শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ২০ এপ্রিল থেকে টিকাদান শুরু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সিলেটে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন, যা চলবে ১৯ মে পর্যন্ত। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৬৮ হাজার ৫৫০ জন শিশুকে ১ ডোজ করে এমআর টিকা প্রদান করা হবে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সিটি কর্পোরেশন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) নগরভবনে আয়োজিত এক উদ্বুদ্ধকরণ সভা থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি ক্যাম্পেইন সফল করতে নগরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ, এনজিও কর্মী, ওয়ার্ড সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এ অধিকার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। হাম-রুবেলা প্রতিরোধে এই টিকাদান কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।’
তিনি আরো বলেন, ‘আজকের শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। হাম ও রুবেলার মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সময়মত টিকা প্রদান অত্যন্ত জরুরি। তাই এই ক্যাম্পেইনকে সর্বাত্মকভাবে সফল করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
সিসিক প্রশাসক জনসাধারণকে সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘অনেক সময় সচেতনতার অভাবে শিশুরা টিকা থেকে বঞ্চিত হয়। এ বিষয়ে অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে, যাতে নির্ধারিত সময়ে কোনও শিশুই টিকা গ্রহণ থেকে বাদ না পড়ে।’
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম ও ডা. ফজলুল কাদের।
ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, ‘২০ এপ্রিল থেকে ১৯ মে পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হবে। পূর্বে টিকা গ্রহণ করে থাকলেও কিংবা হাম বা রুবেলায় আক্রান্ত হয়ে থাকলেও এই বয়সসীমার সব শিশুকে ক্যাম্পেইন চলাকালে ১ ডোজ এমআর টিকা নিতে হবে।’
তিনি আরো জানান, ‘টিকা গ্রহণের জন্য ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে ইপিআই ভ্যাকসিনেশন অ্যাপের (VAXEPI) মাধ্যমে অনলাইন নিবন্ধন করা যাবে। তবে নিবন্ধন ছাড়াও সরাসরি টিকাকেন্দ্রে গিয়ে টিকা গ্রহণ করা সম্ভব।’
ক্যাম্পেইন চলাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হবে। যেসব শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে রয়েছে, তাদের জন্য বিদ্যমান স্থায়ী ও অস্থায়ী ইপিআই কেন্দ্রগুলোতে টিকাদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া, কোনো বিশেষ কারণে যদি কোনো শিক্ষার্থী তার নিজ বিদ্যালয়ে টিকা নিতে ব্যর্থ হয়, তবে সে নিকটবর্তী যেকোনো কেন্দ্র থেকে টিকা গ্রহণ করতে পারবে।
