ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এপস্টেইন ফাইলের নতুন তথ্য
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিপত্র নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ওঠে এসেছে। মার্কিন বিচার বিভাগ শিগগিরই এপস্টেইন ফাইলের পরবর্তী দফার নথি প্রকাশ করতে পারে বলে জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নথিগুলোর মধ্যে কিছু এফবিআই রেকর্ড রয়েছে, যেখানে এক মহিলার অভিযোগে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামও উল্লেখ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে নথিগুলো প্রকাশ করা হতে পারে। তবে জানা গেছে, বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে আপলোড করা নথির তালিকা থেকে প্রায় ৪০ হাজারের বেশি ফাইল হঠাৎ উধাও হয়েছে। এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মোট ৪৭,৬৩৫টি ফাইল সাময়িকভাবে সরানো হয়েছে এবং পুনরায় পর্যালোচনার পর প্রকাশ করা হবে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাইলগুলোর মধ্যে এফবিআইয়ের সাক্ষাৎকার সংক্রান্ত নথি (‘ফর্ম ৩০২’) রয়েছে। এই নথিতে ২০১৯ সালে এক মহিলার সঙ্গে তদন্তকারীদের সাক্ষাৎকারের বিবরণ রয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ১৯৮০ এর দশকে তিনি নাবালিকা অবস্থায় এপস্টেইন ও ট্রাম্প উভয়ের বিরুদ্ধেই যৌন অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন।
আরো পড়ুন : এপস্টেইন নথি থেকে ৩৬ বছর পর নিজের ধর্ষককে শনাক্ত করলেন নারী
তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনও যাচাই করা হয়নি। পূর্বে প্রকাশিত নথিতেও অনুরূপ অভিযোগ ছিল, যা প্রমাণিত হয়নি। ট্রাম্প এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিগুলো তাকে সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ প্রমাণ করেছে।
এ বছরের ৩০ জানুয়ারি এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট এর অধীনে বিচার বিভাগ এপস্টেইন ও তার সহযোগী ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েলকে ঘিরে সরকারি নথি প্রকাশ করেছে। ওই আইনের লক্ষ্য ছিল এপস্টেইন কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সরকারি রেকর্ডগুলো জনসমক্ষে আনা।
প্রথম দফার নথিতে মহিলার সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে এপস্টেইন তাকে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় নির্যাতন করেছিলেন। তবে আরো তিনটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের নাম উল্লেখ রয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
বিচার বিভাগ এখনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি কেন নথিগুলো বাদ পড়েছিল। কর্মকর্তারা বলেছেন, ভুল ট্যাগিং, ভুক্তভোগীর পরিচয় সংরক্ষণ এবং যৌন নির্যাতনের স্পষ্ট ছবি সরানোর জন্য নথিগুলো পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে।
বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র বলেছেন, ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ বিচার বিভাগ এটি। প্রয়োজনীয় সম্পাদনা ও গোপনীয়তা রক্ষার ব্যবস্থা শেষ হলে সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি প্রকাশ করা হবে।
আইন অনুযায়ী, নথি যদি পুনরাবৃত্তি হয়, তদন্তের সঙ্গে যুক্ত থাকে বা এপস্টেইন মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত না হয়, তবে তা প্রকাশ নাও করা যেতে পারে। তবে শুধুমাত্র জনসমক্ষে কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে বিব্রত করতে পারে বলে নথি আটকে রাখা যাবে না। মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরাও নথি প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ওই মহিলা এপস্টেইনের সম্পত্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। সেখানে অভিযোগ ছিল, কিশোরী বয়সে এপস্টেইন তাকে নির্যাতন করেছিলেন এবং ধনী ব্যক্তিদের কাছে পাচার করেছিলেন। যদিও মামলায় কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি এবং ২০২১ সালে মামলা স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার করা হয়।
বিচার বিভাগ আগেই সতর্ক করেছে, সাধারণ মানুষ যে তথ্য বা অভিযোগ এফবিআইকে দেয় তার মধ্যে অনেক সময় মিথ্যা বা যাচাই না হওয়া দাবি থাকতে পারে। তাই নতুন নথি প্রকাশের আগে সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
