জরায়ুমুখের ক্যান্সার সচেতনতা দিবস আজ

আগের সংবাদ

উৎসবমুখর নারায়ণগঞ্জ : প্রচারণায় এগিয়ে আইভী

পরের সংবাদ

কাশিয়ানীতে ভুয়া দলিলে সরকারি সম্পত্তির নামজারি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
আপডেট: জানুয়ারি ৯, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ভুয়া দলিল দেখিয়ে সরকারি (অর্পিত) সম্পত্তি মন্দিরের নামে নামজারি করে দখলের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ভাদুলিয়া রক্ষাচণ্ডী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার লিলি রানী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি।
অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিলি রানী বিশ্বাস উপজেলার ৮৮নং ভাদুলিয়া মৌজার আরএস/বিএস ১/১নং খতিয়ানের ১১৮৯ ও ১৯১২নং দাগের ৯ শতাংশ জমি ১৯৬৯ সালের ১৬২৫নং দলিল মূলে মন্দিরের নামে নামজারি করার জন্য উপজেলা ভূমি অফিসে গত ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই একটি আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এবং সার্ভেয়ার কর্তৃক মনগড়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২০ সালের ২৫ আগস্ট অর্পিত ওই সম্পত্তি মন্দিরের নামে নামজারি সম্পন্ন করেন তৎকালীন সহকারী কমিশনার মিন্টু বিশ্বাস।
কিন্তু আবেদনের সঙ্গে জমা দেয়া প্রত্যায়িত ১৬২৫নং দলিলের অনুলিপি জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে উত্তোলন করা হয়। এতে জমাকৃত একই নম্বরের দলিলের কোনো মিল নেই। দলিলটি ১৩.০৫.৬৯ তারিখে রেজিস্ট্রিকৃত ও পিংগলিয়া মৌজার দলিল। যার দাতা অমল চন্দ্র মজুমদার, গ্রহীতা আয়েন উদ্দীন মোল্যা। জমির পরিমাণ ৩০ শতাংশ। এভাবে উপজেলা ভূমি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি এক শ্রেণির ভূমিদস্যুর দখলে চলে যাচ্ছে।
সরজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে ওই গ্রামের প্রতিবন্ধী আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু লিলি রানী বিশ্বাস ওই প্রতিবন্ধীর বাড়ির প্রবেশ পথ বন্ধ করে সরকারি ওই জমিতে ঘর তুলে দখলে নিয়েছেন। এছাড়া ওই এলাকায় সরকারি জমিতে বিভিন্ন নামে-বেনামে একাধিক মন্দির নির্মাণ করে সরকারি অনুদান প্রাপ্তি ও সরকারি জমি দখল করছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। লিলি রানী বিশ্বাসের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার জানা মতে ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় খাজনা না দেয়ায় জমিটি ভিপি হয়ে যায়। জমিটির ওয়ারিশ আমার পূর্বপুরুষরা। তবে যথাযথ কাগজপত্র জমা দিয়ে জমিটির নামজারি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আপনার মাধ্যমে জানলাম। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়