নৌপুলিশের অভিযান : ৩৫ লাখ মিটার জাল জব্দ

আগের সংবাদ

পঞ্চম দফায়ও সারাদেশে ব্যাপক সহিংসতা > ভোটে ঝরল আরো ১১ প্রাণ : পুলিশের গাড়িতে আগুন, আহত শতাধিক, আটক অর্ধশত

পরের সংবাদ

নদী খননের মাটি বেচে দিচ্ছেন আ.লীগ নেতারা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁয় তুলশীগঙ্গা নদী খননের পর তীরে মজুত করা মাটি কেটে বিক্রি করছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতারা। ট্রাক্টর দিয়ে মাটি কেটে প্রতিদিন শত শত ট্রাকের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাটা এবং নিচু জায়গা উঁচু করার কাজে এই মাটিগুলো মানুষের কাছে প্রতি গাড়ি মাটি ৫০০-৬০০ টাকা করে বিক্রি করছেন স্থানীয় ইউপি আ.লীগের নেতারা। অপরদিকে সরকারের কোটি টাকার মাটি হরিলুট হওয়ার বিষয়ে কোনো কিছুই জানা নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের। এই মাটি কাটার দৃশ্য সদর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের ইলশাবাড়ি নামক স্থানের তুলশীগঙ্গা নদীর তীরের। গত বছর তুলশীগঙ্গা নদী খনন করার পর সেই মাটিগুলো নদীর দুই তীরের জমির ওপর মজুত রাখা হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রভাব খাটিয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই মাটিগুলো মসজিদ, মন্দির ও মাদ্রাসার কাজে ব্যবহারের নাম করে বিক্রি করে আসছে। ইতোমধ্যেই ওই এলাকার অন্যান্য স্থানে মজুত করা মাটিগুলোও বিক্রি করা প্রায় শেষের দিকে। অথচ এই মাটি সংরক্ষণের জন্য একটি কমিটিও রয়েছে। গত বছর অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে উপজেলা প্রশাসন একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে। তবুও থেমে নেই অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজ। কয়েকদিন ধরে তুলশীগঙ্গা নদীর ইলশাবাড়ি নামক স্থান থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নাম করে দেদার মজুত করা মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। সরজমিন সেখানে গিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম রুবেল ইউনিয়ন আ.লীগের নেতাদের বিভিন্ন মানুষের জমির ওপর রাখা মাটিগুলো কিনে নিয়ে বিক্রি করার অনুমতি দিয়েছেন। আর তার অনুমতিতেই নেতারা এই মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটা ও মানুষের কাছে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অপরদিকে ফসল নষ্ট করে মাঠের মধ্য দিয়ে মাটি বহন করার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। আর অপরিকল্পিতভাবে টাক্টরে করে বিভিন্ন সড়ক দিয়ে মাটি বহন করার সময় পাকা সড়কগুলোর ওপর মাটি পড়ে চলাচলের সময় দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়তই। বিশেষ করে একটু বৃষ্টি হলে পাকা সড়কের ওপর পড়ে থাকা মাটিতে কাদা সৃষ্টি হয়ে মোটরসাইকেলসহ সব প্রকারের যানবাহন উল্টে ঘটতে পারে বড় বড় দুর্ঘটনার। সেদিকেও নজর নেই কারো। এ বিষয়ে চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম রুবেল ফোনে জানান, ইউনিয়ন আ.লীগের নেতাদের জমির মালিকের কাছ থেকে মাটি কিনে বিক্রি করার অনুমতি দিয়েছি। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেই এই মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। কিছু মাটি মসজিদ, মন্দির ও মাদ্রাসার কাজে আর কিছু মাটি ইটভাটায় বিক্রি করার পরামর্শ দিয়েছি। এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা ইমাম উদ্দিনের মোবাইলে একাধিকবার ফোনে দিলেও কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফউজ্জামান বলেন, নদী খনন করার পর মজুত করে রাখা মাটির মালিক একমাত্র সরকার। এই মাটি কেউ নিতে চাইলে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদনের মাধ্যমে শুধু মসজিদ, মন্দির কিংবা মাদ্রাসার মতো প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকল্পে কিছু পরিমাণ মাটি ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু কেউ মাটি কেটে বিক্রি করার ক্ষমতা রাখে না। আমি এই মাটি কাটার বিষয়ে কোনো কিছুই জানি না। কেউ আমাকে লিখিতভাবে আবেদনও দেননি এবং কেউ বিষয়টি জানায়নি। আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়