পরিকল্পনামন্ত্রী : দেশে রাজনীতিবিদের চেয়ে আমলাতন্ত্রের দাপট বেশি

আগের সংবাদ

শ্যামল দত্ত’র প্রত্যয় : চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যাবে ভোরের কাগজ

পরের সংবাদ

সংবাদ সম্মেলনে আসক : মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরমতম বছর ২০২১

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : মানবাধিকার ইস্যুতে মানুষের সহ্য ক্ষমতা অতিক্রম করেছে। বর্তমান অবস্থাকে বর্বরতার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। সব মিলিয়ে ২০২১ সালকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরমতম বছর বলা যায়। এ পরিস্থিতি থেকে উন্নতি ঘটাতে মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করা যেতে পারে। যারা গত এক যুগের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তদন্ত করে দেখবে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী কমিটির মহাসচিব নূর খান লিটন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গত ৫ বছরের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিবেচনায় এ মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে ২০২১ সালের বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আসকের পরিচালক নীনা গোস্বামী, নির্বাহী পরিচালক গোলাম মনোয়ার কামাল, জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির, সহকারী সমন্বয়কারী অনির্বান সাহা প্রমুখ। মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নতির জন্য সংবাদ সম্মেলনে আসকের পক্ষ থেকে ১২টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
আসকের তথ্যানুসারে, ২০২১ সালে সারাদেশে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১ হাজার ৩২১ নারী। এর মধ্যে ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন ৪৭ জন এবং ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ৯ জন। যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছেন ১২৮ জন নারী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ৭৭ জন পুরুষ। উত্ত্যক্তকরণে আত্মহত্যা করেছেন ১২ নারী। যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে ৩ নারী ও ৫ পুরুষসহ খুন হয়েছেন মোট ৮ জন। পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৬৪০ নারী। যার মধ্যে নির্যাতনের কারণে মারা গিয়েছেন ৩৭২ জন ও আত্মহত্যা করেছেন ১৪২ জন। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২১০ নারী। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যার শিকার হন ৭২ নারী ও আত্মহত্যা করেন ১৩ নারী। সালিশ ও ফতোয়ার মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১২ নারী।
এদিকে শারীরিক নির্যাতনের কারণে মৃত্যু, ধর্ষণের পরে হত্যা, ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা, অপহরণ ও নিখোঁজের পর হত্যাসহ বিভিন্ন কারণে নিহত হয়েছে মোট ৫৯৬ শিশু। বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১ হাজার ৪২৬ শিশু। ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭৭৪ শিশু, যৌন হয়রানির শিকার হয় ১৮৫ শিশু, বলাৎকারের শিকার হয়েছে ৭৮ শিশু।
আসক জানায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে বিরোধী দলের এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ ২০২১ সালে মোট ৯৩২টি রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছে মোট ১৫৭ জন, আহত হয়েছে ১০ হাজার ৮৩৩ জন। ২০২১ সালে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৬৭২টি সংঘাতের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৭২ জন, আহত হয়েছের ৭ হাজার ২০১ জন। এছাড়া পৌর ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে ৮৩টি ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ৭৮৮ জন আহত হয়েছেন। ১৪৪ ধারা জারির ঘটনা ঘটেছে ২০ বার। আসকের তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ২০৪টি প্রতিমা, পূজামণ্ডপ, মন্দির ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৮৪টি বাড়িঘর ও ৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
সাম্প্রদায়িক হামলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ৩ জন নিহত এবং কমপক্ষে ৩০০ জন আহত হয়েছেন। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বছরটিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে কমপক্ষে ১১৩৪টি। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২১০ জন সাংবাদিক। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে ১৬ জনসহ মোট ১৮ বাংলাদেশি সীমান্ত হত্যার শিকার হয়েছেন। গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ২৮ জন। অপহরণ, গুম ও নিখোঁজের শিকার হয়েছেন ৭ জন। তাদের একজনের খোঁজ মেলেনি। বিচার-বহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন ৮০ জন। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নিহত হয়েছেন ৮ জন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়