নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের গণবিজ্ঞপ্তি

আগের সংবাদ

অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার : অভিযানে বন্ধ অনেক প্রতিষ্ঠান

পরের সংবাদ

ফলন ভালো হলেও দাম নিয়ে হতাশ লিচুচাষিরা

প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২৮, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

মোস্তাক আহমেদ কিরণ, ঈশ্বরদী (পাবনা) থেকে : লিচুর রাজধানীখ্যাত ঈশ্বরদীর বাজারে উঠতে শুরু করেছে লিচু। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। বেচাকেনাও জমেছে দেশের সবচেয়ে বড় লিচুর হাট জয়নগরে। তবে দাম নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন ঈশ্বরদীর লিচুচাষিরা। দাম কম থাকায় আশানুরূপ লাভবান হবে না বলে জানান চাষিরা।
গতকাল রবিবার সরজমিন ঈশ্বরদীর লিচু বাগানগুলো ঘুরে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি বাগান চোখে পড়েছে উপজেলার চরমিরকামারী, মিরকামারী, বক্তারপুর, জগন্নাথপুর, জয়নগর, মানিকনগর, আওতাপাড়া, সাহাপুর ও বাঁশেবাদা এলাকায়। টুকটুকে লাল লিচুতে রঙিন হয়ে আছে চারপাশ।
লিচু বেচাকেনার জন্য অস্থায়ী হাট বসেছে উপজেলার জয়নগর, শিমুলতলা, আওতাপাড়া ও সিলিমপুর এলাকায়। মাঝরাত থেকে ভোর পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে লিচু কিনছেন। ট্রাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। বর্তমান পাইকারি বাজারে প্রতি হাজার দেশি লিচু মানভেদে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অল্প স্বল্প বোম্বাই লিচু মিললেও তা বিক্রি হচ্ছে প্রতি হাজার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে। লিচুচাষি এনামুল মাস্টার বলেন, এ বছর লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। তবে দামটা পেলে লাভবান হতো লিচুচাষিরা। শেখের দাইড় গ্রামের লিচু ব্যবসায়ী রিয়াজ বলেন, ঈশ্বরদীর লিচু বেশ সুস্বাদু। ফলে দেশব্যাপী এর চাহিদা রয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলার মোকামে লিচু পাঠানো শুরু হয়েছে। চরমিরকামারী গ্রামের লিচুচাষি আহমাদুল্লাহ মিলন বলেন, এবার দেশি লিচু আকারে কিছুটা ছোট হয়েছে। তীব্র খরার কারণে এমন হয়েছে। পাইকারি ক্রেতারা লিচুর দাম কম বলছেন। এত কম দামে লিচু বিক্রি করলে আমাদের লাভ হবে না। প্রতি বছর জয়নগর হাটে লিচু কিনতে আসেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, এখানকার লিচু খুব সুস্বাদু। এজন্য ক্রেতাদের কাছে চাহিদা বেশি। তবে এখনো বোম্বাই জাতের লিচু হাটে কম। তুলনামূলক দামও এ হাটে কম। জয়নগর লিচু হাটের ইজারাদার কামাল হোসেন জানান, গত ৫ মে থেকে হাটে লিচু উঠতে শুরু করেছে। এখনো এক মাসের বেশি হাট চলবে। বোম্বাই ও চায়না জাতের লিচুও হাটে তুলছেন বিক্রেতারা। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত লিচুচাষি কিতাব মণ্ডল বলেন, দেশের সবচেয়ে বেশি লিচুর আবাদ হয় ঈশ্বরদীতে। এখানকার লিচু অত্যন্ত সুস্বাদু। সেজন্য দেশজুড়ে এ লিচুর সুনাম রয়েছে। গত দুই বছর লিচুর আবাদ তুলনামূলক খারাপ ছিল। এবার ফলন ভালো হয়েছে। দেশি (আটি) লিচু বাজারে এসেছে কিন্তু দাম বেশ কম। প্রতি বছর ঈশ্বরদীতে ৩৫০-৪০০ কোটি টাকার লিচু উৎপাদন হয়।
লিচুচাষি ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার ফলে লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার লিচুর আবাদ বেড়েছে। ঈশ্বরদীতে ৩ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে এ বছর লিচুর আবাদ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৮০০ হেক্টর জমি লিচু চাষের আওতায় এসেছে। প্রতি বছর এখানে ২০-২৫ হাজার টন লিচু উৎপাদন হয়। টাকার হিসাবে প্রতি বছর প্রায় ৫০০ কোটি টাকারও বেশি লিচু ঈশ্বরদীতে বিক্রি হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। ঈশ্বরদীতে বোম্বাই ও চায়না জাতের লিচুর আবাদ সবচেয়ে বেশি । বড় কোনো বিপর্যয় না হলে শুধু ঈশ্বরদী উপজেলায় এবার ৫০০ কোটি টাকার লিচুর বাণিজ্য হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়