অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাঁচ কর্মকৌশলের পরামর্শ : ইউএইচসি ফোরাম
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
কাগজ প্রতিবেদক : সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউএইচসি) ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে এখনো অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। ২০৩০ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৫টি কর্মকৌশলের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যে ৫ কর্মকৌশলের উপর জোর দেয়ার কথা বলা হয়েছে সেগুলো হলো- মহামারির সংক্রমণ ও ক্রমবর্ধমান অসংক্রামক রোগের বোঝা; জনসংখ্যা অনুপাতে নগরের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ঘাটতি; চিকিৎসা পেতে ব্যক্তি পর্যায়ের ক্রমাগত ব্যয় (আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার) বৃদ্ধি; জনস্বাস্থ্যের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং তা মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জনের প্রস্তুতি; জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে জনসম্পৃক্ততা।
গবেষণা সংস্থা পিপিআরসি (পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার) আয়োজিত এক পাবলিক ডায়ালগ অনুষ্ঠানে এই ৫ কৌশলের কথা জানানো হয়। গতকাল শনিবার সকালে সিরডাপ মিলনায়তনে এ ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়। দেশে মানসম্মত ও ব্যয়সাধ্য ইউএইচসি অর্জন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য খাতের নানা স্টেকহোল্ডারদের উপস্থিতিতে ‘ইউএইচসি ফোরাম’ শিরোনামের প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও পিপিআরসির চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান অনুষ্ঠানে একটি ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন। সেখানে নতুন ফোরামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরার পাশাপাশি নির্ধারিত ৫টি কৌশল কীভাবে অর্জন করা যাবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ, পথিকৃৎ ইনস্টিটিউট অব হেলথ স্টাডিজের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ ও অধ্যাপক ড. রুমানা হক, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এ এম এম নাসির উদ্দিন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি ডা. আবু জামিল ফয়সাল, সিএমইডির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক খন্দকার এ. মামুন।
ড. জিল্লুর রহমান তিনটি অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। সেগুলো হলো- ইউএইচসি অর্জনে বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনা; স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সংস্কার কর্মসূচিতে গতি ও বেগ আনার জন্য রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তাদীপ্ত কৌশল প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে ফলপ্রসূ মতবিনিময়; স্বাস্থ্যসম্মত জীবনপ্রণালী ও স্বাস্থ্য স্বাক্ষরতা বিস্তারে সর্বস্তরের জনসাধারণ বিশেষ করে তৃণমূল মফস্বল, স্কুলপর্যায়ে কার্যকর সামাজিক আন্দোলন। আসন্ন রমজানের আগেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে মতবিনিময়ের জোড়ালো প্রচেষ্টা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
