জুড়ী সীমান্তে ৫২ বিজিবির কড়া নজরদারি
সাইফুল ইসলাম সুমন, জুড়ী (মৌলভীবাজার) থেকে
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
ছবি: কাগজ প্রতিবেদক
চলছে পবিত্র মাহে রমজান। পবিত্রতা, সংযম ও আত্মত্যাগের এ রমজান মাসে সবাই যখন পরিবার-পরিজনের সঙ্গে একসাথে ইফতার ও সেহরি করে ঠিক তখনই দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় নিজেদের জীবন বাজি রেখে নিরলস ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির সদস্যরা। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে চোরাচালান ঠেকাতে মৌলভীবাজারের জুড়ী সীমান্তে ৫২ বিজিবির টহল কড়া নজরদারি শুরু করেছে।
দেশের সীমান্ত রক্ষার শপথ নিয়ে সীমান্তে দিনরাত নিরলস টহলে নিয়োজিত রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি'র সদস্যরা। পবিত্র রমজানে রোজা রেখে সীমান্তে দায়িত্ব পালন যেন তাদের কাছে এক অন্যরকম অনুভূতি। রোজা রেখে তীব্র পিপাসা উপেক্ষা করেও দায়িত্ব পালনে তাদের চোখে- মুখে নেই ক্লান্তির ছাপ। কারণ তারা জানে, তাদের দায়িত্বশীল সতর্ক পাহারার উপরই নির্ভর করে দেশের নিরাপত্তা ও সীমান্তের শান্তি।
সীমান্ত শুধু একটি রেখা নয়, এটি একটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। যেখানে একটু দায়িত্ব অবহেলা করলেই নিমিষেই হতে পারে সীমান্ত অরক্ষিত এবং হুমকির মুখে পড়তে পারে দেশের নিরাপত্তা। তাই দিন-রাত, রোদ-বৃষ্টি, দুর্গম-বন- জঙ্গল ও পাহাড়ি রাস্তা কিংবা রমজানের রোজা—কোনো কিছুই তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সীমান্তের দুর্গম-বন-জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকাজুড়ে দায়িত্ব পালনরত ৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের গান্দাইল সীমান্ত ফাঁড়ীর সদস্যরা জানান, জীবনের বড় একটি সময় তারা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সাহরি ও ইফতার করেছেন। কিন্তু সীমান্ত রক্ষী বাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর থেকে সেই সুযোগ আর খুব একটা হয়ে ওঠে না। এখন তাদের বেশিরভাগ ইফতারই হয় সীমান্তের নির্জন পরিবেশে দায়িত্ব পালনের মাঝেই। তবুও তাদের কণ্ঠে নেই কোনো অভিযোগ। বরং রয়েছে তৃপ্তির সুর—কারণ তারা দেশের সীমান্ত পাহারা দিয়ে আগলে রাখছেন প্রিয় মাতৃভূমিকে।
রমজানে রোজা রেখে বিজিবি সদস্যদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে ৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান সুজন বলেন, পবিত্র রমজান মাসে সবাই যখন ইবাদত ও রোজা রেখে ব্যস্ত সময় পার করে তখন আমাদের বিজিবি সদস্যরা রোজা ও ইবাদতের মধ্যেও সীমান্তের নিরাপত্তায় কাজ করে যাচ্ছে। রোজা রেখেই টহলরত অবস্থায় করতে হচ্ছে ইফতার। রোজার ক্লান্তি থাকলেও, আমাদের দায়িত্ব পালনে কোন ক্লান্তি নেই। কারণ দেশের সীমান্ত রক্ষা হচ্ছে আমাদের সর্বপ্রথম এবং প্রধান অঙ্গীকার।
