নারীসহ গ্রেপ্তার যুবদল নেতা
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নাটোরের গুরুদাসপুরে এক নারীসহ রেজাউল করিম (৪২) নামে এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৩ মে) রাতে উপজেলার হামলাইকোল গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ওই যুবদল নেতা নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রেজাউল করিম নিজ বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে হামলাইকোল গ্রামের এক নারীর বাড়িতে যান। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে ঘরটি ঘিরে ফেলেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই ঘটনাস্থলে শত শত মানুষ জড়ো হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আটক যুবদল নেতা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত এবং ওই বাড়িতে নিয়মিত মাদকের আসর বসত।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও ধারণ করেন। ওই ভিডিওতে নারীকে একটি সিগারেটের ভেতরে গাঁজা ভরতে এবং যুবদল নেতাকে তাকে টাকা দিতে দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে, পুলিশ ১৫১ ধারায় তাদের আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠালেও জব্দ তালিকায় কোনো মাদক বা টাকা উল্লেখ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
মনিরুল ইসলাম ও আল-আমিন নামের দুই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “ঘরের ভেতরে মাদক ও টাকার উপস্থিতি আমরা দেখেছি। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পুলিশ কোনো আলামত জব্দ করেনি।”
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, “গ্রামবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। তাই ১৫১ ধারায় আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
অন্যদিকে, আটক নারীর পরিবারের দাবি, গহনা বন্ধক সংক্রান্ত টাকার লেনদেন করতে গিয়ে তারা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রেজাউল করিমের বড় ভাই ও নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামছুল হক বলেন, “সক্রিয় রাজনীতি করার কারণেই আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে।
