সিদ্ধান্ত পরিবর্তন : শতভাগ যাত্রী নিয়ে চলবে গণপরিবহন

আগের সংবাদ

উৎসব-উৎকণ্ঠার ভোট আজ : সবার দৃষ্টি নারায়ণগঞ্জে > আইভী-তৈমূরের লড়াইয়ে বাড়তি মাত্রা শামীম ওসমান

পরের সংবাদ

‘আমার অনুরাগীর সংখ্যা একটু বেশি’

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

নেই শুটিংয়ের হ্যাপা। নেই ব্যস্ততা। করোনায় একপ্রকার ঘরবন্দি সময় কাটছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকারের। এই সময় তিনি চেষ্টা করছেন বাড়িতে কীভাবে আনন্দে থাকা যায়। ব্যাডমিন্টন খেলছেন, বিদেশি ভাষা শিখছেন। সিনেমা নিয়েও চলছে পড়াশোনা। ভারতীয় গণমাধ্যমকে এসবই জানালেন তিনি। সেই সাক্ষাৎকারের চুম্বকাংশ রইল মেলার পাঠকদের জন্য
অতিমারির গৃহবন্দি জীবনকে এত পছন্দ আপনার?
সময়ের সঙ্গে চলতে হবে। এই বাড়িতে থাকা। দাদার সঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলা। সিনেমা নিয়ে পড়াশোনা। সৃষ্টিশীল কাজ করা, নিজের কাজ নিয়ে থাকাই আমার পছন্দের। বন্ধুরা রোজ পার্টি করতে ডাকলে ইচ্ছে করে না আর। সত্যি এখন যদি আমায় বলা হয় আগের জীবনে ফিরতে, বেশ বেগ পেতে হবে।
এত জনপ্রিয় আপনি! লোকে তো পাগল আপনাকে নিয়ে।
আপনি ইনফ্লুয়েন্সর হতে চান?
আমার আইকন হওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। আমি নিজেকে সেই ধারাবাহিকের ‘ইমন’ আর ‘পাখি’ করে রাখতে চাইনি। আমার যা বয়স, তার চেয়ে বেশি বয়সের চরিত্র হয়ে একটানা থাকতে চাইনি। আমি যে তার আগে মডেলিং করেছি, তা তো মানুষ জানতই না। আমি যে নিজেকে সব চরিত্রে ভাঙতে পারি, সব ধরনের পোশাকে যে আমায় মানায়- এ সব আমি নিজেই দেখতে চেয়েছিলাম। তাই আমার ইনস্টাগ্রাম।
কিন্তু হইচইয়ের নতুন ওয়েব সিরিজ ‘উত্তরণ’-এ তো আপনি সেই শাড়ি পরেই…
হ্যাঁ। এখানে বিবাহিত চরিত্র। গৃহবধূ। সবার ভালো চায়। কিন্তু তাই বলে ‘উত্তরণ’ তো আর আমার অভিনয় করা ধারাবাহিক ‘কুসুমদোলা’ নয়। সম্পূর্ণ আলাদা গল্প। রাজদীপের সঙ্গে কাজ করেও ভালো লাগল। নতুন গান প্রকাশ হওয়ার পরে সবার নজর কেড়েছে। আসলে কী জানেন, আমি এই ধারার চরিত্র যেমন করব, তেমন ‘চিনি’র মতো চরিত্রও করব। আমার অভিনয়ের সব ধারায় আমি কেমন? সেটাই তুলে ধরে আমার ইনস্টাগ্রাম। শুনুন, ইনস্টাগ্রাম আমি ফ্লার্ট করার জন্যও করি না। আর দশ জনকে দেখানোর জন্যও করি না। আমি পরিচালকদের জন্য ইনস্টাগ্রাম করি, তারা যাতে চরিত্র নির্বাচনের সময় আমার বৈচিত্র্য মাথায় রাখতে পারেন। আর অতিমারির সময়ে কিছু না করে নিজের জন্য কোনো কাজ করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নিন্দুকেরা বলেন অভিনেতারা যদি ইনস্টাগ্রামেই সময় কাটিয়ে দেন, তাহলে অভিনয় করবেন কখন?
যারা বলছে, তারা জানছে কীভাবে যে আমি ইনস্টাগ্রামে সময় কাটাই? আমি এক দিনের শুট করে সারা মাস চালাই। আর পোস্ট করতে তো তিরিশ সেকেন্ড লাগে। তাছাড়া আমি তো করি না, ওই কাজের জন্য আলাদা লোক আছে। আর মানুষই বা দেখছে কেন? মানুষ বেশি সময় কাটায় ইনস্টাগ্রামে। তাই ফলোয়ারের সংখ্যা এত। নিন্দুকেরা সমালোচনা করবেই। ওসব ভাবতে বসলে কাজ করতে পারব না।
শরীরের যতœ নিচ্ছেন? আপনি পুজোর সময়ে অসম্ভব রোগা হয়ে গিয়েছিলেন…
আমার চোয়ালে একটা সমস্যা হয়েছিল। তখন তরল খাবার ছাড়া অন্য কিছু খেতেই পারতাম না! সে কারণেই রোগা হয়ে গিয়েছিলাম। এখন কিন্তু সম্পূর্ণ ঠিক আছি। সামান্য ওজন বেড়েছে।
ওটিটি প্ল্যাটফর্ম মধুমিতা সরকারকে কাজের জায়গায় সাহায্য করেছে?
অবশ্যই। শুধু আমি কেন? আনকোরা একজন অভিনেতা যদি ওটিটিতে ছোট চরিত্র পায়, তার সেটা করা উচিত। অনেক কাজের সুযোগ এখানে।

আপনার সঙ্গে বড় প্রযোজনা সংস্থা আছে। তাই আপনার
এত কাজের সুযোগ?
আমি ধারাবাহিক দিয়ে শুরু করেছিলাম। সবাই তখন বলত সিনেমা করছিস না কেন? তখন পরিস্থিতি ছিল না। পরে ছবিতে আসি। আজো কিন্তু আমাকে সিনেমার ক্ষেত্রে নবাগতাই বলা হয়। ইন্ডাস্ট্রিতে আমার ১০ বছর হয়ে গিয়েছে। তাও আমি নতুন! বড় প্রযোজনা সংস্থা সঙ্গে আছে, এর হাত ওর হাত আছে, অমুকের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এ সব রটিয়ে কোনো লাভ নেই। তাহলে ১০ বছরে মাত্র তিনটে ছবি হত না। যা কাজ পেয়েছি, তা আমার অভিনয়ের জন্য। পরিচালকরা জানতেন, আমায় দিয়ে হবে। আমি পরিচালকের কথা শুনব। আর হ্যাঁ, আমার অনুরাগীর সংখ্যা একটু বেশি। এগুলোই হয়তো চরিত্র নির্বাচনে কাজে লাগে।
মিমি, নুসরত, শ্রাবন্তী, তনুশ্রী, পায়েল… এভাবে নাম এলে আজো আপনার নাম পরে আসে। খারাপ লাগে?
ওমা! খারাপ লাগবে কেন? আপনি যাদের নাম উল্লেখ করলেন বা অনেকের নাম উল্লেখ করলেন না, তারা অনেক আগে ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছেন। অনেক অভিজ্ঞ। অনেকে আমার চেয়ে ভালো অভিনয়ও করেন। আমাকে দর্শক যতটা সম্মান করেন, ভালোবাসেন- এটা যেমন পাওয়া, তেমনই আমাকেও অনেক ভালো কাজ করতে হবে। রাস্তা লম্বা। আর কোথাও আমার সাফল্য এলে আমি সেটা নিয়ে কোনো দিন হইহই করিনি। অন্য আর কী করা যায় ভেবেছি। কাজ করার সময়ে ভেবেছি ছবি হিট না করলেও আমার কাজ নিয়ে যেন খুব সমালোচনা না হয়। মানে, মধুমিতার জন্যই খারাপ হয়েছে, এমন যে কেউ না বলে। চেষ্টা তো করি…
আপনি এতটাই জনপ্রিয় যে আপনার বিয়ে, বিচ্ছেদ থেকে মৃত্যু সব নিয়ে কথা বলা হয়ে গিয়েছে
কতবার যে নিজের মৃত্যুর খবর পড়েছি! খারাপ লাগে। মা খুব অস্থির হয়ে যেত এক সময়ে ওই সব খবর পড়ে। কিন্তু খারাপের মধ্যে ভালো আছে। ‘ডার্টি পিকচার’ ছবিতে বিদ্যা বালনের চরিত্র খেয়াল করে দেখবেন, ওর সম্পর্কে খারাপ ভালো যা খবর প্রকাশিত হতো, সেটা কেটে চোখের সামনে রাখত। আমিও সে রকমটাই ভাবি। মানে আমার বিয়ে, সম্পর্ক নিয়ে যাই লেখা হোক খবর কাগজ বা ডিজিটাল মাধ্যমে, এতটা জায়গা তো আমায় দেয়া হচ্ছে!
তাহলে মন খারাপ হয় না?
তা কেন? আমি মন খারাপ হলে ১২ ঘণ্টা ঘুমিয়ে পড়তাম আগে। এখন ওই বিষয়টা থেকে বেরিয়ে আসতে পারি। প্রচুর কাজ করি।
:: মেলা ডেস্ক

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়