টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সফল পাঁচ অধিনায়ক : তাইফ রহমান রাফি

আগের সংবাদ

সড়কে নেই ‘ডিজিটাল’ ছোঁয়া

পরের সংবাদ

সুপার টুয়েলভ মিশনে আজ লঙ্কা বধে মরিয়া টাইগাররা

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৪, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের বাধা টপকে আজ সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিকাল ৪টায় শুরু হবে ম্যাচটি। বাংলাদেশ সুপার টুয়েলভে তাদের মিশন শুরু করতে চায় জয় দিয়ে। বিশ্বকাপের মূল পর্বে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচে জয় পেয়েছে। সেটিও ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এরপর বারবার খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। কিন্তু এবার ভালো কিছু করার প্রত্যাশা টাইগারদের। বাংলাদেশের মতো শ্রীলঙ্কাও বাছাইপর্ব খেলে সুপার টুুয়েলভে এসেছে।
যদিও তারা বাছাইপর্বে নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে তবেই মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। অপরদিকে, বাংলাদেশ বাছাইপর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে যায়। কিন্তু শেষ দুটি ম্যাচে ওমান ও পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে দাপুটে জয় নিয়ে তবেই এসেছে মূল পর্বে।
এই ম্যাচের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো মুখোমুখি হবে টাইগাররা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবার টাইগাররা লঙ্কানদের মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৭ সালের প্রথম আসরে। সেবার দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে পাঁচ উইকেটে ১৪৭ রান করে শ্রীলঙ্কা। জবাবে বাংলাদেশ ১৫ ওভার ৫ বল খেলে মাত্র ৮৩ রানেই গুটিয়ে যায়।
কিন্তু সে সময় এখন বদলে গেছে। সে সময়কার দুর্বল বাংলাদেশ এখন টি-টোয়েন্টিতে এখন বড় দলগুলোর সঙ্গে টেক্কা দিচ্ছে। বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয় করেছে।
তাছাড়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের খেলা শেষ দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও জয় পেয়েছে টাইগাররা। ২০১৮ সালে নিদাহাস ট্রফির ম্যাচে লঙ্কানদের বিপক্ষে দুটি ম্যাচে মুখোমুখি হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সেই দুটি ম্যাচেই টাইগাররা তুলে নিয়েছিল দুর্দান্ত জয়। ফলে শ্রীলঙ্কা বাছাইপর্বে যতই দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নিক না কেন এটি বাংলাদেশের বিপক্ষে খুব বেশি কাজে দেবে না। সব মিলিয়ে বলা যায় বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচটি হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মোট ১১টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে জয় পেয়েছে চারটি ম্যাচে। হেরেছে বাকি সাতটি ম্যাচে। বাংলাদেশের বিপক্ষে আজকের ম্যাচটিতে খেলবেন না শ্রীলঙ্কার রহস্য স্পিনার মাহিস থিকশানা। বাছাইপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বল করার সময় ইনজুরিতে পড়েন তিনি। যদিও তার ইনজুরিটা গুরুতর না কিন্তু সাবধানতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটিতে তাকে বিশ্রাম দেয়া হবে বলে শোনা যাচ্ছে। সুপার টুয়েলভে শ্রীলঙ্কার আরো বাকি যে চারটি ম্যাচ আছে সে ম্যাচগুলোতে তিনি খেলবেন। থিকশানা না থাকায় এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বাড়তি পাওনা।
এদিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। তিনি গতকাল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন সুপার টুয়েলভের ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশের দুই তরুণ তুর্কি আফিফ হোসেন ও নুরুল হাসান সোহান ভালো করবেন। এ ব্যাপারে ডমিঙ্গো বলেন, ‘আমি মনে করি, আফিফ ও সোহান সত্যিকার অর্থেই এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের ভালো খেলোয়াড় হয়ে উঠবে। সোহান আমাদের সত্যিকারের একজন বিগ হিটার, ইনিংসের শেষ দিকে রান এনে দিতে পারে। আফিফ সেদিন ১৩ বলে ২০ রান করল। সে ভালো করছে। আশা করছি, সুপার টুয়েলভে জ্বলে উঠতে পারবে।’
সঙ্গে যোগ করেন ডমিঙ্গো, ‘তারা আমাদের বড় খেলোয়াড়। সোহানের কিপিং অনবদ্য। সে স্টাম্পের পেছনে ১০-১২ রান আটকে দিচ্ছে। এই ম্যাচগুলোতে তেমন পার্থক্য দেখা যায়নি। আমি তাদের দুজনের পারফরম্যান্সেই খুশি। হয়তো বড় রান আসছে না, তবে তারা দলে অসীম মূল্য যোগ করেছে।’
প্রথম পর্বের বাধা পেরিয়ে সুপার টুয়েলভে জায়গা করে নিলেও দলে উন্নতির সুযোগ দেখছেন ডমিঙ্গো, ‘প্রত্যেক বিভাগে উন্নতির সুযোগ আছে। আমরা ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে পারছি না। তবে বোলিং নিয়ে আমরা খুশি। মাঠে আমরা ভালোই পারফর্ম করছি।’
এদিকে বাংলাদেশ বাছাইপর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হারার পর খেলোয়াড়দের নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। এমনকি বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও খেলোয়াড়দের সমালোচনা করেন। পরবর্তী সময়ে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এর জবাব দিয়েছিলেন। তবে এসব সমালোচনা নিয়ে এখন ভাবছেন না প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। তিনি গতকাল সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এখন তাদের নজর হলো ম্যাচের দিকে। মাঠের বাইরের সমালোচনা বা বিষয়ে তাদের কোনো নজর নেই। এ ব্যপারে শারজায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের আগে ডমিঙ্গো বলেছেন, ‘আমি শুধু ক্রিকেটের দিকেই নজর দিতে চাই। দলের বাইরে কী বলা হলো, সেটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করার সুযোগ নেই। কালকের ম্যাচে খেলোয়াড়রা কীভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে পারে, সেটার দিকেই নজর দিচ্ছি আমরা।’
এসব সমালোচনাকে স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছেন তিনি, ‘বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো ক্রিকেট-পাগল দেশের হয়ে খেললে, পারফরম্যান্স বাজে হওয়ার পর সমালোচনা হবেই। আর সমালোচনা তো আন্তর্জাতিক যে কোনো খেলারই অংশ।’
খেলোয়াড়দের এসব সমালোচনা থেকে দূরে রাখতে নিজেদের দায়িত্বের কথাও বলেছেন ডমিঙ্গো, ‘কোচিংয়ের দায়িত্বে থাকলে খেলোয়াড়দের নজরটা মাঠের দিকে রাখাটা কাজেরই অংশ।
অন্যদিকে কী হচ্ছে, সেসব নিয়ে কী লেখা বা বলা হচ্ছে এসব নিয়ে কিছু করার নেই। আমাদের নজর এখন নিজেদের পারফরম্যান্সের দিকে, সেদিকে আমরা কতটা নজর দিচ্ছি, নিজেদের মূল্যায়ন কেমন, কোথায় উন্নতি করতে হবে। এর বাইরের জিনিস নিয়ে চিন্তা করলে আমাদের নজর সরে যাবে।’

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়