সিদ্ধান্ত পরিবর্তন : শতভাগ যাত্রী নিয়ে চলবে গণপরিবহন

আগের সংবাদ

উৎসব-উৎকণ্ঠার ভোট আজ : সবার দৃষ্টি নারায়ণগঞ্জে > আইভী-তৈমূরের লড়াইয়ে বাড়তি মাত্রা শামীম ওসমান

পরের সংবাদ

অর্ধশত বছরেও লাঘব হয়নি ১৫ হাজার মানুষের দুর্ভোগ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

মেহেরপুর প্রতিনিধি : স্বাধীনতার ৫০ বছর চলছে। দেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। শুধু আমরাই আধুনিকতার ছোঁয়া পেলাম না। একটি বাঁশের সাঁকোর কাছে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন ৬০ বছরের ভাদু শেখ। তিনি আক্ষেপ করে আরো বলেন, কত জনপ্রনিধি পাল্টাল, অথচ আমাদের একটি ব্রিজের স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে গেল।
মেহেরপুর সদর উপজেলার রাধাকান্তপুর ভৈরব নদীর ওপর ব্রিজ না থাকায় বাঁশের সাঁকোই পারাপার হতে হয় বুড়িপোতা ইউনিয়নের অন্তত ৫ গ্রামের মানুষকে। দেশ স্বাধীনের ৫০ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ওই এলাকার অন্তত ১৫ হাজার মানুষ। তাদের ভরসা একমাত্র বাঁশের সাঁকো। কৃষিপণ্য ও রোগী বহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পারাপারে সাঁকো ভেঙে নদীতে পড়ে আহত হন অনেকে। চিকিৎসার জন্য শহরে আসতে অনেকেই জীবন হারান ব্রিজ না থাকায় বাঁশের সাঁকো ব্যবহারে ব্যবসা বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রæতিতে বারবার মাপজোক হলেও আজো আলোর মুখ দেখেনি ব্রিজ নির্মাণ কাজ। স্থানীয়দের দুর্ভোগের দিন যেন শেষ হবার নয়। তবুও আশায় বুক বেঁধে আছেন তারা। দ্রত ব্রিজ নির্মাণ হলে ভুক্তভোগীদের দুঃখ ঘুচবে এমন প্রত্যাশা জনপ্রতিনিধিদেরও। সংশ্লিষ্ট দপ্তর বলছেন অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকার মানুষের দুর্দশার অবসান হবে।
মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর গ্রামের বুক দিয়ে বয়ে গেছে ভৈরব নদী। আশপাশে ৮ কিলোমিটার নেই কোনো ব্রিজ। চলাচলের জন্য প্রতি বছর চাঁদা তুলে নির্মাণ করা হয় বাঁশের সাঁকো। বছর পার হতে না হতেই বাঁশ পচে নষ্ট হয়ে যায়। প্রতি বছরই সাঁকো নির্মাণে খরচ হয় লক্ষাধিক টাকা। সাঁকো পার হয়ে শহরে যেতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হয়। ভারি যানবাহন চলাচল না করতে পারায় রোগী বহন করতে স্বজনদের পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনা। অনেক দূরের রাস্তা ঘুরে আসতে হয় শহরে। কৃষিপণ্য আনা নেয়ায় কৃষকদের পড়তে হচ্ছে কষ্টে। সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে না পারায় বাজার মূল্য থেকে বঞ্চিত হন ওই পারের কৃষক। পরিবহন খরচ বাড়ে দ্বিগুণ।
স্থানীয় রিকশাচালক মকলেচ জানান, প্রতিদিন ভৈরব নদীর ওপর তৈরি বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাত্রী নিয়ে পারাপার হতে হয়। মনে সব সময় ভায় কাজ করে কখন যেন ভেঙে পড়ি পানিতে। তবুও উপায় না থাকায় এদিক দিয়েই যাতায়াত করি। ডিজিটাল যুগেও বাঁশের সাঁকো এটি একটি বেমানান প্রথা।
স্থানীয় প্রবীণ আকবার আলী জানান, বাঁশের সাঁকো ভেঙে মাঝে মধ্যেই মানুষ আহত হন। কিছুদিন আগেও সাইকেল নিয়ে পার হতে গিয়ে নিফাজ উদ্দীন নামের এক বৃদ্ধ সাইকেলসহ পানিতে পড়ে যায়। স্থানয়রা ছুটে গিয়ে তাকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছি। দ্রুত এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ দেখে যেতে চান তিনি।
রাধাকান্তপুর গ্রামের আমেনা খাতুন জানান, বর্ষার সময় নৌকায় পার হতে হয়। পানি কমে গেলে বাঁশের সাঁকো। জরুরি চিকিৎসা নিতে শহরে গেলে এখানে অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আমাদের দুর্দশা ঘুচাতে সরকারি সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন।
স্কুল শিক্ষক মজিবর রহমান বলেন, ১৯৮৪ আমরা বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়েছি। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরেও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়নি। অনেকটা হারিকেনের নিচে অন্ধকারের মতো। আমাদের সঙ্গে অনেকেই প্রতিশ্রæতি দেন কিন্তু তা কাজে পরিণত হয় না। বর্তমান সরকার উন্নয়নের সরকার, পরিবর্তনের সরকার। আমরা এর পরিবর্তন দেখতে চাই। রাধাকান্তপুর ভৈরব নদীতে একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে দুপারের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।
বুড়িপোতা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজামান বলেন, ইতোমধ্যে জমি জরিপের কাজ সমাপ্ত করেছে এলজিইডি। ঢাকা থেকে একটি টিম এসে আমার সঙ্গে জায়গা পরিদর্শন করেছেন। তাছাড়া জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এ অঞ্চলের মানুষকে কথা দিয়েছেন দ্রত ব্রিজ নির্মাণ করার জন্য। তিনি প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বলেন, ওই এলাকার মানুষের দুর্দশার কথা আমরা জানি। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আমাদের অনেক আগেই এই স্থানে একটি ব্রিজের জন্য বলেছেন। একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। পরিদর্শন শেষ হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে এলাকার মানুষ কাজের বাস্তবায়ন দেখতে পাবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়