নাসির-তামিমার বিয়েকাণ্ডে মামলা : অভিযোগ গঠনের আদেশ ৯ ফেব্রুয়ারি

আগের সংবাদ

ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন চূড়ান্ত : যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন তথ্য, আইসোলেশনের সময়সীমা ৫ দিনের বেশি চান বিশেষজ্ঞরা

পরের সংবাদ

জরিমানা আদায় : মিরপুরে শতাধিক অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলীবাগ এলাকায় অবৈধ গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা জেলা প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান চালিয়েছে। বহুতল ভবনের ভেতরে গ্যাসের সিলিন্ডার রাখা হলেও প্রকৃতপক্ষে এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছিল না। গোপনে পাইপলাইন থেকে অবৈধ সংযোগ নিয়ে গ্যাস ব্যবহার করা হতো। গতকাল মঙ্গলবার এমন শতাধিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তিতাসের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এই অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে তিতাসের কর্মকর্তারা তা অস্বীকার করেছেন।
জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিতাস কর্তৃপক্ষ মিরপুর-১ নম্বর সেকশনের শাহ আলীবাগ এলাকায় অবৈধ গ্যাসের সংযোগের বিষয়টি জানতে পারে। এরপরই গতকাল তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা জেলা প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। অভিযানকালে দেখা যায় একটি বহুতল ভবনের সামনে বেশ কয়েকটি বড় গ্যাস সিলিন্ডার রাখা হয়েছে। সিলিন্ডারগুলো দেখে সবার মনে হবে এই ভবনে তিতাসের পাইপলাইনের গ্যাসের সংযোগ নেই, তাই ভবনের বাসিন্দারা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করছে। কিন্তু বাস্তব অবস্থা হলো, এই সিলিন্ডারগুলো কেউ ব্যবহার করে না। লোক দেখানোর জন্যই সেগুলো রাখা হয়েছে ভবনের নিচে। প্রকৃতপক্ষে অবৈধভাবে তিতাসের পাইপলাইনের সংযোগ নেয়া হয়েছে। সবার নজর এড়িয়ে ভবনের ৩৮টি ফ্ল্যাটে অবৈধ গ্যাস লাইনের সংযোগ নেয়া হয়েছে।
ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসির আরাফাত জানান, ভবনের যেখান থেকে পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ নেয়া হয়েছে, সেখানে বড় বড় গ্যাস সিলিন্ডার রেখে দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে এভাবেই ভবনের ৩৮টি ফ্ল্যাটে অবৈধভাবে তিতাসের গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে কেউ বিষয়টি বুঝতে পারেনি। ভবনের বাসিন্দারা সবাই এভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু এখন তারা বলছে সংযোগের বিষয়টি তারা জানত না।
তিনি আরো বলেন, এই ভবনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং অবৈধ সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অপর একটি ভবনকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে শতাধিক অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
জানা যায়, এর আগেও মিরপুর এলাকায় দুই দফায় অভিযান চালানো হয়েছে। তখনো অনেক অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এবার এই এলাকায় তৃতীয় দফায় অভিযান চালানো হলো। একই কৌশলে মিরপুরের অধিকাংশ বহুতল ভবনগুলোতে বাসিন্দারা অবৈধভাবে তিতাসের পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহার করছে।
ভবনগুলোর বাসিন্দারা দাবি করেন, তারা এই অবৈধ সংযোগের ব্যাপারে কিছুই জানেন না। ডেভেলপার কোম্পানির কাছ থেকে তারা ফ্ল্যাট কিনেছেন। তখন বলা হয়েছিল সব ফ্ল্যাটে গ্যাসের বৈধ সংযোগ রয়েছে। এই দায় ডেভেলপার কোম্পানির।
এক ভবন মালিক বলেন, ডেভেলপার কোম্পানির মাধ্যমে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ডেভেলপার কোম্পানি আমাদের ফাঁসিয়ে দিয়েছে। অপর এক ফ্ল্যাট মালিক বলেন, আমরা তো ডেভেলপার কোম্পানির কাছ থেকে ফ্ল্যাট নিয়েছি। তাদের আমরা প্রতিনিয়ত তাগাদা দিয়েছি। আরেক ফ্ল্যাট মালিক জানান, গ্যাস সংযোগ কয়েকবার কেটে দিয়েছিল। আবার দেয়া হয়েছে। আবার কখনো কখনো বাড়ির মালিক জানান দিনের কোনো একটা সময় গ্যাস থাকবে না। আমাদের নোটিস দেয়া হয়।
এদিকে, অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়ার পেছনে তিতাসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ নতুন নয়। ভবন মালিকরা অভিযোগ করেন, তিতাসের কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই তারা এ লাইন নিয়েছেন। তবে অভিযানে উপস্থিত তিতাসের কর্মকর্তারা বলেন, তিতাসের কেউ অবৈধ সংযোগ দেয়ার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। দোষ পাওয়া গেলে চাকরিচ্যতও করা হয়। কোনো গ্রাহক সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে পারেনি। তারা মিথ্যা অভিযোগ করছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়