লাইসেন্স ছাড়াই ৭ বছর ট্রাক চালায় জসিম

আগের সংবাদ

ফাইভ-জিতে অনাগ্রহ কেন : তরঙ্গ নিলামের শর্ত ও নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি > ‘বুঝে-শুনে আগে বাড়তে চায় বেসরকারি অপারেটররা

পরের সংবাদ

চট্টগ্রামকে হারের স্বাদ দিল খুলনা : ম্যাচসেরা আন্দ্রে ফ্লেচার

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৯, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) গতকাল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ও খুলনা টাইগার্সের ম্যাচ দিয়ে চট্টগ্রাম পর্ব শুরু হয়েছে। শুক্রবার দিনের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে খুলনা টাইগার্স। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিং করে স্বাগতিক চট্টগ্রাম। আফিফ হোসাইনের ব্যাটে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান সংগ্রহ করে মেহেদি হাসান মিরাজের দল। ১৪৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খেলতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি খুলনা টাইগার্সের। তার পরও ফ্লেচার এবং মুশফিকুর রহিমের ব্যাটিং দৃঢ়তায় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে খুলনা।
চট্টগ্রাম পর্ব শুরুর আগে মুশফিকুর রহিম কথা দিয়েছিলেন, বড় রান করে দলের জয়ে অবদান রাখতে চান। এক দিন না যেতেই সেই কথা রেখেছেন, অপরাজিত থেকে খুলনা টাইগার্সকে জিতিয়ে তবে মাঠ ছেড়েছেন। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে তাদেরই মাঠে মুশফিকরা জয় পেয়েছেন হেসেখেলে। স্বাগতিক চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ১৪৩ রান তাড়া করতে নেমে ৬ উইকেট হাতে রেখে ৭ বল আগেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় খুলনা। সর্বোচ্চ ৫৮ রান করেন আন্দ্রে ফ্লেচার। মুশফিকুর রহিম অপরাজিত ছিলেন ৩০ বলে ৪৪ রান করে। ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে ফ্লেচারের হাতে। গতকাল করোনা মুক্ত হয়ে মাঠে ফিরে দলীয় ২ রানের মাথায় শরিফুল ইসলামের বলে সাজঘরে ফিরেন সৌম্য সরকার। এরপর হাল ধরেন আন্দ্রে ফ্লেচার ও রনি তালুকদার। ১৮ বলে ১৭ রান করার রনিকে আউট করে চট্টগ্রাম শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়ে আনেন নাসুম আহমেদ। ৫২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে দল যখন চাপে সে মুহূর্তে আন্দ্রে ফ্লেচারের সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় উইকেটে এ জুটি ৪৬ রান তোলেন। আন্দ্রে ফ্লেচার ৪৩ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। সে পর্যন্ত ৪৭ বলে ৫৮ রান করা ফ্লেচারকে থামান অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ফ্লেচারের ইনিংসে ৬টি বাউন্ডারি এবং ২ ছক্কার মার ছিল। ফ্লেচারের বিদায়ের পর মুশফিকুর রহিম সেকুগে প্রসন্নকে নিয়ে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলেন। প্রসন্ন ১৫ বলে ২৩ রান করে মিরাজের বলে আউট হন। শেষ পর্যন্ত ১৮.৫ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রান সংগ্রহ করে খুলনা টাইগার্স। ৬ উইকেটে চট্টগ্রামকে হারানোর মধ্য দিয়ে ৩ ম্যাচ থেকে ২ জয় তুলে নিতে সক্ষম হয় মুশফিকের খুলনা। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ৩০ বল থেকে ৪৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। চট্টগ্রামের হয়ে মিরাজ ২টি এবং নাসুম ও শরিফুল ইসলাম একটি করে উইকেট লাভ করেন।
ডিআরএস প্রযুক্তি আসার আগে মূলত এডিআরএস ব্যবহার করা হতো। এখানে শেডেড এরিয়ার মাধ্যমে দেখানো হবে বল কোথায় পিচ করে এবং বলের ইমপ্যাক্ট কোথায় ছিল। এছাড়া বল উইকেটে হিট করছিল কিনা সেটা দেখতে স্বচ্ছ চিত্র ধারণ করা হবে। আল্ট্রা এজ ও স্নিকোমিটার না থাকায় স্টাম্প মাইকের আওয়াজ এবং টিভি রিপ্লে দেখে তৃতীয় আম্পায়ার মূলত এই সিদ্ধান্ত দেবেন। অনফিল্ড আম্পায়ারের পাশাপাশি তারও বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। ঢাকায় প্রথম পর্বের ৮ ম্যাচে আম্পায়ারদের কিছু সিদ্ধান্ত ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তাই চট্টগ্রাম পর্ব থেকে এডিআরএস পদ্ধতির ব্যবহার শুরু করেছে বিসিবি।
কোভিডের কারণে বিপিএলে ডিআরএস টেকনিশিয়ানদের আনতে পারেনি বিসিবি। তাই বিকল্প একটি পদ্ধতি কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। চট্টগ্রাম পর্বের শুরু থেকেই ব্যবহার করা হবে অল্টারনেটিভ ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (এডিআরএস)। এখানেও সর্বোচ্চ দুটি অসফল রিভিউ নিতে পারবে প্রতি দল। এজন্য সময় পাবে ১৫ সেকেন্ড। তবে ডিআরএসের মতো এখানে সব কিছুর চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না। শুধু এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেই রিভিউ নেয়া যাবে। চট্টগ্রাম পর্ব থেকে শুরু হয়েছে ডিআরএসের বিকল্প পদ্ধতি এডিআরএস। ইনিংসের প্রথম বলই পায়ে লাগে কেনার লুইসের। তবে এই বলে রিভিউ নেননি মুশফিকরা। লুইস অবশ্য ৫ বলে ১ রানের বেশি করতে পারেননি। দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন উইল জ্যাকস ও আফিফ হোসেন। দুজনের জুটি থেকে আসে ৫৫ রান। জ্যাকস ২৩ বলে ২৮ রান করে আউট হলে ভাঙে এই জুটি। দারুণ খেলতে থাকা আফিফ আউট হন একেবারে বাউন্ডারি লাইনের কাছে। বোলার মেহেদীর মাথার ওপর দিয়ে মেরেছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৩৭ বলে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন তিনি। মাঝে সাব্বির রহমান (৪) মেহেদি হাসান মিরাজ (৬) ও বেনি হাওয়েল (৫) শামীম পাটোয়ারি (২) ফেরেন দুই অঙ্কের ঘর ছোঁয়ার আগেই। শেষ দিকে ১৯ বলে ২৫ রানের ইনিংস খেলেন নাঈম ইসলাম। চট্টগ্রামের হয়ে দারুণ বোলিং করেছেন থিসারা পেরারা। ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে তিনি নেন ৩ উইকেট। ১টি করে উইকেট নেন কামরুল ইসলাম, নাবিল সামাদ, মেহেদি হাসান, সেকুগা প্রসন্না ও ফরহাদ রেজা।
অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরুর পর এই প্রথম কোনো ক্রিকেটার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। চট্টগ্রামে এসে মিনিস্টার ঢাকার শ্রীলঙ্কার অলরাউন্ডার ইসুরু উদানা করোনা পজিটিভ হয়েছেন। তিনি এখন বিপিএলের মেডিকেল বিভাগের পর্যবেক্ষণে আছেন। বৃহস্পতিবার টেস্ট করালে উদানার করোনা পজিটিভ আসে। শুক্রবার এক বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মিনিস্টার ঢাকা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মিনিস্টার ঢাকার বাঁহাতি পেসার ইসুরু উদানা করোনা পজিটিভ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার তার টেস্ট করা হয়। বিপিএলের নিয়নুযায়ী উদানা এখন আইসোলেশনে। তিনি বিপিএল মেডিকেল টিমের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে আছেন।’
উদানার পরিবর্তে ঢাকার একাদশে খেলছেন কায়েস আহমেদ। বিপিএল শুরুর আগে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। নুরুল হাসান সোহান, সৌম্য সরকাররা আক্রান্ত হওয়ার পর এরই মধ্যে করোনামুক্ত হয়ে মাঠে ফিরেছেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়