×

ধর্ম

পবিত্র রমজানে মহানবী (সা.)-এর অনুসরণীয় জীবনধারা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

পবিত্র রমজানে মহানবী (সা.)-এর অনুসরণীয় জীবনধারা

ছবি : সংগৃহীত

আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ইবাদতের বিশেষ সময় হলো পবিত্র রমজান। এ মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন মুসলিমরা। তাই এই সময়টিতে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাচরণ ও আমল সম্পর্কে জানার আগ্রহ বেড়ে যায় মুমিনদের মাঝে। তিনি কীভাবে সেহরি গ্রহণ করতেন, কীভাবে ইফতার করতেন এবং দিনের বাকি সময় কীভাবে ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাতেন—এসব বিষয়ই মুসলিমদের কাছে অনুকরণীয় ও শিক্ষণীয়।

রাসুল (সা.)-এর পবিত্র সুন্নাহর আলোকে রমজানে তার দৈনন্দিন রুটিন ও আমলের একটি চিত্র এখানে তুলে ধরা হলো।

সেহরি ও ফজরের প্রস্তুতি

মহানবী (সা.) রমজানে প্রতিদিনই রোজা রাখার নিয়ত করতেন এবং অত্যন্ত সাধারণ খাবারের মাধ্যমে সেহরি সম্পন্ন করতেন। কখনো সামান্য খাবার ও পানি, আবার কখনো শুধু কয়েকটি খেজুর খেয়েই তিনি সেহরি সারতেন।

সেহরি শেষে তিনি ফজরের সালাতের প্রস্তুতি নিতেন। বর্ণিত আছে যে, তার সেহরি গ্রহণ ও সালাতের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৫০টি আয়াত তিলাওয়াত করার মতো সময়।

সেহরির পর তিনি ঘরেই দুই রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করতেন এবং বেলাল (রা.) ইকামত দেওয়ার আগ পর্যন্ত ঘরেই অপেক্ষা করতেন। এরপর তিনি মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করতেন।

দিনের শুরু ও ইবাদত

ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত মহানবী (সা.) মসজিদে বসে আল্লাহর জিকিরে মগ্ন থাকতেন। সূর্যোদয়ের প্রায় ২০ মিনিট পর তিনি দুই রাকাত নামাজ (ইশরাক) আদায় করতেন। তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি এভাবে ইবাদত করবে, সে একটি পূর্ণ হজ ও ওমরাহর সওয়াব লাভ করবে।

পরিবারের সঙ্গে সময় ও সদাচার

মহানবী (সা.) রমজান মাসেও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি অত্যন্ত সদয় ছিলেন। তিনি ঘরের কাজে সহযোগিতা করতেন এবং স্ত্রীদের সঙ্গে সময় কাটাতেন। রোজা থাকা অবস্থায়ও তিনি স্ত্রীদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করতেন।

ইফতার ও মাগরিব

ইফতারের সময় মাগরিবের আজানের আগে মহানবী (সা.) দোয়া ও মোনাজাতে মশগুল হতেন। আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বিলম্ব না করে ইফতার করতেন।

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) মাগরিবের নামাজের আগে কয়েকটি তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তাজা খেজুর না থাকলে শুকনো খেজুর আর তাও না থাকলে তিন ঢোক পানি পান করে ইফতার শেষ করতেন। এরপর মাগরিবের ফরজ নামাজ আদায় করে ঘরে ফিরে সুন্নত নামাজ পড়তেন। এশা পর্যন্ত সময়টুকু তিনি তার স্ত্রীদের সঙ্গে কাটাতেন।

মহানবী (সা.) তিন রাত সাহাবিদের সঙ্গে নিয়ে জামাতে তারাবি আদায় করেছিলেন। কিন্তু পরে এটি উম্মতের ওপর ফরজ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তিনি ঘরেই নামাজ আদায় শুরু করেন।

আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, রমজান বা রমজানের বাইরে তিনি রাতে ১১ রাকাতের বেশি নামাজ পড়তেন না। তিনি অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে দীর্ঘ সময় নিয়ে এই নামাজ আদায় করতেন। রাতের শেষাংশে বিতর নামাজের আগে তিনি কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিতেন।

দানশীলতা ও তিলাওয়াত

রমজান মাস এলে মহানবী (সা.)-এর দানশীলতা বহু গুণ বেড়ে যেত। সাহাবিরা তার এই দানকে ‘প্রবহমান বাতাসের’ সঙ্গে তুলনা করতেন। অভাবীদের সহায়তায় তিনি ছিলেন ক্ষিপ্রগতির। এ ছাড়া পুরো মাসে তিনি প্রচুর কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দীর্ঘ সময় মোনাজাতে ব্যয় করতেন।

মহানবী (সা.) মাঝেমধ্যে বিরতিহীনভাবে রোজা রাখতেন (সওমে বিসাল)। তবে উম্মতকে এমনটি করতে নিষেধ করেছেন।

শেষ দশকের ইতেকাফ ও কদরের রাত

রমজানের শেষ ১০ দিন মহানবী (সা.) মসজিদে ইতেকাফ করতেন। তার ওফাতের বছর তিনি টানা ২০ দিন ইতেকাফ করেছিলেন। এই দিনগুলোতে তিনি সারা রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। বিশেষ করে শেষ ১০ দিনের বিজোড় রাতে তিনি লাইলাতুল কদর তালাশ করতে বলতেন।

আয়েশা (রা.)-কে তিনি কদরের রাতে এই দোয়াটি পড়তে শিখিয়েছিলেন, হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন।

রাসুল (সা.)-এর রমজানের এই রুটিন আমাদের শেখায় যে, রমজান শুধু খাওয়া-দাওয়ার উৎসব নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতের বসন্তকাল। তিনি একজন আদর্শ স্বামী ও নেতা হিসেবে পরিবারকে আল্লাহর পথে পরিচালিত করার যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অনুকরণীয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

মার্চে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৮, আহত ৯১২

মার্চে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৮, আহত ৯১২

বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা, আটক সৎ বাবা

বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা, আটক সৎ বাবা

বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে

প্রতিমন্ত্রী বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে

বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হলেন ড. আব্দুল মজিদ

বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হলেন ড. আব্দুল মজিদ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App