×

এই জনপদ

সিলেটের জালালাবাদ পার্ক অপরাধীদের অভয়ারণ্য

Icon

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৩, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের জালালাবাদ পার্ক অপরাধীদের অভয়ারণ্য
খালেদ আহমদ, সিলেট থেকে : ঐতিহ্যের প্রতীক ক্বীনব্রিজের কাছে আর সার্কিট হাউসের দেয়াল ঘেঁষেই অবস্থান জালালাবাদ পার্কের। এটি সিলেট সিটি করপোরেশনের একমাত্র হাঁটাচলার উদ্যান। কিন্তু এটি এখন আর উদ্যান নেই। নেশাখোর, ছিনতাইকারী আর অসামাজিক কাজে জড়িতদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জালালাবাদ পার্ক এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্য। রাজধানী থেকে সিলেট শহরে প্রবেশ করে ঐতিহ্যবাহী ক্বীনব্রিজ দিয়ে সুরমা নদী পার হয়ে উত্তরপাড়ে গেলেই দেখা মেলে জালালাবাদ পার্কের। ১০ ফুট উঁচু সীমানা প্রাচীরের ওপর আরও আড়াই ফুট উঁচু কাঁটাতারের বেড়ায় ঘেরা প্রায় এক একর আয়তনের এই উদ্যানে ঘন সবুজের সমারোহ। কিন্তু বাইরে থেকে প্রথম দেখায় কারাগারের মতো দেখতে এই উদ্যানটি এখন নগরবাসীর কোনো কাজেই আসছে না। উঁচু দেয়ালঘেরা নির্জন উদ্যানে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে নগরবাসী এটি এড়িয়ে চলছেন। জঙ্গলে আচ্ছাদিত এই পার্কের প্রতি খেয়াল নেই সিটি করপোরেশনের। অথচ একটা সময় সকাল, দুপুর, বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় নগরবাসী সুযোগ পেলেই ঢু মারত জালালাবাদ পার্কে। শহরে আসা লোকজনও পার্কে বসে অবসর সময় কাটাতেন। সিলেটে আসা পর্যটকরা সুযোগ করে দেখে যেতেন জালালাবাদ পার্ক। ক্বীনব্রিজ, সার্কিটহাউস, আলী আমজদের ঘড়ি আর সুরমা নদীর তীরে ঘুরতে আসা বিনোদনপ্রেমীরা জালালাবাদ পার্কে গিয়েও সময় কাটাতেন। কিন্তু প্রায় ৫ বছর ধরে অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে পার্কটি। এর প্রতি নজর দেয়ার যেন কেউ নেই! সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পার্কের নির্জন স্থানে কিছু তরুণ-তরুণী এবং অবাঞ্ছিত নারী-পুরুষ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জালালাবাদ পার্কে বসে আছে। অথচ পাশেই বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি। গণউপদ্রব সৃষ্টিকারী এই লোকজনের কারণে উদ্যানটিকে এখন আড়চোখে দেখেন সাধারণ লোকজন। এ পরিস্থিতিতে বেশ কিছুদিন আগে নাগরিক সমাজের ব্যানারে উদ্যানটির উঁচু দেয়াল ভেঙে সাধারণের হাঁটাচলার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়। ওই সমাবেশে বক্তারা বলেন, উদ্যানটিকে নির্জন কারাগারের মতো করে সেখানে মাদক সেবন ও ‘অসামাজিক’ কাজের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব উদ্যানটি উন্মুক্ত করতে বক্তারা সিটি করপোরেশনের প্রতি আহ্বান জানান। কিন্তু কে শুনে কার কথা! সিলেট সিটি করপোরেশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাবেক সিলেট পৌরসভা প্রায় ৯৪ শতক জমিতে জালালাবাদ পার্ক গড়ে তোলে। শুরুতে উদ্যানটিতে সকাল-সন্ধ্যায় অনেকেই হাঁটতে যেতেন। তবে কিছুদিন যেতে না যেতেই অবহেলিত, অরক্ষিত উদ্যানটি অপরাধীদের কবলে চলে যায়। এ অবস্থায় তৎকালীন পৌর কর্তৃপক্ষ উদ্যানটি তালাবদ্ধ করে রাখে। এভাবে দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর ২০০৫ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন উদ্যানের জমিতে ১৬ তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এর প্রতিবাদে মাঠে নামে সাধারণ নাগরিক ও পরিবেশবাদীরা। ফলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় সিটি করপোরেশন। পরে ২০১০ সালে অবকাঠামোগত কিছু সংস্কার করে উদ্যানটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। অনেকেই সপরিবারে সেখানে ঘুরতে যেতেন। কিন্তু ২০১৬ সালে উদ্যানটি নিয়ে ফের নতুন সিদ্ধান্ত নেয় সিলেট সিটি কর্তৃপক্ষ। এটিকে শিশুপার্কে রূপান্তরের জন্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে উঁচু সীমানা প্রাচীর, প্রবেশ ফটক ও বিভিন্ন রাইড বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই সময় উদ্যানের পুরনো সীমানা প্রাচীর ভেঙে ১০ ফুট উঁচু প্রাচীর নির্মাণ করা হয় এবং সেই প্রাচীরের ওপর আরও প্রায় আড়াই ফুট উঁচু কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়। পাশাপাশি রাইড বসানোর জন্য কিছু পাকা স্থাপনার কাজ শুরু হয়। কিন্তু অর্থ সংকটে আটকে যায় সেই উন্নয়নকাজ। এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের আহ্বায়ক ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট নগরীতে হাঁটাচলার জন্য এটিই ছিল একমাত্র খোলা উদ্যান। কিন্তু সিটি কর্তৃপক্ষের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে উদ্যানটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে ‘কারাগার’ হয়ে আছে। উঁচু দেয়ালঘেরা নির্জন ০০উদ্যানে অপরাধমূলক নানা কর্মকাণ্ড চলছে। বাইরে থেকে উদ্যানটিকে অনেকটা ভুতুড়ে মনে হয়। এজন্য সাধারণ লোকজন উদ্যানের আশপাশে যেতেও ভয় পান, বিব্রত হন। দ্রুত উদ্যানটির উঁচু দেয়াল ভেঙে তা সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া প্রয়োজন।’ উদ্যানের এই দুর্দশার বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘উদ্যানটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে আমি নিজেও ক্ষুব্ধ-বিব্রত। তাই দ্রুতই এ ব্যাপারে একটি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’ তিনি আরো বলেন, ‘২০১৫ সালে আমি কারাগারে থাকার সময় এই উদ্যানকে শিশুপার্কে রূপান্তরের জন্য উঁচু দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছিল। সিদ্ধান্তটি যে ভুল ছিল, তা এখন প্রমাণিত। আমার তো আর সময় নেই। নতুন যিনি নির্বাচিত হয়েছেন বাকিটা তিনিই দেখবেন।” জালালাবাদ পার্কের কেয়ারটেকার দুলাল জানালেন, বিকালবেলা পার্কে নানা শ্রেণি- পেশার মানুষ এসে সময় কাটাতেন। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে পার্ক বন্ধ হলে এটি মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিণত হয়। সিসিকের নির্দেশে পার্কটি এখনও বন্ধ। তবে অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ. করা যাচ্ছে না। স্থানীয়রা বলেন, ব্যস্ত নগর জীবনে মানুষের দম ফেলার জায়গা নেই। এমনিতেই নগরীর ভিতরে বিনোদন স্পটের অভাব। এর মধ্যে এই জালালাবাদ পার্ক দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। ছুটির দিনে যতটুকুই সময় পাওয়া যায় এসব এলাকাতেই মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসেন। কিন্তু এটি বন্ধ থাকায় তাও সম্ভব হচ্ছে না। পার্কটি দ্রুত খুলে দেয়ার দাবি নগরবাসীর।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পাটোয়ারীর ওপর হামলা, ছাত্রদল নেতাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

পাটোয়ারীর ওপর হামলা, ছাত্রদল নেতাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

দেশের ৯ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

দেশের ৯ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে যে দলে খেলতে পারেন সাকিব

লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে যে দলে খেলতে পারেন সাকিব

কাল যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না

কাল যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App