প্রাক-বাজেট আলোচনায় মাহমুদুর রহমান
বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ফাঁদে পড়ার প্রয়োজন নেই
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অতীতের মতো অপ্রয়োজনীয় বা অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যয়ের ফাঁদে না পড়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় তিনি বলেন, অতীত সরকারের আমলে বড় বড় প্রকল্পের নামে বিপুল অর্থ অপচয় হয়েছে। তিনি পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল এবং বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের উদাহরণ টেনে বলেন, এসব ক্ষেত্রে ব্যয়ের তুলনায় প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক ফেরত বা রিটার্ন যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
মাহমুদুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের উচিত বাজেট বা উন্নয়ন ব্যয়ের আকার বাড়ানোর চেয়ে গুণগত মান নিশ্চিত করা। তার মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে না পারলে লিকেজ আরও বাড়বে। তাই প্রতিটি বিনিয়োগের আগে এর রিটার্ন বা ফলাফল যাচাই করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে অনিয়ম ও অপচয় রোধ করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাজেটের আকার বড় করাকে রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে দেখা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী বাজেট প্রসঙ্গে তিনি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষিখাতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, দেশে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি এবং সুদের হার বাড়িয়ে এটি নিয়ন্ত্রণ করা কার্যকর সমাধান নয়।
তিনি আরও বলেন, শ্রমনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য শিক্ষা খাতে সংস্কার জরুরি। পাশাপাশি কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে গ্রামীণ অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়বে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, অতীতে বড় প্রকল্পের নামে দুর্নীতি হলেও কর্মসংস্থান প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি। তিনি মনে করেন, কর্মসংস্থান তৈরিতে মূল ভূমিকা বেসরকারি খাতের, সরকারের ভূমিকা নীতিনির্ধারণে সীমিত থাকা উচিত।
অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে চাপের মধ্যে রয়েছে। তার মতে, ঋণ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ে চাপ, খেলাপি ঋণ ও শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট অর্থনীতিকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী, সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ, সাবেক সচিব ড. শরিফুল আলম জিন্নাহসহ বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক আবদুর রব এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম।
