×

সাময়িকী

ইয়ুন উলাভ ফসের সাহিত্যকর্ম

Icon

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৩, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ইয়ুন উলাভ ফসের সাহিত্যকর্ম
সাহিত্যে নোবেল পেলেন স্ক্যান্ডিনেভিয়ান লেখক ইয়ুন উলাভ ফসে। তিনি এমন এক অসাধারণ দ্যুতিময় সাহিত্যিক- যার লিখন শৈলী সম্পূর্ণ রহস্যময়, স্বতন্ত্র, একান্ত নিজস্ব ও অনন্য, যা সাহিত্যাঙ্গনে ‘ফসে মিনিমালিজম’ নামে খ্যাত। যে কেউ তার বই পড়লে বুঝতে পারবেন, এটি অন্য কারো লেখা হতেই পারে না। চমকে দেয়ার মতো লিখন স্টাইলের অধিকারী তিনি। ১৯৫৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নরওয়ের পশ্চিম উপকূলের হাউগেসুন্ডের কাছে নির্জন ফার্মে জন্ম নেয়া ও স্ট্রান্ডের্বামে বেড়ে ওঠা বর্তমানে নরওয়ের অসলো ও অস্ট্রিয়ায় ভাগাভাগি করে বসবাসকারী এ লেখক তার ৬৪ বছরের জীবনে উপন্যাস, নাটক, কবিতা, অনুবাদ ও শিশু সাহিত্য মিলে ৭০টি বই লিখেছেন। এসব বইয়ের বেশির ভাগ অংশে তিনি বিপন্ন ও নিঃসঙ্গ মানুষের বলতে না পারা অনুচ্চারিত কথাগুলো নিয়ে বাঙময় হয়েছেন। তাদের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, দোদুল্যমানতা, নিরাপত্তাহীনতা, জীবন- মৃত্যুর প্রশ্নগুলোকে তিনি নিপুণ পারঙ্গমতায় ‘নৈকট্যের অনুভূতি’ স্পর্শে ছুঁয়ে গেছেন, যা পাঠক নির্বিশেষে ভাবনা- কেন্দ্রে নাড়া দেয়। তিনি শুধু পড়ার জন্য, গল্পের জন্য, তার বই না পড়তে বলেছেন। তার স্পষ্ট বয়ান, ‘শুধু গল্পের জন্য আমার বই পড়বেন না।’ নিজের সৃষ্টিকর্মের প্রতি কতটা আস্থাশীল হলে একজন লেখক এমন নিরুদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলতে পারেন, তা বুঝতে কারো কষ্ট হওয়ার কথা নয়। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি ইয়ুন ফসে’কে নোবেল পুরস্কার দিয়েছেন, ‘বলতে না পারা (মানুষের) অনুচ্চারিত সব কথা তার উদ্ভাবনী নাটক ও গদ্যে বাঙময় করার জন্য’। কিন্তু তার সামগ্রিক সৃজনকর্ম, স্বকীয় লিখন শৈলী এতই উচ্চমার্গের যে, কোনো একক লেখার জন্য তাকে নির্বাচিত করা সম্ভব হয়ে উঠেনি, যা অন্য নোবেল লরিয়েটদের বেলায় করা হয়। তার সাহিত্য বিবিধ শৈলীতে বিস্তৃত। ফলতঃ নোবেল কমিটি বলেছে, ‘একক কোনো লেখার জন্য নয়, তার রচিত বিপুল সাহিত্যকর্মের জন্যই পুরস্কারটি দেয়া হলো। কারণ তার সাহিত্যকর্মের ছোট তালিকা করা যায় না, সেটা করার চেষ্টাও অসম্ভব।’ ইয়ুন ফসে ১২ বছর বয়স থেকেই ছোট ছোট কবিতা ও ছোটগল্প লেখার মাধ্যমে লেখালেখি শুরু করেন, যদিও তার প্রথম বই প্রকাশিত হয় ১৯৮৩ সালে। ‘রাউথ, স্বার্ত’ (রেড, ব্ল্যাক) নামের প্রথম প্রকাশিত এই উপন্যাসটি আত্মহত্যার মনস্তাত্ত্বিক বিষয়-আশয় তুলে ধরা একটি বই, যা তার পরবর্তী সাহিত্যকর্মকে প্রভাবিত করে। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘সেপ্টোলজি’ (২০১৯, ২০২০, ২০২১), ‘স্টেংড গিটার’ ১৯৮৫ (ক্লোজ গিটার), ‘ডেট আর এলিস’-২০০৪ (এলিস অ্যাট দ্য ফায়ার), ‘ইন দ্য ব্ল্যাক ফরেস্ট ইনসাইড’ (২০২৩), ‘মেলাঙ্কলি’ ১ ও ২ (১৯৯৫- ১৯৯৬), ‘অ্যা শাইনিং মর্নিং অ্যান্ড ইভিনিং’ (২০০০), ‘বোট হাউস’ (১৯৮৯), ‘ব্লাড, দ্য স্টোন ইজ’ (১৯৮৭), লিড অ্যান্ড ওয়াটার (১৯৯২), ‘ওয়েইরফুলনেস’ (২০০৭) ইত্যাদি। কথাসাহিত্যে তার অন্যতম সাহিত্যকীর্তি হলো ‘সেপ্টোলজি’। তিন ভল্যুমে (দ্য আদার নেম-২০১৯, ইজ আই অ্যানেদার-২০২০, অ্যা নিউ নেম- ২০২১) প্রকাশিত ১২৫০ পৃষ্ঠার সাত পর্বে বিভক্ত এ আত্মজৈবনিক উপন্যাসটির তৃতীয় ভল্যুম ‘অ্যা নিউ নেম’ ২০২২ সালে বুকার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল। এর প্রথম ভল্যুম ‘দ্য আদার নেম’ প্রকাশের প্রথম বছরেই নরওয়েজিয়ান, ইংরেজি ও জার্মান ভাষায় প্রকাশিত হয়। দুর্দান্ত সব রিভিউসমৃদ্ধ বইটি পরে ১৪ ভাষায় অনূদিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। যিনি ‘সেপ্টোলজি’ পড়েননি, তিনি সাম্প্রতিক বিশ্বসাহিত্য সম্পর্কে অবহিত কিনা সন্দেহ! ২০১৩ সাল থেকে তিনি ‘সেপ্টোলজি’ লিখা শুরু করেন। সাত পর্বের উপন্যাসের এ সিরিজটি নরওয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে একা বসবাসকারী এক বৃদ্ধ চিত্রশিল্পী ‘অ্যাসলে’র জীবনকেন্দ্রিক, যিনি তার জীবনকে ফিরে দেখেছেন। সেখানে আরেক শহর জর্গভিনে বাস করা অন্য এক শিল্পী ‘অ্যাসলে’কে দেখানো হয়, যিনি মাদকাসক্ত। তাদের জীবনের দ্বৈরথে চলা টানাপড়েন এই উপন্যাসের উপজীব্য। অনেকে মনে করেন, এতে ইয়ুন ফসে নিজেই ‘অ্যাসলে’র অন্তরালে তার জীবন, পরিচয়, অস্তিত্বের মগ্নচিত্তের কাহিনি নিয়ে সমুপস্থিত হয়েছেন, চালিয়েছেন নানাবিধ পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হওয়া তার দ্বিতীয় উপন্যাস হলো ‘স্টেংড গিটার’ (ক্লোজ গিটার)। এর চরিত্রগুলো এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যে, যা পরিশেষে তাদের ‘অনিশ্চিত’ পথে টেনে নেয়, যার কোনো সমাধান নেই। তার ‘অ্যালিস অ্যাট দ্য ফায়ার’ (২০১০) পাঁচ প্রজন্মের বিয়োগাত্মক কাহিনি নিয়ে আবর্তিত, যেখানে মৃত্যু, বিষাদ, পারিবারিক বন্ধন, স্মৃতিচারণ ইত্যাদি বিষয় উঠে এসেছে। এ কাহিনির শুরুতে দেখা যায়, ‘সিংনে’ নামের এক বৃদ্ধা ঘরের ভেতর একটা বেঞ্চে শুয়ে তার মৃত স্বামীর কথা ভাবছে, যে স্বামী কি-না অন্ধকারে দাঁড়িয়ে তার সঙ্গে কথা বলছে। ফসে ‘ইন দ্য ব্ল্যাক ফরেস্ট ইনসাইড’ (২০২৩) উপন্যাসে এক ভবঘুরেকে নিয়ে লিখেন, যে দিক নির্ণয় করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। দেখা যায়, একসময় এ লোক অন্ধকারে গাড়ি চালিয়ে প্রলাপ বকতে বকতে অদৃশ্য হয়ে যায়। ইয়ুন ফসে’র উপন্যাস প্রকৃতই বড়ই অধরা, রহস্যময় ও মুগ্ধতায় ভরা। তার লেখা সম্পর্কে তার উপন্যাসের প্রকাশক জ্যাক টেস্টার্ড বলেন, ‘ফসে একজন অসাধারণ লেখক, যিনি উপন্যাসে একটি সম্পূর্ণ অনন্য পদ্ধতি খুঁজে পেয়েছেন। তার উপন্যাসগুলো মন্ত্রমুগ্ধকর, রহস্যময় এবং তার বেড়ে ওঠা পশ্চিম ফিয়র্ডগুলোর পরিবেশে সৃষ্টি।’ নাট্য সাহিত্যে ফসে এতই প্রতিভাদীপ্ত যে, অন্য সব পরিচিতিকে চাপিয়ে ‘নাট্যকার’ হিসেবেই তিনি বেশি খ্যাতিমান। নাটকের গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, এতে চরিত্র চিত্রন, ঘটনার বিন্যাস ও জীবন সত্যের উপস্থিতিকে বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপন করতে হয়। এতে কাহিনি, চরিত্র, সংলাপ, ভাবনা, দৃশ্য (সাজসজ্জা) ও নাচ-গান ইত্যাদি উপাদান থাকে, মূলত এগুলোর ওপরই নাট্যরসের সার্থক স্ফুরণ ঘটে। নাটকে শিল্পোকর্ষ থাকলে তা নাট্যমঞ্চে তো বটেই, এর বাইরে সাহিত্য হিসেবেও পাঠকের কাছে নন্দিত হয়। প্রকৃত অর্থেই এটা একটা দুরূহ সাহিত্য শিল্প, যা শেকসপিয়ার, ইবসেন, বার্নাড’শ এর মুগ্ধ করা নাটকে আমরা পাই। তো এ দিকটা মাথায় রেখেই ইয়ুন ফসে এগিয়েছেন, যার সংখ্যাগরিষ্ঠ ৪০টি বই-ই নাটকের। তার চমকে দেয়ার মতো অভিনব কায়দায় লেখা নাটকগুলো বঞ্চিত- নিঃসঙ্গ মানুষদের উজ্জীবিত করে। তার ১৯৯৪ সালে প্রথম প্রকাশিত নাটক ‘ওগ অলড্রি স্কাল ভি স্কিলজাস্ট’ (অ্যান্ড উইল নেভার বি পার্টেড) একই বছর বার্গেনের জাতীয় নাট্যশালায় মঞ্চস্থ হয়। এটি পুনরায় ১৯৯৯ সালে ফরাসি পরিচালক ক্লদ রেজি নাতেঁরেতে মঞ্চস্থ করার পর তিনি সাহিত্য আলোচনায় উঠে আসেন। ১৯৯৯ সালে প্যারিসে তার নাটক ‘নকন জে তিল অ্যা কোমে’ (কেউ কেউ আসছেন) এর সফল মঞ্চায়নের মাধ্যমে তিনি ইউরোপে নাট্যকার হিসেবে খ্যাতি পান। বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন নাট্যশালায় এ সময়ের সবচেয়ে বেশি মঞ্চস্থ হওয়া সফল নাটকের অন্যতম নাট্যকার তিনি। তাকে প্রখ্যাত নরওয়েজিয়ান নাট্যকার হেনরিক ইবসেন এবং নোবেলজয়ী নাট্যকার হ্যারল্ড পিন্টার, স্যামুয়েল বেকেটের সমপর্যায়ে সম্মানিত করা হয়। অনেক নাট্য সমালোচক তাকে ‘নব্য ইবসেন’ নামেও অভিহিত করেন। তার নাটক ‘সামওয়ান ইজ গোয়িং টু কাম’ এ বেকেটের নাটক ‘ওয়েটিং ফর গোডো’র প্রভাব লক্ষণীয়। হ্যারল্ড পিন্টারের মতো অভিনব, রহস্যময় তার নাট্যশৈলী, যা ‘পিন্টারেক্স’ নামে খ্যাত। শুধু স্বদেশে নয়, সারা বিশ্বে এক হাজারেরও বেশি বার তার নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। তার প্রশংসনীয় নাট্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘সামওয়ান ইজ গোয়িং টু কাম (১৯৯৬)’, ‘আই অ্যাম দ্য উইন্ড’ (২০০৭- অনুবাদ ২০১২), ‘দ্য ডেড ডগস্’ (২০০৪), ‘দ্য নেইম’ (১৯৯৫), ‘দ্য চাইল্ড’ (১৯৯৬), ‘মাদার অ্যান্ড চাইল্ড’ (১৯৯৭), ‘দ্য সন’ (১৯৯৭), ‘মর্নিং অ্যান্ড ইভিনিং’ (২০০০), ‘অ্যা সামারস ডে’ (১৯৯৯), ‘ড্রিম অব অটাম’ (১৯৯৯), ‘দ্য আইস’ (২০০৯) উল্লেখযোগ্য। তার নাটক ‘সামওয়ান ইজ গোয়িং টু কাম’ সবেমাত্র এক জীর্ণশীর্ণ বাড়িতে থাকতে আসা এক দম্পতিকে নিয়ে লেখা, যাতে বাড়িটিতে অন্যের উপস্থিতি টের পেয়ে মহিলাটি জবুথবু, অন্যদিকে পুরুষটি ঈর্ষায় কাতর। তারা পরস্পর ঘনিষ্ঠ, অথচ ভাবনা-চিন্তায় দুই মেরুর। উপন্যাসটি এগিয়েছে সদ্য সমুদ্রে স্বামী হারা এক নারী, কবরস্থান, বেশ্যা ইত্যকার বিভিন্ন জটিল ঘটনা পরম্পরায়। তার ‘দ্য ডেড ডগস্’ নাটকটি এক অসুখী যুবকের গল্প, এটি ২০০৫ সালে প্রথম মঞ্চায়িত হয়। তার উপন্যাসিকা ‘মড়নিং অ্যান্ড ইভিনিং’কে একটি চমৎকার গ্রন্থ হিসেবে নোবেল কমিটি উল্লেখ করেছেন। কবিতায়ও তিনি সমান পারঙ্গম। তার ১৩টি করিতার বই প্রকাশের কথা জানা যায়। প্রথম কবিতা বইটি বের হয় ১৯৮৬ সালে ‘ঊহমবষ সবফ াধঃহ র ধঁমবহব’ নামে। নাইনস্ক ভাষায় রচিত তার সব কবিতার বই। এসব থেকে নির্বাচিত কবিতা নিয়ে ২০১৪ সালে বেরুয় তার ইংরেজি কবিতার অনুবাদ গ্রন্থ ‘পয়েমস’। পাঠকের আগ্রহ বিবেচনায় সম্প্রতি অনূদিত তার দুটি কবিতাংশ তুলে ধরলাম: (০১) ‘এমন একটা পৃথিবী আছে যেটা হাট করে খুলে দেয় কালো পাতালের রাত আর দেহ- মন লুকিয়ে রাখে যতক্ষণ না বোধ করে কেউ অভাব’ — রাতের স্তোত্রগীত। (অনুবাদ - জ্যোর্তিময় নন্দী) । (০২) তুমি ও আমি/ তুমি ও চাঁদ / তুমি ও তারারা/ সম্ভবত লাশেদের উৎকট গন্ধের সম্মুখে পচছে / তাদের সীমাবদ্ধ ভূমিতে অন্যরা, / আমার মতো অথবা যারা পুড়ছে আশাহীনতায় / (ব্যথাহীন হাঁ অবশ্যই) / হ্যাঁ, মৃদুমন্দ বাতাসে একটি নৌকোর মতো। — মৃদুমন্দ বাতাসে একটি নৌকোর মতো। (অনুবাদ-আলমগীর মোহাম্মদ)। ইয়ুন ফসে নিজের নরওয়েজিয়ান ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি, জর্মন ও স্ক্যানডানেভীয় অন্যান্য ভাষাও জানতেন। কিন্তু অসাধারণ মনঃশক্তির অধিকারী, জেদী ও পরিশ্রমী এ লেখক দেশটির সবচেয়ে কম ব্যবহৃত ‘নাইনস্ক’ ভাষায় লেখালেখি করেন, যে ভাষায় দেশটির মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ কথা বলে। এত কম পরিচিত ভাষায় লেখালেখি করেও তিনি জনপ্রিয় লেখক হতে পেরেছেন মূলত তার লিখন শৈলীর অভিনবত্ব ও পাঠকের ভেতর ‘নৈকট্যের অনুভূতি’কে সঞ্চারিত করার পারঙ্গমতার নান্দনিক কৌশলের কারণে। এ কারণে তার লেখা বইগুলো বিশেষ বিবেচনায় নানা ভাষায় দ্রুতই অনূদিত হয়ে দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের ৫০টিরও অধিক ভাষায় তার বই অনূদিত হয়েছে। অখ্যাত এক ভাষার মূল লেখক হওয়া সত্ত্বেও তা বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি প্রধানত অনুবাদের কল্যাণে। তার কাজ দীর্ঘকাল ধরে ইউরোপে প্রশংসিত হয়েছে। ইংরেজিভাষী বিশ্বেও তার কদর কম নয়। এবার নোবেল প্রাপ্তি তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার পারদ সর্বোচ্চ মাত্রা পাবে নিঃসন্দেহে। ইয়ুন উলাভ ফসে সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন- এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। অনেক আগে থেকেই তিনি বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে মেধাবী জীবিত মানুষের একজন হিসেবে স্বীকৃত। নোবেল কমিটি তাকে স্যামুয়েল বেকেট, ফ্রানৎস কাফকা, টমাস বার্নহার্ড, জর্জ ট্রাকলের মতো প্রতিভাবানদের সঙ্গে এক করে দেখেছেন। নোবেল জয়ের অনেক আগেই নরওয়ের সবগুলো সাহিত্য পুরস্কার তার ঝুলিতে যোগ হয়েছে। এছাড়া তিনি ইবসেন প্রাইজ (১৯৯৬, ২০১০), ফ্রান্সের অর্ডার অব মেরিট পুরস্কার (২০০৩), সুইডিশ একাডেমি নরডিক প্রাইজ (২০০৭), ইউরোপিয়ান প্রাইজ ফর লিটারেচার (২০১৪) সহ অনেক পুরস্কার লাভ করেন এবং এ তালিকা বেশ দীর্ঘ। ২০১৩ সালে তিনি নোবেল পেয়েই যাচ্ছেন ধরে নেয়া হয়েছিল, বাজিকররা এ নিয়ে বাজিও ধরেছিল। যদিও সে বছর সাহিত্যে নোবেল জুটে কানাডার গল্পকার অ্যালিস মুনরো। নোবেল পুরস্কারের প্রাপ্তির ব্যাপারে তিনি নিজেও আশাবাদী ছিলেন। তিনি বলেন, ‘দশ বছর ধরেই আমি আলোচনায় ছিলাম এবং দশ বছর ধরেই নিজেকে কমবেশি সযতেœ প্রস্তুত করেছি যে এটা ঘটতে পারে।’

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

মার্চে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৮, আহত ৯১২

মার্চে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৮, আহত ৯১২

বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা, আটক সৎ বাবা

বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা, আটক সৎ বাবা

বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে

প্রতিমন্ত্রী বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে

বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হলেন ড. আব্দুল মজিদ

বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হলেন ড. আব্দুল মজিদ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App