টিপু হত্যা মামলা : মুসার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

আগের সংবাদ

ভিটাহীন সংসার, আকাশ মাথায় : বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো পানির নিচে, সিলেট-সুনামগঞ্জে নতুন করে বাড়ছে পানি

পরের সংবাদ

ঝিনাইগাতীতে বন্যায় চার শতাধিক বসতঘর বিধ্বস্ত

প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ২৮, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে দ্বিতীয় দফা বন্যায় ৪ শতাধিক বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। আর নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে গেছে ২৫টি বাড়িঘর।
জানা যায়, চলতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে বোরো ধান ঘরে তুলতে পারেননি তারা। সেই ক্ষত না শুকাতেই বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে গেছে বাড়িঘর। সব হারিয়ে অনেক পরিবার নিয়ে স্থানীয় বিদ্যালয়, মাদ্রাসা অথবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের রামেরকুড়া গ্রামের মহারশি নদীর বাঁধের পাশে একটি বাড়িতে বসবাস করতেন কৃষি শ্রমিক জয়নাল। পাহাড়ি ঢলে নদীতে বিলীন হয় তার বাড়ি। টিনের দোচালা বসতঘর, একটি রান্নাঘর, নলকূপসহ সব স্থাপনা গুঁড়িয়ে নিয়ে যায় সর্বনাশা ঢল। তার বাড়ির দিকে তাকালে মনে হয় যেন সুনামির তাণ্ডব হয়েছিল সেদিন। নারিকেল গাছের চারাসহ দুই-তিনটি গাছ ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই। আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে জয়নালের পরিবার। জয়নালের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক কষ্টে দিন কাটছে তাদের। সরকারি এক প্যাকেট শুকনা খাবার ছাড়া গত পাঁচ দিনে কিছুই জোটেনি। খালার বাড়িতেও সমস্যা। যে কোনো সময় চলে যেতে হবে। কিন্তু কোথায় যাবেন তিনি? এভেবেই তার চোখে মুখে ভর করে অন্ধকার। তার দাবি, মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করে দিক সরকার।
সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়া এলাকার দরিদ্র বাতু মিয়ার মাটির ঘরটি ভেঙে যায় ঢলে। এখন অসহায় অবস্থায় দিন পার করছেন তিনি। রামেরকুড়া গ্রামের কৃষক সোবাহানের ২টি বসতঘরই বিধ্বস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এক সপ্তাহ ধরে অন্যের বাড়ি ঘুমাই। সরকার ঘর ঠিক করে না দিলে আর ঘরে থাকার আশা নেই।
মহারশি নদীর বাঁধের পাশেই ছিল আবু হারেজের বাড়ি। পানির তোড়ে ২টি ঘর বিধ্বস্ত। উঠেছেন পাশের এলাকার একটি প্রতিবন্ধী স্কুলে। তার ভাষ্য, গত এক সপ্তাহে কেউ তাদের খোঁজ নেয়নি। কীভাবে বাড়িঘর মেরামত করবেন এই ভেবে দিশাহারা তিনি। কোনো কাজ নেই। খাবারই জোগাড় করতে পারছেন না, ঘর কীভাবে মেরামত করবেন?
ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদৎ হোসেন জানান, তার ইউনিয়নে কমপক্ষে ৮০টি বাড়িঘর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ভোগে রয়েছেন গৃহহীন মানুষ। ধানশাইল ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের দাবি, তার ইউনিয়নের ৮-১০টি বসতঘর পড়ে গেছে এবং শতাধিক বাড়িঘরের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। কাংশা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট দুই দফা বন্যায় তার ইউনিয়নের ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মালিঝিকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হকের দাবি, বন্যায় ২০-২৫টি বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে তার ইউনিয়নে।
এছাড়া হাতিবান্দা ইউনিয়নে ১৫-২০ বাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত এবং চারটি বাড়ি ভেসে গেছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম।
এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক আল মাসুদ বলেন, পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় উপজেলার ১ হাজার ৩০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দপ্তরে পাঠানো হবে। তার ভাষ্য, এখন পর্যন্ত ২৫ ব্যক্তি বসতঘর নষ্ট হওয়ার বিষয়ে আবেদন করেছেন। পূর্ণাঙ্গ তালিকা করে তাদের ঢেউটিন ও নগদ অর্থ দেয়া হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়