ঢামেকে আগুন আতঙ্ক, রোগীর স্বজনদের ছুটাছুটি

আগের সংবাদ

কড়া নির্দেশনা কার্যকরে ঢিলেমি

পরের সংবাদ

শিং মাছ পুতুল ও শাড়িবৃত্তান্ত

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২১, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২১, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

ঘড়ির কাঁটায় ঠিক ৮টা। এখনই জমিলাকে বিছানা ছেড়ে উঠতে হবে। অন্যের বাসায় বাসায় কাজ করতে করতেই চলে যায় সারা দিন। রাতে যখন বিছানায় পিঠ এলিয়ে দেয়, রাজ্যের ক্লান্তি এসে ভর করে; চোখের পাতা নিমেষেই বুজে আসে তার। সকালে চোখ মেলে তাকালে সমস্ত শরীর ব্যথায় টনটন করে, উঠতে ইচ্ছা হয় না আর। কিন্তু পেট চালাতে হলে মেহনত তো করাই লাগবে। তার তিন কূলে এমন কেউ নেই যে তাকে এক বেলা খাওয়াবে। তাই শরীরের আহ্লাদকে কখনো প্রশ্রয় দেয় না সে। ছোটবেলায় মা-বাবা হারিয়ে ভাই-ভাবিদের কাছে মানুষ। ১৭ বছর পর্যন্ত তারা তাকে গলগ্রহ হিসেবেই টেনে নিয়েছে, তারপর একদিন হারুনের গলায় জমিলাকে ঝুলিয়ে দিয়ে তারা হাঁপ ছেড়ে বাঁচল।
ঢাকার এক গার্মেন্টসে কাজ করে হারুন; জমিলাও বিয়ের পর চলে এলো ঢাকায়। শুরু করল বাসায় বাসায় ঠিকা বুয়ার কাজ। বিবাহিত জীবনের ৫ বছর পার হয়ে যায়, জমিলার কোনো সন্তান হয় না। দেখতেও সে আহামরি সুন্দর নয়, তার ওপর জুটল এ নতুন অপবাদ। বস্তিতে একটা ঘরের গায়ে অন্য ঘর লেপ্টে থাকায় ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছুই নেই। প্রত্যেকেই একে অন্যের সংসারে নাক গলায়; এ যেন এখানকার মানুষের জন্মগত অধিকার। হারুনের কান ভারি করার লোকেরও অভাব হয় না। একদিন সে নতুন বউ নিয়ে হাজির হলো। বিপরীতে, জমিলার আর সেই সংসারে ঠাঁই হলো না। আইন-আদালত, থানা-পুলিশের ঝামেলায় যেতে চায়নি জমিলা। এগুলো করে কী লাভ? প্রচুর টাকাপয়সা লাগে এসবে; জমিলা অনর্থক খরচ করতে চায়নি। তাছাড়া তার জীবনে যা ঘটেছে, বস্তিতে আকছার ঘটে এমন। নিতান্তই স্বাভাবিক ঘটনা বলেই সে মেনে নেয় সব। যার মন থেকে জমিলা উঠে গেছে, তাকে জোর করে আঁচলে বেঁধে রাখার চিন্তা করাটা নিতান্তই ভুল। হারুনের সংসার থেকে এককাপড়ে বের হয়ে বস্তির নতুন ঘরে ওঠে জমিলা। দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগ্রহ আর জন্মায়নি। দুই বাসায় কাজের শেষে সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে টেলিভিশনের স্টার জলসায় ডুব দেয় জমিলা। তারপর টুকটাক কাজ, খাওয়া, ঘুম- এভাবেই নিজের মতো চলে যাচ্ছে দিন।
জমিলা তক্তপোশ ছেড়ে উঠে পড়েছে। হাত-মুখ ধুয়ে চুলায় ভাত চাপায়। ভাতের মধ্যে ডুবিয়ে দেয় কয়েক ফালি আলু। সকালবেলা পেট ভরে ভাত খেলে সারা দিন আর তেমন খিদা লাগে না তার। তাতে খরচ ও সময় দুটোই বেঁচে যায়। কোনো কোনো দিন কাজে গেলে কেউ আবার টুকটাক নাশতা দেয়; সেটা তার উপরি পাওনা। আলুর সঙ্গে কামরাঙা মরিচ ডলে ডলে পেটের মধ্যে এক থালা ভাত ঢুকিয়ে রোজকার কাজে বের হয় জমিলা। প্রথম গন্তব্য ‘তানিয়া ভাবির’ বাসা। ভাবির বাসায় ঝামেলা কম। ভাইয়া, ভাবি আর তাদের ৬ বছরের সন্তান। বাসাও বেশ ছোট। সেই অনুপাতে টাকা ভালোই দেয় তারা। ভাইয়া সকালে অফিসে চলে গেলে জমিলা কাজে ঢোকে। ভাবি সারাক্ষণ মোবাইল টিপাটিপি করে আর ছেলেটা নিজের মতো খেলে বেড়ায়। জমিলার ভালো লাগে অন্য বাসার মতো তানিয়া ভাবি জমিলার পেছন পেছন ঘুরঘুর করে না। স্বাধীনভাবে কাজ করে এই বাসায় বেশ শান্তি মেলে তার। ঠিক ১০টায় তানিয়া ভাবির ডোরবেল বাজায় জমিলা। ভাবি দরজা খুলে কেমন অস্থির চোখে তাকায়।
-জমিলা, তাড়াতাড়ি বারান্দায় আসো।
-কী হইছে ভাবি?
-দেখো তো, আমার ফুলগাছের টবের মধ্যে এটা কী? আমি সকালে ফুলগাছে পানি দিতে গিয়ে দেখলাম। তোমার ভাইয়া তখন অফিসে চলে গেছে। তাই তোমার অপেক্ষায় ছিলাম।
কালো একটা জিনিস হাত দিয়ে তুলে ওপরে ওঠায় জমিলা।
-ভাবি, এইডা তো শিং মাছ, শুকাইয়া কাঠ হইয়া রইছে।
-শিং মাছ! আজব! ফুলের টবে শিং মাছ এলো কীভাবে! তুমি তো জানোই আমার বাসায় অনেক দিন ধরেই কোনো শিং মাছ নেই।
-বুঝতেছি না তো, ভাবি।
তানিয়া ভাবির চোখমুখ নিমেষেই শুকিয়ে গেল।
জমিলা এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে বাথরুমে কাপড় ভেজাতে চলে গেল। সময় নেই তার। এক বাসায় দেরি হলেই অন্য বাসা থেকে ফোন আসতে শুরু করে। তারপর দেরি করার জন্য শুনতে হয় নানা কথা। খেটে খাওয়া নিঃস্ব মানুষদের সবকিছুতেই দোষ ধরে বড়লোকেরা। বাথরুম থেকে কানে এসে পৌঁছায় তানিয়া ভাবির গলা, ফোনে কথা বলছে ভাইয়ার সঙ্গে।
-কী অদ্ভুত ব্যাপার শুভ! এটা কীভাবে সম্ভব? আমি প্রতিদিন গাছে পানি দিই, গতকাল সকালেও চোখে পড়ল না। না না, কাক নিয়ে আসার কথা বলছ, তা কীভাবে সম্ভব! কাক, এই পাঁচতলার ছোট গ্রিল টপকে বারান্দার টবে এনে কী করে ফেলবে? অসম্ভব!
জমিলা অভ্যস্ত হাতে নিজের কাজগুলো একের পর এক শেষ করতে থাকে। তানিয়া ভাবি আজ বড্ড অস্থির। ছেলেটার চোখমুখও শুকিয়ে গিয়েছে ভয়ে। একটা সময় তানিয়া ভাবি আবার জমিলার পাশে এসে দাঁড়ায়। জমিলা বারান্দার দড়িতে কাপড় শুকাতে দিচ্ছিল। ভাবির ডাকে পেছন ফিরে তাকায়।
-জমিলা, তোমার ভাইয়া বলেছে কাক এনে ফেলেছে মাছটা।
-হ, ফালাইতে পারে।
-কিন্তু আমার খুব ভয় লাগছে। আমি আর বাসায় শিং মাছ আনব না। দেখলেই গা কাঁটা দিয়ে উঠবে, খেতে পারব না।
-ডরাইয়েন না, ভাবি। বাসায় একলা থাকেন, আপনি ডরাইলে পোলাডা আরো ভয় পাইয়া যাইবো।
কাপড় নাড়া শেষ করে এবার বের হয় জমিলা।
-ভাবি, দরজা লাগাইয়া দ্যান, আমি যাইতাছি।
দ্রুত পায়ে সিঁড়ি দিয়ে নামে জমিলা। এ ফ্ল্যাটের দোতলাতেই এবারের গন্তব্য তার। সাবিনা খালার বাসায় মানুষ বেশি, তবে বাসায় থাকে না কেউ। খালু আর দুই ছেলে সকালেই অফিসে চলে যায়, বড় ভাবিও চাকরি করে, সে-ও ছুটির দিন ছাড়া বাসায় থাকে না। ছোট ছেলের বিয়ে হয়নি এখনো। বাসায় সাবিনা খালা একাই থাকেন। জমিলা বেল বাজায়।
খালা মনে হচ্ছে দরজার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন! বেল বাজার সঙ্গে সঙ্গেই খুলে দিলেন দরজা অথচ অন্যদিন বারকয়েক বাজাতে হয় বেল। খালার কোমরে ব্যথা, উঠতে-বসতে খুব কষ্ট, তাই দরজা খুলতেও সময় লাগে তার। এ বাসায় অন্যান্য কাজের পাশাপাশি রান্নাও করতে হয় জমিলার। দরজা খুলেই সাবিনা খালা বাহু ধরে টান মারলেন জমিলার। এসে দ্যাখ কী এটা!
-এইডা তো একডা পুতুলের হাত…
-আমি ভয়ে ধরতে পারিনি।
-সকালে সবাই বের হয়ে যাওয়ার আগেও এটা ছিল না। হঠাৎ এটা কোত্থেকে এলো।
-বুঝতাছি না তো, খালাম্মা।
-আমাদের ঘরে তো কোনো বাচ্চা নেই, খেলনাও নেই। তা-ও আবার পুতুলের একটা হাত, আজব!
-খালাম্মা, ভয় পাইয়েন না। আমি ময়লার ঝুড়িতে ফালাইয়া দিতাছি, ময়লার লগে নিয়া যামুনে।
জমিলা কাজে মনোযোগ দেয়। এ বাসার কাজ শেষ করতে করতেই আসরের আজান পড়ে যায়। প্রথমেই ফ্রিজ থেকে খালাম্মার আদেশমতো মলা মাছ আর মুরগির মাংস নামিয়ে পানিতে চুবিয়ে রাখে সে। বড় ভাবির পেটে বাচ্চা আসার পর ভাবির খাওয়া-দাওয়া বাড়াতে হয়েছে; তাই রান্নার পদও আড়াই মাস ধরে বেড়ে গেছে এ বাসায়। জমিলা বাথরুমে কাপড় ভিজিয়ে রাখে। খালাম্মার থমথমে মুখের দিকে তাকানোই যাচ্ছে না; অন্যদিন তিনি কথার ঝাঁপি খুলে বসেন। দিনের সব কথা তিনি জমিলার জন্যই জমিয়ে রাখেন। বাসার সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। তার মনের গোপন সুখ-দুঃখ, মান-অভিমান শোনার মতো মানুষ জমিলা ছাড়া দ্বিতীয় কেউ নেই।
জমিলাও খালাম্মাকে সমীহ করে; বলা যায় ভালোও বাসে। তাই প্রতিদিনের কাজের হিসাবের বাইরে সে খালাম্মার মাথায় নারকেল তেল লাগিয়ে দেয়, মাথাটা আলতো হাতে টিপে দেয়, বাতের ব্যথা বাড়লে কোমরে মলম মালিশ করে।
বয়সকালে খালাম্মা বোধ হয় নায়িকা শাবানার চাইতেও সুন্দরী ছিলেন! এখনো তার দুধসাদা ত্বকের পেলবতা আজকালকার মেয়েদেরও হার মানিয়ে দেবে। সেই মায়াবী মুখে আজ ঘোর অমাবস্যা।
জমিলা ঘর মুছে সবজি কাটতে কাটতে ভাবতে থাকে এসব। পেছন থেকে যে খালাম্মা এসে দাঁড়িয়েছেন খেয়াল করেনি তা।
-জমিলা, খুব ভয় লাগছে আমার।
-খালাম্মা, কিচ্ছু হইবো না। আপনেরে কইছিলাম ভাবির পোলাপান হইবো; হুজুরের থেইকা বাসাটা বন্ধ করোনের তদবির আইনা দিই। আপ্নে তো হুনলেন না। তিন মাস হওনের আগেই বন্ধ দেওনের দরকার আছিল।
-কত টাকার কথা যেন বলছিলি?
-দুই হাজার ট্যাকা। আপ্নেরা এত্ত ট্যাকা খরচ কইরতে পারেন, অথচ এই কয়ডা ট্যাকার লাইগ্যা ভাবতাছেন। আলামতডা ভালা না খালাম্মা।
-আরে, ছেলে-বউকে বলার পর ওরা উপহাস করে। কেউ এসব বিশ্বাস করে না। উল্টো বকতে থাকে আমাকে।
-খালাম্মা, আপ্নের কি ট্যাকার অভাব? তাগো কওন লাগবো ক্যান? আপ্নে আনাইয়া বাসার একখানে লুকাইয়া রাইখ্যা দিলেই হইবো। এইডা তো ভাবিরে পিন্দন লাগবো না। এহন তারা হাস্তাছে, ফুলডা যদি পইড়া যায় কাইন্দাও কূল পাইবো না।
-জমিলা, ওদের আর এসব বলা যাবে না। তুই এক কাজ করিস, আজই টাকা নিয়ে যা, কাল অবশ্যই নিয়ে আসবি।
-আইচ্ছা, খালাম্মা।
চুলায় রান্না চাপায় জমিলা। রান্না হয়ে গেলে কাজ শেষ হবে তার। মলা মাছের দোপেঁয়াজি, আলু দিয়ে দেশি মুরগির ট্যালটেলে ঝোল, লালশাক, পাতলা ডাল, পাঁচমিশালি সবজি এবং ভাত একেক করে চুলা থেকে নামাতে থাকে জমিলা।
আজ একটু জলদি কাজ শেষ করার চেষ্টা করে সে। হুজুরের কাছে সন্ধ্যার আগে যেতে হবে। তাবিজটা আজ আনতেই হবে। রান্না তরকারিগুলো চিনামাটির বাসনে ঢেলে থরে থরে সাজিয়ে রাখে ডাইনিং টেবিলে।
-খালাম্মা, আমার শ্যাষ, যাইগা।
-দাঁড়া…টাকা নিয়ে যা।
খালাম্মার মুঠোয় কড়কড়ে দুটো এক হাজার টাকার নোট। হাতবদল হয়ে জমিলার হাতে এখন। জমিলা ব্লাউজের ভেতর চালান করে দেয় টাকাটা। নরম তুলতুলে বুকে কাগজের টুকরোগুলোর স্পর্শ লাগে- জমিলা জোরে একটা শ্বাস নেয়। খালাম্মাকে বিদায় দিয়ে এরপর দরজা ঠেলে বের হয়। সিঁড়ি দিয়ে থপথপ করে পা ফেলে নিচে নামতে থাকে। রাস্তায় আসার পর, একটা নিঃশব্দ হাসি ঝরে পড়ে জমিলার ঠোঁটের আগায়; সে হাসিতে শব্দ না থাকায় তা অন্য কারও চোখে না পড়লেও জমিলার মনের ভেতর হাসির চাপা শব্দ তোলপাড় খেলে যায়।
এক মাস আগে তানিয়া ভাবির বাসায় শিং মাছ কাটতে দিয়েছিল জমিলাকে। কোনো কাজে হার না মানা জমিলা একমাত্র শিং মাছকেই ছোটবেলা থেকে সমঝে চলে। এই মাছের ত্রিসীমানায় আসে না জমিলা। সেই মাছ যখন কাটতে দিল তানিয়া ভাবি, জমিলার আত্মা শুকিয়ে গিয়েছিল সেদিন। কাজটা চলে যাওয়ার ভয়ে একপ্রকার চোখ-কান বন্ধ করে, সাপের মতো পিছলে পিছলে যাওয়া মাছগুলোকে কেটেছিল জমিলা। রাতে ভাত খেতে পারেনি। সারাক্ষণ চোখের সামনে ভেসে উঠছিল কালো কালো শিং মাছ! সাপের মতো ফণা তুলে হাজার হাজার শিং মাছ ঘুমের মধ্যে জমিলার পেছন পেছন ধাওয়া করেছিল সেই রাতে। এরপর কেটে গেল ঘুমহীন রাত। সে রাতেই ভেবেছিল আর যেন তানিয়া ভাবি শিং মাছ না আনে, তার একটা বিহিত বের করতে হবে। গতকাল কাজে ঢোকার আগে শাড়ির নিচে লুকিয়ে একটা শুকিয়ে যাওয়া শিং মাছ এনে তানিয়া ভাবির প্রিয় ফুলের টবে ফেলে রেখেছিল। শিং মাছ শুকানোর এই কাজে তাকে সাহায্য করেছে তার সই মরিয়ম। জমিলা জানত তানিয়া ভাবি রোজ ফুলের টবে পানি দেয়; তাই এটা তার চোখে পড়বেই। প্রথম কাজেই সফলতা এলো তার।
দ্বিতীয় কাজ শুরু করেছিল আজ কাজে যাওয়ার পথে। তানিয়া ভাবির চারতলার বাসায় ঢোকার আগে, দোতলায় খালাম্মার দরজার নিচ দিয়ে ঢুকিয়ে দিয়েছিল একটা পুতুলের হাত। মরিয়মের মেয়ের ভাঙা পুতুল ছিল ওটা। জমিলার এই কাজের একমাত্র দোসর মরিয়ম। ওর মেয়েকে আজ প্লাস্টিকের সুন্দর একটা পুতুল কিনে দেবে সে আর মরিয়মের জন্য টকটকে লাল একটা লিপস্টিক। নিজের জন্যও কিনবে- দোকানে দেখে আসা সেই ফুল তোলা জরির পাড়ের হলুদ শাড়ি!
সামনে পয়লা ফাল্গুন। শাড়িটা এত্ত মনে ধরেছে জমিলার! টাকার অভাবে কেনা হয়নি এত দিন। খালাম্মার জন্য তাবিজ আনবে ঠিকই, কিন্তু এর জন্য মাত্র একশ টাকা লাগবে। বাকি উনিশশ টাকা জমিলার নিজের। খালাম্মাকে এতবার তাবিজের কথা বলার পরও তিনি শোনেননি; তাই আজ একটু চালাকি করাই লাগল। জমিলার চোখে হলুদ রঙের একটা শাড়ি ভাসতে থাকে! জমিলা ভাবতে থাকে, আগে হুজুরের কাছে যাবে নাকি শাড়িটা কিনতে দোকানে যাবে। গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে চলে জমিলা…

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়