×

প্রথম পাতা

বেনজীর আহমেদের অধীনে এত সম্পদ!

Icon

রকি আহমেদ

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বেনজীর আহমেদের অধীনে এত সম্পদ!

  • আরো ১১৯টি সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ

পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জিশান মির্জাসহ মেয়েদের নামে থাকা আরো জমি, ফ্ল্যাট ও কোম্পানি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন। 

জব্দের সম্পত্তির মধ্যে ১০ কোটি ২১ লাখ টাকার ২৭৩ বিঘা জমি, ২ কোটি ১৯ লাখ টাকা মূল্যের গুলশানে ৪টি ফ্ল্যাট, একটি প্লট, ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রসহ ৪টি বিও অ্যাকাউন্ট, ৪টি শতভাগ মালিকানার কোম্পানি ও শেয়ার হিসেবে থাকা ১৫টি কোম্পানি রয়েছে। এসব সম্পত্তি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জিশান মির্জা এবং তিন মেয়ে- ফারহিন রিসতা বিনতে বেনজীর, জাহরা জারিন বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে বলে উল্লেখ করেছে দুদক।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর ভোরের কাগজকে বলেন, বেনজির ও তার পরিবারের সম্পত্তির ১১৪টি দলিল, ঢাকার ৪টি ফ্ল্যাট, ৪টি শতভাগ মালিকানাধীন কোম্পানি, ১৫টি  আংশিক মালিকানা কোম্পানি ও ৪টি বিও অ্যাকাউন্ট জব্দের জন্য দুদকের পক্ষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদন করেন। আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনটি মঞ্জুর করে আদেশ দেন। অবরুদ্ধ সম্পত্তি বিক্রি বা টাকা উত্তোলন করতে পারবেন না বেনজীর আহমেদ।

১০ কোটি টাকার ২৭৩ বিঘা জমি : দুদকের আবেদনে দেখা যায়, মাদারীপুরের রাজৈর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী জিশান মির্জার নামে ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত ১১৩টি জমির দলিল রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। এসব জমির দলিলের দাগ ও খতিয়ান নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে। ১১৩টি দলিলের মোট জমির পরিমাণ ৯ হাজার ৮ শতাংশ, যা ২৭৩ বিঘা। প্রত্যেক দলিলের জমির মূল্য আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা মোট জমির মূল্য ১০ কোটি ২১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এছাড়া মাদারীপুরে শিবচর হাউজিং এস্টেটে বেনজীর আহমেদের ৫ কাঠার একটি প্লট রয়েছে। এছাড়া সাভারে বেনজীরের নামে ৩ কাঠা জমি রয়েছে। 

গুলশানে ৪টি ফ্ল্যাট : রাজধানীর গুলশানে ৪টি ফ্ল্যাট আছে বলে উল্লেখ করেছে দুদক। সব ফ্যাটই গুলশান আবাসিক এলাকার সিইএস (জি) ব্লকের র‌্যাংকন আইকন টাওয়ারে। এর মধ্যে তিনটি ফ্ল্যাট বেনজীর আহমেদের স্ত্রী জিশান মির্জার নামে। বাকি একটি ফ্ল্যাট বেনজীরের মেয়ে জাহরা জারিন বিনতে বেনজীরের নামে কেনা হয়েছে। প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটের আয়তন ২ হাজার বর্গফুটের ওপরে। ৪টি ফ্ল্যাটের দলিল মূল্য মোট দেখানো হয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ টাকা।  

৪টি কোম্পানির মালিক : দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, বেনজীর আহমেদের নামে ৪টি শতভাগ মালিকানার কোম্পানি রয়েছে। এগুলো হলো- সাভানা ন্যাচারাল পার্ক, সাভানা অ্যাগ্রো লিমিটেড, সাভানা ইকো রিসোর্ট ও একটি শিশির বিন্দু লিমিটেড। এছাড়া ঢাকার রমনা করপোরেট শাখার সোনালী ব্যাংকে ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র পাওয়া গেছে। এদিকে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জিশান মির্জা ও ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে ৩টি বিও অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে।

১৫ কোম্পানিতে শেয়ার : দুদক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও তাদের তিন মেয়ের নামে ১৫টি কোম্পানিতে শেয়ার রয়েছে। এগুলো হলো- নর্থ চিকস রংপুর লিমিটেড, নর্দান বিজনেস অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড, এসটি পিটার্স স্কুল অব লন্ডন লিমিটেড, স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ  লিমিটেড, বাংলা টি ম্যানুফেকচারিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ডেল্টা আর্টিসানস লিমিটেড, ইস্ট ভ্যালি ডেয়ারি লিমিটেড, গ্রিন মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড, কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ, কমিউনিটি ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ল এনফোর্সমেন্ট রিসার্চ ফাউন্ডেশন, পুলিশ ট্রাস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রডাক্টস লিমিটেড, পুলিশ ট্রাস্ট সার্ভিস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড, পুলিশ ট্রাস্ট কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড এবং এম এস সাউদার্ন বিজনেস ইনিশিয়েটিভস।

বেনজীরের সম্পত্তি অনুসন্ধানে নিয়োজিত দুদকের সহকারী পরিচালক হাফিজুল ইসলাম আদালতে সম্পত্তি জব্দের আবেদনে বলেন, গত ২২ এপ্রিল ৩ (তিন) সদস্যবিশিষ্ট অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ নামে, স্ত্রী জিশান মির্জা ও মেয়েদের নামে দেশে-বিদেশে শত শত কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যাচ্ছে যে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের মালিকানাধীন ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। করতে পারলে এই অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় মামলা, বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট দাখিল, আদালত কর্তৃক বিচার শেষে সাজার অংশ হিসেবে অপরাধলব্ধ আয় থেকে অর্জিত সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্তকরাসহ সব উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।

তাই, এই অনুসন্ধান শেষে মামলা করা ও মামলা তদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিলের পর আদালত থেকে বিচার শেষে সরকারের অনুকূলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের সুবিধার্থে সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বেনজীর আহমেদের স্থাবর সম্পত্তিসমূহ ক্রোক ও অস্থাবর সম্পত্তিসমূহ আবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করা একান্ত প্রয়োজন। দুদকের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীও সম্পত্তি জব্দের জন্য জোর দাবি জানান। নথি পর্যালোচনা করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ১৪ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন, বিধিমালা-২০০৭ এর বিধি ১৮ অনুয়ায়ী বেনজীর আহমেদের স্থাবর সম্পত্তিসমূহ ক্রোক ও অস্থাবর সম্পত্তিসমূহ আবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দেন।

বেনজীরের বিদেশের সম্পত্তিরও অনুসন্ধান : দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর ভোরের কাগজকে বলেন, বেনজীর আহমেদের সব সম্পত্তির অনুসন্ধান চলছে। বিদেশে তার কোনো সম্পত্তি আছে কিনা অনুসন্ধান কর্মকর্তা তা অনুসন্ধান করছেন। যদি থাকে এবং তা যদি অবৈধভাবে হয় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেবে দুদক। মানি লন্ডারিং আইন ও দুদক আইনে বিদেশের সম্পত্তি বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার পদক্ষেপ বলা আছে।

এর আগে গত ২৩ মে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জিশান মির্জাসহ মেয়েদের নামে থাকা ৮৩টি দলিলের সম্পত্তি ও ৩৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ক্রোকের নির্দেশ দেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন। 

সম্প্রতি দেশের এক জাতীয় দৈনিকে দাবি করা হয়, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের খোঁজ মিলেছে। জাতীয় ওই দৈনিকে ‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়, যেখানে তার নানা অর্থ-সম্পদের বিবরণ তুলে ধরা হয়। বেনজীরের বিপুল সম্পদের মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জের সাহাপুর ইউনিয়নে সাভানা ইকো রিসোর্ট নামের এক অভিজাত ও দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র। এছাড়া তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৬টি কোম্পানির খোঁজ পাওয়া গেছে। ৫টি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে। বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চিঠি দেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। এরপর পুলিশের বেনজীর আহমেদের সম্পদ অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন। এতে তিন সদস্যের একটি কমিটি কাজ শুরু করে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘জুলাই সুরক্ষা’ নিয়ে সবাই একমত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘জুলাই সুরক্ষা’ নিয়ে সবাই একমত

দাম্পত্য ভাঙনের গুঞ্জন, মুখ খুললেন মৌসুমী হামিদ

দাম্পত্য ভাঙনের গুঞ্জন, মুখ খুললেন মৌসুমী হামিদ

পাকিস্তানের তেলবাহী জাহাজ আটকে দিলো ইরান

পাকিস্তানের তেলবাহী জাহাজ আটকে দিলো ইরান

সিংগাইরে ওসি’র বাউল সুরে মাতলো ওরস

সিংগাইরে ওসি’র বাউল সুরে মাতলো ওরস

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App