এপস্টেইন নথি থেকে ৩৬ বছর পর নিজের ধর্ষককে শনাক্ত করলেন নারী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২০ এএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী ও যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত লাখ লাখ নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথিতে থাকা একটি ছবি দেখে ৩৬ বছর পর নিজের ধর্ষককে শনাক্ত করেছেন সুইডিশ নারী এব্বা কার্লসন।
বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী কার্লসন সুইডিশ নাগরিক ৬৮ বছর বয়সী ডেনিয়েল সিয়াদের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের প্যারিসে একটি ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কার্লসনের অভিযোগ, নব্বইয়ের দশকে ফ্রান্সের কান শহরের একটি ভিলার সুইমিং পুলে সিয়াদ তাঁকে ধর্ষণ করেন। সম্প্রতি প্রকাশিত মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতে সিয়াদের নাম উঠে এসেছে এপস্টেইনের নেটওয়ার্কে অল্পবয়সী মেয়ে ও তরুণীদের সংগ্রহকারী হিসেবে। তবে সিয়াদ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ফরাসি টেলিভিশনে প্রচারিত একটি ভিডিও বার্তায় সিয়াদ দাবি করেন, তিনি পেশাগতভাবে এপস্টেইনের জন্য মডেল পরিচয় করিয়ে দিতেন। তাঁর ভাষ্য, সময়ের ব্যবধানে আমরা জেনেছি, তিনি (এপস্টেইন) জঘন্য অপরাধ করেছেন।
আরো পড়ুন : কুখ্যাত এপস্টিনের ‘পুরুষ ক্লাবে’ নারীদের কীভাবে দেখা হতো
প্রকাশিত নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সিয়াদ ও এপস্টেইনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং তাঁরা প্রায়ই ‘মেয়েদের’ বিষয়ে কথা বলতেন। যদিও সিয়াদের দাবি, তিনি কেবল মডেল হিসেবেই তরুণীদের পরিচয় করিয়ে দিতেন এবং কখনো অপ্রাপ্তবয়স্ক বা নির্যাতিত কাউকে পাঠাননি।
এদিকে এব্বা কার্লসন জানিয়েছেন, সিয়াদ তাঁকে মডেলিং ক্যারিয়ারের প্রলোভন দেখিয়ে সুইডেন থেকে মোনাকো ও ফ্রান্সে নিয়ে যান। সেখানে তিনি তাঁকে এলিট মডেলিং এজেন্সির সাবেক ইউরোপীয় প্রধান জেরাল্ড মারির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
ধর্ষণের ঘটনার পর সিয়াদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি কার্লসন, কারণ সে সময় তাঁর পূর্ণ পরিচয় জানা ছিল না। তবে ৩৬ বছর পর এক সাংবাদিক এপস্টেইন নথির একটি ছবি দেখালে তিনি সিয়াদকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।
কার্লসনের আইনজীবী অ্যান-ক্লেয়ার লেজ্যুন জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল চান প্যারিস প্রসিকিউটর দপ্তর অভিযোগটি গ্রহণ করে ধর্ষণ ও মানবপাচারের তদন্ত শুরু করুক। পাশাপাশি এ ধরনের আচরণ আরো ঘটেছে কি না এবং সম্ভাব্য অন্যান্য ভুক্তভোগীদের চিহ্নিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ফ্রান্সে এপস্টেইনের প্যারিসের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কর্মচারীদের দাবি, ওই অ্যাপার্টমেন্টের দেয়ালে অর্ধনগ্ন নারী ও কিশোরীদের ছবি ঝোলানো ছিল এবং সেখানে একটি ম্যাসাজ পার্লারও ছিল। শিশু নির্যাতনবিরোধী সংগঠন ‘ইনোসাঁস আঁ দঁজে’ এ বিষয়ে প্রসিকিউটরদের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
এপস্টেইন নথি প্রকাশের পর আরব ওয়ার্ল্ড ইনস্টিটিউটের প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ফ্রান্সের সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী জ্যাক ল্যাং। আর্থিক কৌঁসুলিরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এপস্টেইনের কাছ থেকে ল্যাং বা তাঁর কন্যা কোনো অর্থ পেয়েছিলেন কি না। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে দণ্ডিত ও বিচারাধীন অবস্থায় নিউইয়র্কের কারাগারে রহস্যজনকভাবে আত্মহত্যা করেন জেফরি এপস্টেইন।
