদি পৌঁছেছেন ৪১ হাজার ৬২৯ জন হজযাত্রী

সৌদি পৌঁছেছেন ৪১ হাজার ৬২৯ জন হজযাত্রী

ভাড়া বাসা থেকে নারী কনস্টেবলের লাশ উদ্ধার, স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ

ভাড়া বাসা থেকে নারী কনস্টেবলের লাশ উদ্ধার, স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App