আর্জেন্টিনার এবারের বিশ্বকাপ জেতার ২ ইঙ্গিত
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
ফাইল ছবি
প্রতিটি বিশ্বকাপের আগেই নানা রকমের ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়। কখনো জার্মানির পল অক্টোপাস, কখনো আরব আমিরাতের উট কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের চিড়িয়াখানার বিভিন্ন প্রাণীকে দিয়ে বাজি ধরা হয় যে কে জিতবে ফিফা বিশ্বকাপ।
এসব ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়ে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়, ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার বিশ্বকাপ জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট এবং নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিও।
তবে ফুটবল ইতিহাসের পরিসংখ্যান বা কাকতালীয় ঘটনা মাঝেমধ্যে ভবিষ্যদ্বাণীর পথ তৈরি করে দেয়। কখনো মিলে যায়, কখনো তা শুধু ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে তর্কবিতর্কে খোরাক জোগায়।
আর্জেন্টিনার সামনে তেমনই দুটি আলামত রয়েছে, যা দিয়ে মনে করা হচ্ছে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে যাচ্ছে আকাশি সাদা দলটি।
কী সেই ইঙ্গিত
এবার বিশ্বকাপ জয়ের তালিকায় আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল কিংবা নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে রাখছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। এসব দেশের অতীত ও বর্তমান শক্তিমত্তার কারণে ‘কেউ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান’ অবস্থা।
বেলগ্রানো ম্যাজিক
তবে আর্জেন্টিনার সামনে দুটি আলামত হাজির। তা হলো দেশটির পুরনো ক্লাব অ্যাটলেটিকো বেলগ্রানো শিরোপা জেতা ও প্রতি ১২ বছরের একটি চক্র। এসবের কোনো বিশষত্ব না থাকলেও আলোচনার টেবিলে গুরুত্ব রয়েছে।
২০২৬ সালে বেলগ্রানো তাদের প্রথম শীর্ষ স্তরের লিগ শিরোপা ঘরে তুলেছে। এবারসহ মোট চারবার শিরোপা জেতে ক্লাবটি। যদি ধরি, এর আগে তারা ১৯৮৬ সালে দুটি শিরোপা এবং ২০২২ সালে একটি শিরোপা জিতেছিল।
১৯৮৫-৮৬ সালে তোরনিও রেজিওনাল, একই সালে তোরনিও দেল ইন্তেরিওর, ২০২২ সালে প্রিমেরা নাসিওনাল (দ্বিতীয় বিভাগ), এবার প্রিমেরা দিভিসিওন (শীর্ষ লীগ) জয় করে।
কাকতালীয় ব্যাপার হলো, এই ক্লাবটি প্রতিবারই শিরোপা জেতার পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ফিফা বিশ্বকাপ জয় করেছে। দেখা যাক এবার তা কতটা সত্যি হয়।
১২ বছরের চক্র
দ্বিতীয় আলামত সম্পর্কে ইতোমধ্যে সবারই জানা। সেটি হলো ১২ বছরের প্যাটার্ন। অর্থাৎ যে দল একটি নির্দিষ্ট আসরে রানারআপ হয়েছে, ১২ বছর পর সেই দলটি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
যেমন ১৯৫০ সালে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে রানারআপ হয়েছিল ব্রাজিল। সেবার দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে। এর ১২ বছর পর ১৯৬২ সালের চিলিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল।
১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে রানারআপ হয়েছিল ইতালি। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। ১২ বছর পর ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি।
আবার ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে রানারপর হয়েছিল ইতালি। সেই ইতালি ২০০৬ সালে জার্মান বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আবার সেই ফ্রান্স ২০০৬ সালের রানারআপ হয়ে ১২ বছর পর ২০১৮ সালে রাশিয়ায় তাদের দ্বিতীয় শিরোপা জেতে।
একই পরিসংখ্যানে ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে রানারআপ হয়েছিল আর্জেন্টিনা। ঠিক ১২ বছর পর অর্থাৎ ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই চক্রের হিসাবে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেন মেসি-আলভারেজ-নিকো পাজরা।
তবে ১২ বছরের এই প্যাটার্ন সব সময় ধারাবাহিক নয়। এটির ব্যতিক্রম ঘটে অন্যান্য দেশও বিশ্বকাপ জিতেছে। যেমন ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডস রানারআপ হয়েও ২০২২ বিশ্বকাপ জেতেনি কিংবা ১৯৯৮ সালে ব্রাজিল রানারআপ হয়েও ২০১০ সালে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। সেই সূত্রে বলা যাচ্ছে না যে এবার আর্জেন্টিনাই বিশ্বকাপ জিতবে। আবার হতেও তো পারে।
