কারাগার থেকে বের হয়েই খুনোখুনিতে পিচ্চি হেলাল
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
কাগজ প্রতিবেদক : কারাগার থেকে বের হয়ে ফের খুনোখুনিতে জড়িয়েছেন রাজধানীর শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান ওরফে পিচ্চি হেলাল। প্রায় দুই দশক কারাগারে থাকার পর সরকারের পটপরিবর্তনে তিনি সদ্য কারামুক্ত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। তাতে নাম ছিল ছাত্রদলের সাবেক নেতা পিচ্চি হেলালের। তখন তিনি গ্রেপ্তার হন এবং পরে মহাজোট সরকার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও কারাগারে ছিলেন। এবার রাজধানীর রায়েরবাজার এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় জোড়া খুনের ঘটনায় পিচ্চি হেলালসহ ৩২ জনকে আসামি করে মামলা করেছে ভুক্তভোগী দুই পরিবার। এ ঘটনায় নিহত মুন্না হাওলাদার ও নাসির বিশ্বাসের পরিবার বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলালসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতা ইমন ওরফে এলেক্স ইমন ও আরো ৩০ সদস্যকে আসামি করা হয়।
গত শুক্রবার রায়েরবাজার আজিজ খান রোড এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মুন্না হাওলাদার (২২) ও নাছির বিশ্বাস (২৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এ ছাড়াও বেশ কয়েকজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জানা গেছে, ইমন ওরফে এলেক্স ইমনের নেতৃত্বে সানী, পারভেজ ও রাজিবসহ কিশোর গ্যাংয়ের আরো ৪০-৫০ জন সদস্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে আতর্কিত হামলা করে। এতে ঘটনাস্থলে দুজন মারা যায়। বেশ কয়েকজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। এ সময় আশপাশে বেশ কয়েকজনকে কুপিয়ে তাদের মোবাইল ফোন, টাকা পয়সা নিয়ে যায়। এলেক্স ইমন স্থানীয় পুলিশ ও র্যাবের সোর্স হিসেবে পরিচিত হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না।
নিহত মুন্না হাওলাদারের স্ত্রী সিমু আক্তার জানান, তার স্বামী বাসার সামনে বের হলে এলেক্স ইমন, পারভেজসহ ৪০-৫০ জনের একটি গ্রুপ এসে আকস্মিকভাবে হামলা করে। এ সময় তারা মুন্নার পুরো শরীরের রগ কেটে দিয়ে কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই মেরে ফেলে। তারা নাছির বিশ্বাস নামে আরেকজনকেও কুপিয়ে মেরে ফেলে। তাদের প্রতিহত করতে আশপাশের লোকজন ছুটে গেলে তাদের ওপর হামলা করে তাদের কুপিয়ে আহত করে।
মুন্না হাওলাদারের বাবা বাবুল মিয়া বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খবর পাই আমার ছেলেকে কিশোর গ্যাং সদস্যরা কুপিয়ে মেরে ফেলেছে। এ খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমি ঘটনাস্থলে কোনোমতে দৌড়ে আসি। এসে দেখি আমার বুকের ধন ছেলেটা আর নেই। আমার ছেলে দেড় বছর বয়সি একটি সন্তান রেখে গেছে। ছোট্ট এই অবুঝ শিশুর খবর কে নেবে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি আলী ইফতেখার জানান, কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় দুজন মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
