ভিসি এয়ার মার্শাল নজরুল : ওবিই হচ্ছে জ্ঞানগর্ভ ও চিন্তা উদ্দীপক কর্মশালা

আগের সংবাদ

টানা ৪ জয়ে সেমিতে পাকিস্তান

পরের সংবাদ

জাপানে জনগণের রায় : প্রধানমন্ত্রিত্ব পেলেন ফুমিও কিশিদা

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ ডেস্ক : গত মাসের শুরুর দিকে ইয়োশিহিদে সুগার জায়গায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন ফুমিও কিশিদা। দায়িত্ব পাওয়ার পর পরই নির্বাচনের ডাক দেন কিশিদা। গতকাল সোমবার দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ের লক্ষ্যে ভোট দিলেন জাপানের সাধারণ মানুষ। শাসক দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিই (এলডিপি) ফের জাপানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখতে পারবে কিনা, সেটাই ছিল বড় প্রশ্ন। আশঙ্কা করা হচ্ছিল, কিশিদার দল এই নির্বাচনে হারলে জাপানে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হবে। তবে দিনের শেষে ভোট গণনা করে দেখা গেল, কিছু সংখ্যক আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখতে পেরেছে কিশিদার দল। খবর আনন্দবাজার।
২০২০ সালে শিনজো আবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে আসার পর থেকেই শুরু হওয়া রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনো চলছে জাপানে। তার জায়গায় প্রধানমন্ত্রী হন ইয়োশিহিদে সুগা। কিন্তু পূর্বসূরি আবের মতো জনপ্রিয় ছিলেন না সুগা। ফলে বছর খানেকের মধ্যেই তাকে সরিয়ে কিশিদাকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসায় তার দল। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি তেমন। উল্টো করোনা অতিমারি সামলাতে এই নতুন প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত ব্যর্থ বলে অভিযোগ ওঠে দেশজুড়ে। ৬৪ বছরের কিশিদা অতিমারিতে বিপর্যস্ত দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলারের প্যাকেজ ঘোষণা করেন। তবে তাতেও দেশের সাধারণ মানুষ খুব একটা সন্তুষ্ট ছিলেন না। জনমত সমীক্ষায় প্রতিবারই উঠে আসছিল এলডিপির জনপ্রিয়তা হারানোর ছবি।
এলডিপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে না, গত রবিবার প্রাথমিক বুথ ফেরত জরিপে এমন ধারণা পাওয়া যায়। এমনটি হলে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে জোট সঙ্গী ক্ষুদ্র অংশীদার কোমেইতো পার্টির ওপর নির্ভর করতে হতো ক্ষমতাসীন দলটিকে। কিন্তু শেষপর্যন্ত এলডিপি ২৬১ আসনে জয় পায়। আগের ২৭৬টি থেকে এবার আসন সংখ্যা কিছুটা কমলেও তাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় আছে। এতে সহজেই পার্লামেন্ট কমিটিগুলোর নিয়ন্ত্রণ, গুরুত্বপূর্ণ বাজেট প্রস্তাবসহ বিভিন্ন প্রস্তাব পাস করতে পারবে তারা।
গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী কিশিদা জানান, নির্বাচনের এ জয়কে গুরুত্বপূর্ণ নীতি বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যবহার করবেন তিনি। এর মধ্যে মহামারিজনিত ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অতিরিক্ত বাজেট পাসের বিষয়টিও থাকবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, নির্বাচনের এ ফলাফলে মাত্র একমাস আগে ক্ষমতায় আসা ও নীতি সাফল্যের বিবেচনায় এখনো তেমন কিছু দেখাতে না পারা কিশিদাকে সাহসী করে তুলতে পারে। আগামী বছর পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন বিষয়ে নিজের ছাপ রাখতে পারবেন তিনি। স্বল্পভাষী সাবেক ব্যাংকার কিশিদা আরো দৃঢ় মনোভাবসম্পন্ন চীনের মোকাবিলায় সামরিক ব্যয় বাড়াতে চাইছেন। এলডিপি জয় পেলেও দলটির মহাসচিব আকিরা আমারিসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা নির্বাচনে হেরে গেছেন।
এটি দলটির জন্য কিছুটা বিপর্যয় বয়ে এনেছে। এবার এলডিপির জোট সঙ্গী কোমেইতোর আসন সংখ্যা বেড়েছে। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে তাদের আসন ২৯ থেকে বাড়িয়ে ৩২টিতে উন্নীত করতে পেরেছে তারা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়