টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সফল পাঁচ অধিনায়ক : তাইফ রহমান রাফি

আগের সংবাদ

সড়কে নেই ‘ডিজিটাল’ ছোঁয়া

পরের সংবাদ

চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা : চালকের সহকারী শাহীরুল এখন কোটিপতি

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৪, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : রাজধানীর রামপুরা থানাধীন বনশ্রী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতকাল শনিবার সকালে শাহীরুল ইসলাম সিকদার (৪৮) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪ এর একটি দল। জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত শাহীরুল ইসলাম সিকদার একজন শীর্ষ প্রতারক। কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান একটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এন্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিচয়ে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা করে আসছিলেন তিনি। শাহীরুল ভুুক্তভোগীদের ভয় দেখাতে নিজের কাছে রাখতেন ডামি পিস্তল।
গতকাল বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, সম্প্রতি সোলায়মান হোসেনসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী প্রতারক শাহীরুল ইসলাম সিকদারের বিরুদ্ধে র‌্যাব-৪ এর কাছে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণার বিষয়ে অভিযোগ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাবের একটি গোয়েন্দা দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে সত্যতা মেলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোজাম্মেল হক বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক পাস শাহীরুলের কর্মজীবন শুরু হয় বাসচালকের সহকারী হিসেবে। এরপর ২০০৩ সালে শুরু করেন সিকিউরিটি গার্ড সরবরাহ। ধীরে ধীরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে শুরু হয় তার প্রতারণা। একপর্যায়ে সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেডের পরিবর্তে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে একটি বেনামি মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দেয়া শুরু করেন। ক্ষমতাধর প্রমাণ করতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে সেগুলো দেখাতেন, রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতেন বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেকার ও শিক্ষিত বহু নারী ও পুরুষকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি গার্ড, ড্রাইভার, কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী, বিক্রয় কর্মকর্তা, লাইনম্যান হিসেবে চাকরি দেয়ার নামে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। র‌্যাব কর্মকর্তা আরো বলেন, প্রতারক শাহীরুল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির নামে চটকাদার বিজ্ঞাপন দিতেন। এতে আকৃষ্ট হয়ে আবেদন করতেন শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীরা। আবেদন করার পর তাদের কৌশলে তার কোম্পানির মাধ্যমে নিয়োগের প্রতিশ্রæতি দিয়ে ১৫-২৫ হাজার টাকা জামানত হিসেবে নিতেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রে নিতেন ৫-১০ লাখ টাকা। তিনি জানান, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ভুয়া পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করার অপরাধে শাহীরুলের নামে ডিএমপির রামপুরা থানায় মামলাও রয়েছে। অভিযান পরিচালনাকালে তার কাছ থেকে তিনটি ডামি পিস্তল পাওয়া যায়। ভয়ভীতি দেখাতে এসব ব্যবহার করতে তিনি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়