গ্যালারি কায়া : বাংলাদেশ-ভারতের শিল্পীদের নিয়ে ‘এপিক ১৯৭১’

আগের সংবাদ

স্বস্তির ভোটে আইভীর হ্যাটট্রিক : সব শঙ্কা উড়িয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট, শামীম ওসমানের কেন্দ্রে হেরেছে নৌকা

পরের সংবাদ

শাহ জালাল বিশ্ববিদ্যালয় : আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৬, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

সিলেট অফিস : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীরা জানান, শাবির বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী ছাত্রীহলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে আন্দোলন চলছিল। শনিবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের গোল চত্বরে একটি অ্যাম্বুলেন্স যাওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এ সময় শাবির ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ এবং প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. আলমগীর কবিরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। আন্দোলনে সংহতি জানাতে যাওয়া ১০-১২ জন শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। হামলাকারীদের হাত থেকে তাদের বাঁচাতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন আন্দোলনরত কয়েকজন ছাত্রী। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মৃন্ময় দাস ঝুটনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতা খলিলুর রহমান, আশরাফ কামাল আরিফ, সজিবুর রহমান, রিশান তন্ময়, মাহবুবুর রহমান, সাজ্জাদ হোসেন, শফিউল হক রাব্বি প্রমুখ এ হামলা চালায়।
তবে হামলার কথা ছাত্রলীগ নেতারা অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা খলিলুর রহমান বলেন, রোগীবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সকে পথ করে দিতে গেলে আন্দোলনকারীরা বাধা দেয়। তখন এ নিয়ে একটু হইচই হয়েছে তবে মারামারির ঘটনা ঘটেনি। আর সেখানে ছাত্রলীগের কেউ ছিল না। একই রকম ভাষ্য প্রক্টর ড. আলমগীর কবিরেরও। তিনি বলেন, একটি অ্যাম্বুলেন্সকে পথ করে দিতে সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থী যান। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অ্যাম্বুলেন্স যেতে বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
তবে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থী সাদিয়া বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই অবস্থান করছিলাম। প্রথমে একটা অ্যাম্বুলেন্স এলে আমরা সেটাকে পথ করে দেই, সেটি চলেও যায়। পরবর্তী সময় আরেকটা অ্যাম্বুলেন্স এলে আমরা সেটাকেও পথ করে দেই। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সের পেছন পেছন এসে কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আন্দোলনরতদের মধ্যে ঢুকে পড়ে। এ সময় তারা কয়েকজন ছাত্রীকে ধাক্কা দেয়। একপর্যায়ে আন্দোলনে সংহতি জানাতে আসা ১০-১২ জন ছাত্রকে তারা বেধড়ক মারধর করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং ছাত্র উপদেষ্টার উপস্থিতিতেই এ হামলার ঘটনা ঘটে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষকরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাবির বিষয়ে কথা বলেন এবং দাবি মানার বিষয়ে আশ্বাস দেন। তবে শিক্ষার্থীরা প্রভোস্ট কমিটির এখনই পদত্যাগ ঘোষণা ও ছাত্রলীগের হামলার বিচারের দাবি জানান। এ বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের বলেন, প্রভোস্টের পদত্যাগ এখনই সম্ভব নয়, বিষয়টি একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আর বাকি দাবিগুলোর ব্যাপারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে হলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনাকে কেন্দ্র করে প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মতবিরোধ দেখা দেয়। এরপর শিক্ষার্থীরা হল থেকে বের হয়ে বৃহস্পতিবার রাত ২টা পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আন্দোলন করেন। পরে বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী ছাত্রীহলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে শুক্রবার থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন আন্দোলনরত ছাত্রীরা। এছাড়া শুক্রবার বিকালে প্রভোস্টের রুমে তালা ঝুলিয়েছেন তারা। আর শনিবার বিকাল থেকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে বসে অবস্থান নেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়