×

জাতীয়

বাবার জানাজায় অংশ নিলেন সাবেক এমপি সুজন

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম

বাবার জানাজায় অংশ নিলেন সাবেক এমপি সুজন

ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুর কারাগার থেকে সাত ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন অংশ নিয়েছেন তার বাবার জানাজায়। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ দবিরুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে সাতবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। জানাজায় বাবার মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে সাবেক এমপি সুজনকে বারবার অঝোরে কাঁদতে দেখে সেখানে উপস্থিত সবার মাঝেই এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

শনিবার (৩০ মে) সকালে দিনাজপুর কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নিজ বাসভবনে পৌঁছালে স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে ধরেন। এ সময় বাবাকে হারানোর শোকে তিনি অঝোরে কাঁদতে থাকেন এবং পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রয়াত দবিরুল ইসলামের জানাজায় অংশগ্রহণ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবারের মতো কিছু সময় কাটানোর সুযোগ দিতে তাকে সাত ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দবিরুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

শনিবার (৩০ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং হাজারো সাধারণ মানুষ অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।

সাবেক এমপি মাজহারুল ইসলাম সুজন বলেন, বাবাকে খুব ভালোবাসতাম। শেষ সময়ে তার কাছে থাকতে পারলাম না। আমাকে নিয়ে চেন্নাই চিকিৎসার জন্য যাওয়ার ইচ্ছা ছিল তার, এরপরে হজে। জেলে থাকার কারণে কোনোকিছু করতে পারলাম না। এই কষ্ট সারাজীবন আমাকে কাঁদাবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রায় ৩৫ বছর তিনি এ এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তার যদি কোনো ভুলত্রুটি থেকে থাকে, আপনারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। মানুষের ভালোবাসাই ছিল বাবার সবচেয়ে বড় শক্তি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে ছিলেন। আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন, মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন।’

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দবিরুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও-২ আসনের অন্যতম পরিচিত ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি তিনবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সাতবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিরল রেকর্ড গড়েন। স্থানীয় উন্নয়ন, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনকল্যাণমূলক নানা কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে স্থানীয়রা জানান।

জানাজায় অংশ নিতে আসা অনেকেই বলেন, একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জননেতার বিদায়ে ঠাকুরগাঁও একটি অভিভাবকসুলভ নেতৃত্বকে হারিয়েছে। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনের শুরু বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) দিয়ে হলেও, পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।

ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় সংসদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন দীর্ঘদিন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

নেইমারকে নিয়ে সব বিতর্কের জবাব দিলেন আনচেলত্তি

নেইমারকে নিয়ে সব বিতর্কের জবাব দিলেন আনচেলত্তি

ঈদের ছুটিতে বিচারকের বাসায় চুরি, তালা ভেঙে সব লুট

ঈদের ছুটিতে বিচারকের বাসায় চুরি, তালা ভেঙে সব লুট

‘শহীদ জিয়াকে হত্যা করেও তার আদর্শকে মুছে ফেলা যায়নি’

‘শহীদ জিয়াকে হত্যা করেও তার আদর্শকে মুছে ফেলা যায়নি’

নিজের প্রথম বিদেশ সফরে ভারতে গেলেন মিয়ানমার প্রেসিডেন্ট

নিজের প্রথম বিদেশ সফরে ভারতে গেলেন মিয়ানমার প্রেসিডেন্ট

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App