মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম বরখাস্ত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েমকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যাপিটল হিলে চলা শুনানিতে রেপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের তোপের মুখে পড়েন নোয়েমে। এরপরই তাকে বরখাস্ত করা হয়।
তার স্থলাভিষিক্ত হবেন ওকলাহোমার সেনেটর মার্কওয়েন মুলিন, এমনটাই ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প।
নোয়েম প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন এবং তার গুরুত্বপূর্ণ নীতি, যেমন ব্যাপকভাবে অভিবাসীদের বহিষ্কার, বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তবে বাজেট ব্যবহার এবং মিনিয়াপলিসে দুই প্রতিবাদীর মৃত্যুর পর তার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তিনি ট্রাম্পের জন্য জটিল হয়ে উঠেন।
ট্রাম্প বলেন, নোয়েম সীমান্তে অসাধারণ ফলাফলসহ আমাদের জন্য ভালো কাজ করেছেন। তাকে এনভয় ফর দ্য শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস নামে নতুন পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা পশ্চিম গোলার্ধের নিরাপত্তা উদ্যোগের নেতৃত্ব দেবে।
বরখাস্তের খবরের পর নোয়েম ন্যাশভিলে একটি আইন প্রয়োগ ইভেন্টে উপস্থিত হন। তবে সেখানে তিনি সরাসরি মন্তব্য করেননি। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং তার সাফল্য তুলে ধরেন।
আরো পড়ুন : ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এপস্টেইন ফাইলের নতুন তথ্য
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রশাসন সেনেটের সঙ্গে কাজ করে দ্রুত মুলিনকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।
নোয়েম ছিলেন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য। তার দায়িত্বকালীন সময়ে ২২০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিজ্ঞাপন প্রচারণা চালানো হয়েছিল যা দেশের অবৈধ বসবাসকারীদের স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের আহ্বান জানিয়েছিল। নোয়েম দাবি করেছেন, ট্রাম্প আগে থেকে এই প্রচারণা অনুমোদন করেছিলেন, কিন্তু হোয়াইট হাউস তা অস্বীকার করেছে।
নোয়েমের নেতৃত্বে অভিবাসন কঠোরীকরণের পাশাপাশি জরুরি তহবিল এবং বিপর্যয় মোকাবেলায়ও সমালোচনা হয়েছিল। মিনিয়াপলিসে দুই প্রতিবাদীর মৃত্যুর পর তার আচরণ বিশেষভাবে বিতর্কিত হয়ে ওঠে। নোয়েমের পদত্যাগকে সমালোচকরা স্বাগত জানিয়েছে। তবে কিছু অভিবাসন কর্মী প্রশ্ন তুলেছেন, তার পদত্যাগ কি নীতি পরিবর্তনে প্রভাব ফেলবে কি না।
মুলিন এখনও সেনেটে নিশ্চিতকরণের অপেক্ষায় থাকলেও আইন অনুযায়ী তিনি আংশিকভাবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন মুলিন।
