নৌপুলিশের অভিযান : ৩৫ লাখ মিটার জাল জব্দ

আগের সংবাদ

পঞ্চম দফায়ও সারাদেশে ব্যাপক সহিংসতা > ভোটে ঝরল আরো ১১ প্রাণ : পুলিশের গাড়িতে আগুন, আহত শতাধিক, আটক অর্ধশত

পরের সংবাদ

সেতুর অভাবে ৮ চরের মানুষের দুর্ভোগ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

আব্দুল হামিদ, বাঘা (রাজশাহী) থেকে : বাঘায় একটি সেতুর অভাবে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ৮টি চরের প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে। এসব এলাকার কৃষিপণ্য বাজারজাত, উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ, লেখাপড়াসহ সার্বিক জীবনযাত্রায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মাধ্যমিকের পর লেখাপড়া বন্ধ করে দিতে হয় অনেক শিক্ষার্থীকে। তাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। সেতু না থাকায় সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন স্থানীয়রা। পদ্মার ক্যানেলের উপর একটি সেতু হলে অতি সহজে উপজেলা সদরে যোগাযোগ করতে পারবেন তারা। তাই একটি সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলার পদ্মা নদীর ক্যানেলের উপর শিমুলতলা, চাঁদপুর, খায়েরহাট, হালিম মাস্টারের বাড়ির পাশে ঘাট রয়েছে। এসব ঘাটের যে কোনো একটিতে সেতু নির্মাণ করা হলে ৮টি গ্রামের মানুষ সহজে উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। এখানে চকরাজাপুর, কালীদাসখালী, ল²ীনগর, দাদপুর, উদপুর, ফতেপুর পলাশীসহ ৮টি চর রয়েছে। এই ৮টি চরের মানুষ বর্ষা মৌসুমে নৌকা আর শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো আবার কখনো পায়ে হেঁটে পারাপার হন। নৌকায় পার হতে গিয়ে অনেকেই নিখোঁজ হয়ে মারা গেছেন। চরের মধ্যে ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও কোনো কলেজ নেই। ফলে মাধ্যমিক পাস করার পর যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকার কারণে অনেকেরই লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। যারা লেখাপড়া করে তাদের অনেক কষ্টে উপজেলা সদরে আসতে হয়। এছাড়া পদ্মার চরে উপজেলা সদরের অনেকের জমি রয়েছে। তাদের চাষাবাদে অনেক কষ্ট ভোগ করতে হয়।
বাঘার এসব চর এলাকা সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত। চরগুলোতে বেগুন, পটোল, আলু, করলা, শিম, মুলা, গাজর, টমেটো, বরবটি, মসলা জাতীয় ফসল মরিচ, হলুদ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ফলের মধ্যে আম, বরই, পেয়ারার চাষ হয়। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব কৃষিপণ্য বিক্রি হয়। এই উৎপাদিত কৃষিপণ্য খুব কম দামে নিজ এলাকায় ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করতে হয়। চকরাজাপুরের নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, সেতুর অভাবে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সঠিকভাবে বাজারজাত করতে পারছেন না তারা। সেতু নির্মাণ করা হলে চরের কৃষিপণ্য সহজে বাজারজাতের পাশাপাশি নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।
চকরাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম শেখ বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সহযোগিতায় চরে বিদ্যুৎ, পাকা রাস্তা, স্কুলের ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। একটি সেতুর জন্য আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি এটি পাস হয়ে আসবে।
বাঘা উপজেলা প্রকৌশলী রতন কুমার ফৌজদার বলেন, খায়েরহাট হালিম মাস্টারের বাড়ির পাশের ঘাটে ৬০০ মিটার সেতুর জন্য কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই অনুমোদন পাওয়া যাবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়